কলাপাড়া পৌর শহরের জিন খালটি দুর্বৃত্তদের দখলের ফলে গভীরতা ও প্রশস্ততা হারিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালটি দখলের কবলে অতি-অল্প বৃষ্টিতেই পৌর শহরে সৃষ্টি হচ্ছে জলবদ্ধতা। এরফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছে পৌর শহর ও শহর সংলগ্ন টিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। অথচ জনবহুল এ খালটি দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশনে তেমন কোন উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে কলাপাড়া পৌরশহরের চিংগড়িয়া ও টিয়াখালী এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনসাধারণের ভোগান্তি এখন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। এসমস্ত এলাকার সড়ক, বাড়ি, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দূর্বিসহ মানবেতর জীবনযাপনসহ অনেকের ঘরের রান্না বন্ধ রয়েছে। গরু, ছাগল, হাঁস মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু পরিবার। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ১ ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। কিন্তু জিনখালের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ দেয়ার কারনে টিয়াখালী ও চিংগড়িয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে বহু জমি অনাবাদি রয়েছে। এসব জায়গায় কোন ধরনের ফসল চাষ করতে পারছেনা কৃষকরা।
টিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক জলিল প্যাদা জানান, জিন খালের বিভিন্ন পয়েন্ট বাঁধ দিয়ে মাছচাষ এবং খালের দুইপাড়ে বাড়িঘর করে খাল দখলের কারনে ১০/১২ বছর পর্যন্ত তারা বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মোস্তফা হাওলাদার নামের টিয়াখালীর আরেক কৃষক জানায়, অবৈধ বাঁধ ও খালের মধ্যে বাড়ি ঘর করার কারনে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খালের জোয়ার ভাটাসহ স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সচল করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কৌশিক আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ও সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















