১২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আশ্রায়ণ প্রকল্পের বৌদলতে উপকারভোগীরা আত্মনির্ভরশীল

পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের সেই বিখ্যাত উক্তি “আসমানী রে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি”। পল্লি কবি জসীম উদ্দিনের ‘আসমানীর’ অনিশ্চিত জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে মুজিব বর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহারের জমিসহ বাডী পেয়ে কবি’র ভাষায়  আসমানীরা আজ স্বাবলম্বী। সেই সাথে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর উপকারভোগীরা এখন জীবনযুদ্ধ নয়, নতুন জীবন গঠনে বেশী ব্যস্ত! তেমনি ষাটোর্ধ্ব রাজমিস্ত্রি আব্দুল করিম। তার পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলায় থাকলেও সর্বনাশা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেয় তার। দিশেহারা আব্দুল করিমের নদীর এপাড় ভাংলেও ওপাড়ে দিশার মশাল হাতে রয়েছেন অসহায়দের সহায় প্রধানমন্ত্রী, আশ্রায়ণ প্রকল্পের উপহারের বাড়ী নিয়ে। জীবন সংগ্রামী আবিদুল করিম দীর্ঘদিন অন্যের বাড়ী তৈরি করলেও গড়তে পারেননি, নিজের বসত বাড়ী। সবশেষে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ বাড়ীতে আব্দুল করিম নিচ্ছেন শান্তির নিঃশ্বাস। এরকমই আরেকজন বরিশাল ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নুহু মিয়ার ছেলে হোসেন মাষ্টার। ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করে ২০ টাকা বেতনের চাকরি নেন এক বেসরকারি বিদ্যালয়ে । পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হলে চাকরি ছেড়ে কাজ ধরেন তিনি পরে পড়ালেখা শেষ করা হয়নি আর। ২০০৭ সালে  মেঘনা নদীর জীবন কাঁপানো ঢেউ জীবনের সর্বস্তর ভাসিয়ে নিয়ে যায়! কষ্ট করে টাকা জমিয়ে জমি কিনতে, একজন কে দিলে তাও নিয়ে যায় এক দালাল! তবে নিতে পারেনি তার কপাল, ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে ঠাঁই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি ও ঘরে। করুন ইতিহাস ও পথচলা মোঃ হানিফ মিয়া। অসহায় বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে কোন রকমে জীবনধারণ করলেও মাসের অধিকাংশ সময়েই থাকতে হতো চিন্তিত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণে থাকার সুযোগ পেয়ে, উদ্বোধনের দিনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্স এর মাধ্যমে কথাও বলেছেন তিনি। প্রকল্প-২ এর উপহারের বাড়ী পেয়ে এবং শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলামের ব্যবস্থাপনা ও সৌজন্যে সবজি বাগান, গবাধিপশু লালন পালন করে সন্তোষ্ট তিনি। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর ১৪২ টি ঘরের প্রত্যেকটির রয়েছে একটি করে স্বতন্ত্র ইতিহাস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মহানুভবতায় ১২৪ নম্বর ঘরে থাকা মোঃ সালামের প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য ব্যবস্থা হয়েছে একটি টিনশেড দোকানের উপকারভোগীদের জন্য করে দিয়েছেন আশ্রয়ণ সমবায় সমিতি। প্রতিদিন ১০০ টাকা রোজ ঝাড়ু দিয়ে জীবন পরিচালনা করা দুঃখিনী রোমেনা খাতুন ও প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণে ঠাঁই পেয়েছে! যেখানে দিন আনে দিন খেতে হয় এমন অবস্থা সেখানে বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য কোথায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ায় তারও এখন নিজের জমি নিজের একটি ভাড়া বিহীন বাড়ি আছে। এমন ভাড়া বিহীন বাড়িতে দুঃখ কষ্টে গাঁথা সেই ইতিহাস অবলম্বনে ঝাড়ুদার রোমেন খাতুন,বিধবা মোছাঃ লাকী আক্তারদের জন্য বঙ্গ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করলেন আশ্রায়ণ প্রকল্প-২। মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন দেশের একটি মানুষও গৃহ ও ভূমিহীন থাকবেনা। একে একে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি। আশ্রয়ণ প্রকল্প -২ এর আওতায় গেল ২২ই মার্চ বুধবার, সকালে গণভবন থেকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত থেকে তিনটি প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। চতুর্থ পর্যায়ে চল্লিশ হাজার ঘর হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে ৯ টি জেলার সকল উপজেলা এবং সারাদেশে ১৫৯ টি উপজেলাকে গৃহ ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু তনয়া বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এমন কাজের প্রতিষ্ঠার ফলে অসহায় হত দরিদ্র সহ দেশের সমগ্র মানুষের দোয়া ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ৮ একরের চেয়েও বেশি জায়গা জুড়ে দেশের বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন ঢাকার উত্তরে পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের শ্রীপুর নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। পশ্চিমে শালবনের সবুজ পাতা ও বিশুদ্ধ অক্সিজেনে আবৃত ও বাকি তিন দিকেই ঘনবসতিপূর্ণ আর পাঁচটি গ্রাম দ্বারা আবৃত এই প্রকল্পটিও একটি নয়নাভিরাম গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১৪২ ঘর পেয়ে সুষ্ঠু জীবন গোছানোর চেষ্টা করছেন উপকারভোগীরা। শ্রীপুরের নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮ একরের জায়গায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সংযোজন করা এই ঘরে সুপরিসর ২ টি কক্ষের সামনে টানা বারান্দা এবং পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। রয়েছে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি পুনর্বাসিতদের  জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা। তা ছাড়া ৩৫০০ স্কয়ার ফিটের একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি খেলার মাঠ ও পুকুরসহ দৃষ্টিনন্দন লে-আউটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাস্তা। যা অন্যান্য প্রকল্পের থেকে একটু ব্যতিক্রম। তাছাড়া গাজীপুর জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে রাস্তার উভয় পাশে ও প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে প্রায় দের হাজারো ফল, ফুল ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ। ক্ষনিক জীবনের অনিশ্চিত ভবির্ষতের নিশ্চয়তার জন্য আওয়ামীলীগ নেতৃত্বনাধীন সরকার রচনা করে একটি রঙ্গিন ভর্বিষৎ! রচনাকৃত আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ একটি বাড়ী উপহার পেয়ে উপকারভোগী সবাই এখন স্বপ্ন বুনছেন নতুন জীবনের। নতুন জীবনের সূচনা লগ্নে বাড়ীর আঙ্গিনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু করেছেন গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি প্রতিপালন। পাশাপাশি খালি জায়গায় শীতকালীন শীম, বটবটি, লাউ, কুমড়া, করল্লা, মরিচসহ নানান রকম সবজির বাগান। সবুজ শ্যামল নতুন এই জনপদ জানান দিচ্ছে বাড়ী পাওয়া এসকল উপকারভোগীরা শুধু একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দীর্ঘদিন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে জমিসহ একটি পরিপর্ণ বাড়ী সেই কাঙ্গিত চাওয়া পূরণ করে দিয়েছে এখন স্বাবলম্বি হওয়ার। এরকম হাজারো অসহায় পরিবার আজ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ী পেয়ে আত্মনির্ভরশীল।

সার্বিক বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের একজন মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবেনা’ মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন। নির্মাণ সময় থাকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত উপকারভোগীদের খুঁজ খবর নিচ্ছি । এ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলো আমরা সঠিকভাবে নির্মান ও উপকারভোগীদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি পরিবারকে সাবলম্বী করে তুলতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই দিন রাত পরিশ্রম করেছি‌।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ট্রেনে ঈদ যাত্রার শেষ দিনের টিকিট বিক্রি আজ

আশ্রায়ণ প্রকল্পের বৌদলতে উপকারভোগীরা আত্মনির্ভরশীল

প্রকাশিত : ০৯:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের সেই বিখ্যাত উক্তি “আসমানী রে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি”। পল্লি কবি জসীম উদ্দিনের ‘আসমানীর’ অনিশ্চিত জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে মুজিব বর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহারের জমিসহ বাডী পেয়ে কবি’র ভাষায়  আসমানীরা আজ স্বাবলম্বী। সেই সাথে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর উপকারভোগীরা এখন জীবনযুদ্ধ নয়, নতুন জীবন গঠনে বেশী ব্যস্ত! তেমনি ষাটোর্ধ্ব রাজমিস্ত্রি আব্দুল করিম। তার পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলায় থাকলেও সর্বনাশা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেয় তার। দিশেহারা আব্দুল করিমের নদীর এপাড় ভাংলেও ওপাড়ে দিশার মশাল হাতে রয়েছেন অসহায়দের সহায় প্রধানমন্ত্রী, আশ্রায়ণ প্রকল্পের উপহারের বাড়ী নিয়ে। জীবন সংগ্রামী আবিদুল করিম দীর্ঘদিন অন্যের বাড়ী তৈরি করলেও গড়তে পারেননি, নিজের বসত বাড়ী। সবশেষে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ বাড়ীতে আব্দুল করিম নিচ্ছেন শান্তির নিঃশ্বাস। এরকমই আরেকজন বরিশাল ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নুহু মিয়ার ছেলে হোসেন মাষ্টার। ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাস করে ২০ টাকা বেতনের চাকরি নেন এক বেসরকারি বিদ্যালয়ে । পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হলে চাকরি ছেড়ে কাজ ধরেন তিনি পরে পড়ালেখা শেষ করা হয়নি আর। ২০০৭ সালে  মেঘনা নদীর জীবন কাঁপানো ঢেউ জীবনের সর্বস্তর ভাসিয়ে নিয়ে যায়! কষ্ট করে টাকা জমিয়ে জমি কিনতে, একজন কে দিলে তাও নিয়ে যায় এক দালাল! তবে নিতে পারেনি তার কপাল, ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে ঠাঁই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের জমি ও ঘরে। করুন ইতিহাস ও পথচলা মোঃ হানিফ মিয়া। অসহায় বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে কোন রকমে জীবনধারণ করলেও মাসের অধিকাংশ সময়েই থাকতে হতো চিন্তিত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণে থাকার সুযোগ পেয়ে, উদ্বোধনের দিনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কনফারেন্স এর মাধ্যমে কথাও বলেছেন তিনি। প্রকল্প-২ এর উপহারের বাড়ী পেয়ে এবং শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলামের ব্যবস্থাপনা ও সৌজন্যে সবজি বাগান, গবাধিপশু লালন পালন করে সন্তোষ্ট তিনি। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর ১৪২ টি ঘরের প্রত্যেকটির রয়েছে একটি করে স্বতন্ত্র ইতিহাস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মহানুভবতায় ১২৪ নম্বর ঘরে থাকা মোঃ সালামের প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য ব্যবস্থা হয়েছে একটি টিনশেড দোকানের উপকারভোগীদের জন্য করে দিয়েছেন আশ্রয়ণ সমবায় সমিতি। প্রতিদিন ১০০ টাকা রোজ ঝাড়ু দিয়ে জীবন পরিচালনা করা দুঃখিনী রোমেনা খাতুন ও প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণে ঠাঁই পেয়েছে! যেখানে দিন আনে দিন খেতে হয় এমন অবস্থা সেখানে বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য কোথায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ায় তারও এখন নিজের জমি নিজের একটি ভাড়া বিহীন বাড়ি আছে। এমন ভাড়া বিহীন বাড়িতে দুঃখ কষ্টে গাঁথা সেই ইতিহাস অবলম্বনে ঝাড়ুদার রোমেন খাতুন,বিধবা মোছাঃ লাকী আক্তারদের জন্য বঙ্গ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করলেন আশ্রায়ণ প্রকল্প-২। মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন দেশের একটি মানুষও গৃহ ও ভূমিহীন থাকবেনা। একে একে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি। আশ্রয়ণ প্রকল্প -২ এর আওতায় গেল ২২ই মার্চ বুধবার, সকালে গণভবন থেকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত থেকে তিনটি প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। চতুর্থ পর্যায়ে চল্লিশ হাজার ঘর হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে ৯ টি জেলার সকল উপজেলা এবং সারাদেশে ১৫৯ টি উপজেলাকে গৃহ ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু তনয়া বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এমন কাজের প্রতিষ্ঠার ফলে অসহায় হত দরিদ্র সহ দেশের সমগ্র মানুষের দোয়া ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ৮ একরের চেয়েও বেশি জায়গা জুড়ে দেশের বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন ঢাকার উত্তরে পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের শ্রীপুর নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। পশ্চিমে শালবনের সবুজ পাতা ও বিশুদ্ধ অক্সিজেনে আবৃত ও বাকি তিন দিকেই ঘনবসতিপূর্ণ আর পাঁচটি গ্রাম দ্বারা আবৃত এই প্রকল্পটিও একটি নয়নাভিরাম গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১৪২ ঘর পেয়ে সুষ্ঠু জীবন গোছানোর চেষ্টা করছেন উপকারভোগীরা। শ্রীপুরের নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮ একরের জায়গায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সংযোজন করা এই ঘরে সুপরিসর ২ টি কক্ষের সামনে টানা বারান্দা এবং পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। রয়েছে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি পুনর্বাসিতদের  জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা। তা ছাড়া ৩৫০০ স্কয়ার ফিটের একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি খেলার মাঠ ও পুকুরসহ দৃষ্টিনন্দন লে-আউটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাস্তা। যা অন্যান্য প্রকল্পের থেকে একটু ব্যতিক্রম। তাছাড়া গাজীপুর জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে রাস্তার উভয় পাশে ও প্রতিটি বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে প্রায় দের হাজারো ফল, ফুল ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ। ক্ষনিক জীবনের অনিশ্চিত ভবির্ষতের নিশ্চয়তার জন্য আওয়ামীলীগ নেতৃত্বনাধীন সরকার রচনা করে একটি রঙ্গিন ভর্বিষৎ! রচনাকৃত আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ একটি বাড়ী উপহার পেয়ে উপকারভোগী সবাই এখন স্বপ্ন বুনছেন নতুন জীবনের। নতুন জীবনের সূচনা লগ্নে বাড়ীর আঙ্গিনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু করেছেন গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি প্রতিপালন। পাশাপাশি খালি জায়গায় শীতকালীন শীম, বটবটি, লাউ, কুমড়া, করল্লা, মরিচসহ নানান রকম সবজির বাগান। সবুজ শ্যামল নতুন এই জনপদ জানান দিচ্ছে বাড়ী পাওয়া এসকল উপকারভোগীরা শুধু একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দীর্ঘদিন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে জমিসহ একটি পরিপর্ণ বাড়ী সেই কাঙ্গিত চাওয়া পূরণ করে দিয়েছে এখন স্বাবলম্বি হওয়ার। এরকম হাজারো অসহায় পরিবার আজ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ী পেয়ে আত্মনির্ভরশীল।

সার্বিক বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের একজন মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবেনা’ মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন। নির্মাণ সময় থাকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত উপকারভোগীদের খুঁজ খবর নিচ্ছি । এ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলো আমরা সঠিকভাবে নির্মান ও উপকারভোগীদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি পরিবারকে সাবলম্বী করে তুলতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই দিন রাত পরিশ্রম করেছি‌।