০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিপুল পরিমান দেশী ও বৈদেশিক মূদ্রাসহ ২টি মানি এক্সচেঞ্জ হতে ৪ জন’কে গ্রেফতার করছে সিআইডি

  • মাসুদ রানা
  • প্রকাশিত : ০৯:২৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 61

গত ২২ সেপ্টেম্বর ২৩ ইং সন্ধ্যায় (ডিএমপি) থানাধীন সখ সেন্টারে অবস্থিত ‘চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ’ এবং ‘বকাউল মানি এক্সচেঞ্জ’ এর অফিস কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি। এ সময় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মোঃ মকবুল হোসেন (৫০)মোঃ মাসুদ আলম (২৭)এম.এম. জাকারিয়া (৫৬)মোঃ জামাল উদ্দিন (৫৪)’কে গ্রেফতার করে সিআইডির আভিযানিক দল।গ্রেফতার কালীন সময়ে তাদের নিকট হতে হতে ২১ লাখ বাংলাদেশী টাকা সহ ৭৪ লাখ বাংলাদেশী টাকার মূল্য মানে বৈদেশীক মূদ্রা উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি টিম উক্ত ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে লক্ষ্য রাখা শুরু করে। আনুমানিক ৪ ঘটিকার সময় মোঃ মকবুল হোসেন (৫০), চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর অফিস কক্ষের ভেতরে ঢুকে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রীর জন্য শপিং ব্যাগ হতে টাকা বের করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেখানো মতে দোকানের ভিতর ০১ নং কাউন্টারের সামনে হতে মোট ২,২৩,৫০০/-বাংলাদেশী টাকা, ৫৫,০০০/-রিয়াল, ৩০৭০/-ইউরো এবং ১৫৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জব্দতালিকামূলে জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় উক্ত মুদ্রা চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ এর মালিক আহমেদ নোমান এর নিকট বিক্রয় করার জন্য এবং বাংলাদেশী টাকা দিয়ে একই দোকান হতে ইউ এস ডলার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছে। এরপর চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর অফিস কক্ষে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে ১ নং কাউন্টার হতে ২০৭৫৫/- ইউএস ডলার, ৪৮,৯৩৭/- সৌদী রিয়াল, ২১০০/- ইউরো, ১১৭০০০/- ভারতীয় রুপি, ২০৯০/- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ০৫ নং কাউন্টার হতে ১৩ লাখ বাংলাদেশী টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় (২) মোঃ মাসুদ আলম (২৭)’কে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ৫ নং কাউন্টারের মালিক শামীমা আক্তার এর ম্যানেজার। একই দোকানের ৮ নং কাউন্টার এর ফাইল ক্যাবিনেট হতে ২০২০/-সৌদি রিয়াল, এবং ০৬ লক্ষ বাংলাদেশী টাকা জব্দ করা হয়। একই দোকানের ভিতরে শপিং ব্যাগে রক্ষিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ মাসুদ আরো জানায় , ৮ নং কাউন্টারের মালিক শিহাবউদ্দিন মৃধা (৪৩)। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ এর মালিক আহমেদ নোমান হলেও তিনি সবসময় দোকানে থাকেন না। তবে আহমেদ নোমান এর হয়ে তার বড় ভাই এম.এম. জাকারিয়া দোকানটি পরিচালনা করেন। এম.এম. জাকারিয়া উক্ত দোকানের মোট ৯ টি কাউন্টারের মধ্যে ৯ নং কাউন্টারের মালিক। পরবর্তীতে ৯ নং কাউন্টার হতে তাকে আটক করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি চেঞ্জার মনিটরিং সিস্টেমে চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর নিকট ইউ এস ডলার ৮০৬, পাউন্ড ২০০, সৌদী রিয়াল ৬২০ এবং ইউরো ৪০ আছে মর্মে তথ্য থাকলেও প্রকৃত পক্ষ্যে তারা গেপনে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে রেখেছে, এছাড়া চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ব্যবসা করার জন্য একটি কাউন্টার রাখার অনুমোদন রয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মোট ০৯ টি কাউন্টার খুলে ব্যবসা করছে। পরবর্তীতে একই বিল্ডিং এর নীচতলার ১১০ নং রুম “বকাউল মানি একচেঞ্জ” এর ভিতরে উত্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫৮৭৮/- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১০৩৫/-দুবাই দিরহাম, ৫৫০০ /- ভারতীয় রুপি, জব্দ করা হয় এবং (৪) মোঃ জামাল উদ্দিন (৫৪)’কে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোন প্রকার নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে দৈনিক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রি করছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোন মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান দৈনিক ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করার জন্য মজুদ রাখতে পারে। আসামীরা জ্ঞাতসারে যথাযথ নিয়ম ব্যতিরেকে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় বিক্রয় করে ও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশী টাকা হেফাজতে রেখে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩(১) ধারার অপরাধ করেছেন।এর প্রেক্ষিতে ধৃত ৪ জন সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩(১) ধারা মোতাবেক পল্টন মডেল থানা ডিএমপিতে নিয়মিত মামলা রুজুর করেছে সিআইডি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়া‌রির নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষা করার নির্বাচন

বিপুল পরিমান দেশী ও বৈদেশিক মূদ্রাসহ ২টি মানি এক্সচেঞ্জ হতে ৪ জন’কে গ্রেফতার করছে সিআইডি

প্রকাশিত : ০৯:২৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

গত ২২ সেপ্টেম্বর ২৩ ইং সন্ধ্যায় (ডিএমপি) থানাধীন সখ সেন্টারে অবস্থিত ‘চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ’ এবং ‘বকাউল মানি এক্সচেঞ্জ’ এর অফিস কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি। এ সময় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মোঃ মকবুল হোসেন (৫০)মোঃ মাসুদ আলম (২৭)এম.এম. জাকারিয়া (৫৬)মোঃ জামাল উদ্দিন (৫৪)’কে গ্রেফতার করে সিআইডির আভিযানিক দল।গ্রেফতার কালীন সময়ে তাদের নিকট হতে হতে ২১ লাখ বাংলাদেশী টাকা সহ ৭৪ লাখ বাংলাদেশী টাকার মূল্য মানে বৈদেশীক মূদ্রা উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি টিম উক্ত ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে লক্ষ্য রাখা শুরু করে। আনুমানিক ৪ ঘটিকার সময় মোঃ মকবুল হোসেন (৫০), চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর অফিস কক্ষের ভেতরে ঢুকে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রীর জন্য শপিং ব্যাগ হতে টাকা বের করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেখানো মতে দোকানের ভিতর ০১ নং কাউন্টারের সামনে হতে মোট ২,২৩,৫০০/-বাংলাদেশী টাকা, ৫৫,০০০/-রিয়াল, ৩০৭০/-ইউরো এবং ১৫৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জব্দতালিকামূলে জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় উক্ত মুদ্রা চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ এর মালিক আহমেদ নোমান এর নিকট বিক্রয় করার জন্য এবং বাংলাদেশী টাকা দিয়ে একই দোকান হতে ইউ এস ডলার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছে। এরপর চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর অফিস কক্ষে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে ১ নং কাউন্টার হতে ২০৭৫৫/- ইউএস ডলার, ৪৮,৯৩৭/- সৌদী রিয়াল, ২১০০/- ইউরো, ১১৭০০০/- ভারতীয় রুপি, ২০৯০/- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ০৫ নং কাউন্টার হতে ১৩ লাখ বাংলাদেশী টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় (২) মোঃ মাসুদ আলম (২৭)’কে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ৫ নং কাউন্টারের মালিক শামীমা আক্তার এর ম্যানেজার। একই দোকানের ৮ নং কাউন্টার এর ফাইল ক্যাবিনেট হতে ২০২০/-সৌদি রিয়াল, এবং ০৬ লক্ষ বাংলাদেশী টাকা জব্দ করা হয়। একই দোকানের ভিতরে শপিং ব্যাগে রক্ষিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ মাসুদ আরো জানায় , ৮ নং কাউন্টারের মালিক শিহাবউদ্দিন মৃধা (৪৩)। আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ এর মালিক আহমেদ নোমান হলেও তিনি সবসময় দোকানে থাকেন না। তবে আহমেদ নোমান এর হয়ে তার বড় ভাই এম.এম. জাকারিয়া দোকানটি পরিচালনা করেন। এম.এম. জাকারিয়া উক্ত দোকানের মোট ৯ টি কাউন্টারের মধ্যে ৯ নং কাউন্টারের মালিক। পরবর্তীতে ৯ নং কাউন্টার হতে তাকে আটক করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি চেঞ্জার মনিটরিং সিস্টেমে চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর নিকট ইউ এস ডলার ৮০৬, পাউন্ড ২০০, সৌদী রিয়াল ৬২০ এবং ইউরো ৪০ আছে মর্মে তথ্য থাকলেও প্রকৃত পক্ষ্যে তারা গেপনে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে রেখেছে, এছাড়া চকবাজার মানি এক্সচেঞ্জ লিঃ এর ব্যবসা করার জন্য একটি কাউন্টার রাখার অনুমোদন রয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মোট ০৯ টি কাউন্টার খুলে ব্যবসা করছে। পরবর্তীতে একই বিল্ডিং এর নীচতলার ১১০ নং রুম “বকাউল মানি একচেঞ্জ” এর ভিতরে উত্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫৮৭৮/- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১০৩৫/-দুবাই দিরহাম, ৫৫০০ /- ভারতীয় রুপি, জব্দ করা হয় এবং (৪) মোঃ জামাল উদ্দিন (৫৪)’কে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোন প্রকার নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে দৈনিক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রি করছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোন মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান দৈনিক ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করার জন্য মজুদ রাখতে পারে। আসামীরা জ্ঞাতসারে যথাযথ নিয়ম ব্যতিরেকে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় বিক্রয় করে ও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশী টাকা হেফাজতে রেখে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩(১) ধারার অপরাধ করেছেন।এর প্রেক্ষিতে ধৃত ৪ জন সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩(১) ধারা মোতাবেক পল্টন মডেল থানা ডিএমপিতে নিয়মিত মামলা রুজুর করেছে সিআইডি।