গত বুধবার চাচা মারা যাওয়ায় খাদিজা বেগমের (২৩) সাথে শেষ কথা হয় ভাই ইমান আলীর। বাড়ি যাবে না বলে ইমান আলীকে জানান খাদিজা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কোন প্রকার যোগাযোগ না হওয়ায় ভাগ্নে আকাশকে টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়া বটতলা এলাকার খাদিজা বেগমের ভাড়া করা বাসায় পাঠান। সেখানে খাদিজার কক্ষ ও কেচিগেট তালাবদ্ধ দেখে বিষয়টি বাড়ির মালিক হেলাল মিয়াকে অবগত করেন। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫ টায় হেলাল মিয়ার উপস্থিতিতে আকাশ মিয়া তালা ভেঙে বিছানায় খাদিজার লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
নিহত খাদিজা কালিহাতী উপজেলার দুূর্গাপুরের নুরুল হকের মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানায় ইমান আলী বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী রাশেদুল ইসলাম ও বান্ধবী নিপা পলাতক রয়েছে।
তিন দিন অতিবাহিত হলেও এ মামলার আসামীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
ইমাম আলী জানান, পাঁচ বছর আগে খাদিজাকে সদর উপজেলার ব্রাহ্মনপাড়া গ্রামে বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। পারিবারিক কলহের কারনে সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে বিচ্ছেদ করানো হয়। খাদিজা কয়েক মাস যাবত টাঙ্গাইল আদালত প্রাঙ্গনে সোহাগ নামের এক আইনজীবীর সহকারি হিসেবে কাজ করতো। আইনজীবীর সহকারি হওয়ার সুবাধে তিনি আকুর টাকুর পাড়া বটতলা এলাকার হেলাল মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। খাদিজার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন জানেন না। সোমবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে খাদিজাকে দুর্গাপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ওই বাসার অপর ভাড়াটিয়া আইনজীবী সহকারি নার্গিস বেগম জানান, খাদিজা বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম এখানে ভাড়া থাকতেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার খাদিজার সাথে কথা বলে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে যান। বাসার প্রধান ফটক খোলা থাকায় বাসার মালিক হেলাল মিয়া তাকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান। পরে তিনি বাসার মালিককে খাদিজা ও তার স্বামী এবং আরেক ভাড়াটিয়া নিপার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
নার্গিস বেগম বলেন, খাদিজার সাথে তার স্বামীর কয়েক দিন যাবত পারিবারিক কলহ চলছিলো। খাদিজাকে যে বা যারাই হত্যা করুন আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ইমান আলী বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিন দিন পার হলেও কোন আসামীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। আমার বোনের হত্যাকারীদের শনাক্ত ও দ্রæত গ্রেপ্তার এবং ফাঁসি দাবি করছি।
টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে হত্যা মামলা হয়েছে। এই মুহুর্তে বিস্তারিত কিছুই বলা যাবে না।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর খাদিজার লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পায়ের দুই রগ কাটা। এছাড়াও তার মুখে কাপড় পেঁচানো এবং বালিশের চাপ দেয়া ছিলো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






















