রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যদি কেউ নাশকতা করে, অগ্নিসংযোগ করে তাহলে ঢাকা মহানগর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিএনপির অবরোধ চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সময় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা নাশকতার সঙ্গে জড়িত।
বাসে আগুন দেওয়ার সময় দুজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার নিয়ে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার মহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, এক দিনের হরতাল ও তিন দফা অবরোধের কারণে নগরবাসীর জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে ডিএমপি ইতিবাচক। এসব কর্মসূচিতে নিরাপত্তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। সেই কাজটি আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা দেখেছি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে দুষ্কৃতকারীরা ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে তারা বাসে আগুন দিয়েছে। এতে দ্রুত বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমপির এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ৩১ অক্টোবর রাতে একজন হেলপারকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। রাজধানীর ১২টি স্থানে আগুন দেওয়ার সময় ১২ দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে ডিএমপি তার জায়গা থেকে যা করার, তা করবে। কেউ যদি নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ করে, তাহলে ডিএমপি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। আমরা আশা করব, সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি এলে সেটা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়। যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে, তারা যেন এসব না করে, তাদের বলতে চাই।
খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি এসব দুষ্কৃতকারীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর তারা নির্বিচারে এসব নাশকতার কাজ করে। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি আগামী ১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ জানাব, কেউ যেন রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম না করে।
গ্রেপ্তার ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ১২ জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি তারা প্রত্যেকই অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এমন দেখা গেছে, একজন আরেকজনকে নিয়োগ করেছে, আবার আরেকজন অন্যজনকে নিয়োগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্নভাবে অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে মানুষ জনকে ভীত করার জন্য এবং মানুষ যেন ভয়ে রাস্তায় না নামতে পারে, সে লক্ষ্যে তারা অবরোধের আগের দিন ও অবরোধের দিন নাশকতা করেছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, টাকা-পয়সা লেনদেনের দু-একটি তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের অনেক ক্ষেত্রে প্রলোভন দেওয়া হয়েছে- তোমার জায়গা যদি সুদৃঢ় রাখতে চাও, তাহলে এই কাজটি করে দাও। এই ধরনের অনেক তথ্য আছে।
তিনি, যারা অবরোধের ডাক দিয়েছে, তারা এসব পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের লোক। তাদের চিহ্নিত করতে ও নাশকতাকারীদের পেছনে কারা, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। ছদ্মবেশে কেউ নাশকতা করলে ১০০ ভাগ নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন। প্রতিদিন যে কটি ঘটনা ঘটছে, তারচেয়ে অনেক গুন ঘটনার পরিকল্পনা কিন্তু প্রতিহত করা হয়েছে। না হলে নাশকতার সংখ্যা আরও বাড়ত।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন সচেতন। তারাও নাশকতা ঠেকাতে সোচ্চার। ইতোমধ্যে নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য একজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাকি আরও কয়েকজন আছে, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















