দীর্ঘ ১০ মাসেও নরসিংদীর বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর শিশু মাইশা (১০) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পিবিআই পুলিশ। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার কুড়েরপাড় জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও একই থানার ভগীরথপুর গ্রামের নেছার উদ্দিনের মেয়ে মাইশা। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর বিকেলে মাদ্রাসার চতুর্থ তলার বাথরুমে পানির পাইপ লাইনের সাথে ওড়না ও গামছা পেচানো অবস্থায় মাইশাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় শিশু মাইশার পিতা মোঃ নেছার উদ্দিন ৩ ডিসেম্বর মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত শিশু মাইশা মাধবদী থানাধীন কুড়েরপাড় জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এবং মাদ্রাসার আবাসিক হলে থেকে লেখাপড়া করতো। ঘটনার দিন সকাল ৭ টায় তার পিতা মাদ্রাসায় গিয়ে মেয়ে মাইশাকে খাবার দিয়ে তার সাথে কথা বলে বাসায় চলে আসে। বিকাল সাড়ে ৪টায় মাদ্রাসার শিক্ষক মাইশার বাবাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, শিশু মাইশা গুরুতর অসুস্থ, দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে আসার জন্য। সংবাদ পেয়ে দ্রুত মাইশার মা রুমা বেগমসহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে এসে শিশু মাইশাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মাধবদী থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে এসে নিহত শিশু মাইশার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
পিবিআই-এর তদন্তকারী দারোগা মোঃ সালাহ উদ্দিন সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, শিশু মাইশার কপালের উভয় পাশে আঘাত এবং মুখমন্ডল, নীচের ঠোটে রক্ত জমাট, কানের পাশে ও গলায় উভয় পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন শিশু মাইশা হত্যার বিচারের দাবীতে নরসিংদীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। পরে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পৃথক পৃথক স্মারক লিপি প্রদান করে। দীর্ঘ ১০ মাসেও পিবিআই পুলিশ এ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এতে মাইশার পরিবারে হতাশা নেমে এসেছে। মাইশার পরিবার হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের দারস্থ হয়। তারা জানায়, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক, শিক্ষিকারা মাইশাকে গলায় শাস্বরুদ্ধ করে নৃসংশভাবে হত্যা করেছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক শিক্ষিকারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করিতেছে। তাদের ভয় ভীতি ও হুমকির কারণে অসহায় দরিদ্র বাবা-মা ন্যায় বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
তদন্তকারী দারোগা মোঃ সালাহ উদ্দিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি আহসান উল্লাহ ও চারতলার আবাসিক দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা ওরফে শান্তা উভয়ের মধ্যে অনৈতিক অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি মাদ্রাসার ছাত্রী শিশু মাইশা দেখে ফেলায় উক্ত হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারনা করেন।
এব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি মোঃ আহসান উল্লাহ, ক্বারীয়া হাফসা ও ফারজানা আক্তার শান্তাকে গ্রেফতার করে। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত হতে কারীয়া হাফসা ও ফারজানা আক্তার শান্তা জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকারা হত্যাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার পায়তারা করিতেছে এবং পিবিআই এর বিভিন্ন কর্মকর্তাদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ হত্যাটি নরসিংদীর একটি বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-।
এলাকাবাসী বলছেন, কুড়েরপাড়ে জামিয়া কওমীয়া মহিলা মাদ্রাসায় বাহিরের কোনো মানুষ মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে পারেনা।
১০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীতে মাইশা হত্যার রহস্য দীর্ঘ ১০ মাসেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ
-
নরসিংদী প্রতিনিধি - প্রকাশিত : ০৭:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
- 50
ট্যাগ :
জনপ্রিয়





















