এলজিইডি’র টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের হাজিরা সিটে নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়ায়, তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭জুলাই) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দুদক কর্মকর্তারা প্রকল্পে নয় ছয়ের ঘটনার সত্যতা পায়।
আরও জানা যায়, উত্তর ভদ্রাবতী প্রকল্পের ৮, ১১,১২,১৬ ও ১৯নং গ্রুপের জন্তিপুর গ্রামের ১১৪ সদস্য ওই খাল খনন প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানে না। এর মধ্যে আবার ৬ থেকে ১১ বছর আগেই মারা গেছে এমন সদস্যের সাক্ষর জাল করে তার পারিশ্রামিক ২৬ হাজার ৬শ দুই টাকা করে ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৬শ ২৮ টাকা তুলে নেওয়ার এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে দুদক আঞ্চলিক অফিস (পাবনা) কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র জানান, এলজিইডি’র টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের হাজিরা সিটে নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়ায়, তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রাথমিক ভাবে আমরা প্রকল্পে নয় ছয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়ে পরবর্তী কার্যক্রম করার জন্য উর্দ্ধতন অফিসে প্রক্রিয়া চলমান আছে।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ এলজিইডি’র আওতায় সাড়ে ২৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজে গত (১৮জুন) রোববার ২০২৩ হাজিরা সিটে মৃত্যু ব্যক্তির নামে হাজিরা স্বাক্ষর দেখা যায়। আরো দেখা যায়, প্রকল্প সময়ে তারা ১৩ দিন কাজ করেছেন এবং স্বাক্ষর দিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তিই ২৬ হাজার ৬শ দুই টাকা উত্তোলন করারর অভিযোগ পাওয়া যায়।
আরো জানা যায়, এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এলজিইডি, ভূগর্ভস্থ পানির উপড় চাপ হ্রাস করে ভূগর্ভস্থ পানি সেচ এর আওতায় তাড়াশ উপজেলার বারুহাস দক্ষিণ ভদ্রাবতী ও তালম ইউনিয়নের উত্তর ভদ্রবতী উপ-প্রকল্পের খাল পুনঃখনন কাজে বারুহাস ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ী জামে মসজিদ থেকে তালম ইউনিয়নের রানীরহাট ব্রিজ পর্যন্ত কাজে ৩০ শতাংশ লেবার দিয়ে এবং বেকো দিয়ে ৭০শতাংশ কাজ শেষ করার কথা জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, খাল দুটির পুনঃখনন কাজ স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ সমবায় অধিদপ্তরের পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যদের নিয়ে ৪৪টি এলসিএস গ্রুপের ১১’শ সদস্যের মাধ্যেমে খাল পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রত্যেক গ্রুপে প্রায় ৯ লক্ষ ৪৬হাজার টাকা যার খাল খনন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে উত্তর ভদ্রাবতী প্রকল্পের ১২ নং এলসিএস গ্রুপের ২০ নং সদস্য মৃত কাজেমের ছেলে আশরাফুল আলী জানান, আমার পিতা মারা গেছে ২০১২ সালে । ওরা আমার মৃত বাবার নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে টাকা তুলছে। হাজিরা সিটে আমার নাম ও স্বাক্ষর, টাকাও নিয়েছে দেখছি। আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি এ রকম কাজ যে করেছে তাদের বিচার চাই।
১২ নং গ্রুপের ৫ নং সদস্য মৃত মজনুর ছোট ভাই আমিরুল জানায়, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমার ভাইয়ের নামে খাল খনন প্রকল্পে টাকা তুলেছে অথচ আমার ভাই ৫ বছর আগেই মারা গেছে। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে সমবায় সমিতির উত্তর ভদ্রবতী জন্তিপুর গ্রামের সদস্যরা জানান, খাল খনন হচ্ছে আমরা দেখছি, আমরা এ কাজে সম্পৃক্ত নই। এ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। এ অপকর্মের সঙ্গে জরিত ব্যক্তিদের শাস্তি চান।




















