০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চবির সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন

নিজ বিভাগের ছাত্রীর যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে একই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

এ সময়ে তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড দেখা যায়। ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যজ্য’, ‘শিক্ষক রক্ষক না হয়ে ভক্ষক কেন’, ‘ ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য বন্ধ চাই’, ‘যৌন নিপীড়ক মাহবুবুল মতিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ ইত্যাদি। এ ছাড়া ‘মতিনের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘এক-দুই-তিন-চার মতিন তুই ক্যাম্পাস স্যার’, ‘মতিনের চামড়া তুলে নিব আমরা’ ইত্যাদি স্লোগানে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এ সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিকট যেয়ে তাদের আবেদন শুনেন এবং পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের যথাপোযুক্ত শাস্তি প্রধান করবে বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা উপাচার্য ম্যামের নিকট দাবি জানিয়েছি যে, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে যাতে তার স্থায়ী বহিষ্কার হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। ভবিষ্যতে পরবর্তী ব্যাচের ছাত্রীরা যেন এমন যৌন হয়রানির শিকার আর না হয়। উপাচার্য ম্যাম কিছু দিনের মধ্যে যথাপোযুক্ত শাস্তি প্রদানের বিষয়ে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু তিনি যদি আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেন তাহলে আমরা লাগাতার আন্দোলন করে যাবো, কখনো থামবো না।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ওই শিক্ষক যে কাজটি করেছেন শুধু শিক্ষক হিসেবে না, মানুষ হিসেবেও কারো কাছে গ্রহণযোগ্য না। তিনি শুধু রসায়ন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেনি; বরং গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তার মত গবেষকের প্রয়োজন নেই যে, ধর্ষণ করে। তিনি নিজের মেয়ের বয়সের একজন শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে এমন কাজ কিভাবে করতে পারেন? তখন কি তার বুক কেঁপে উঠেনি?

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন সেলের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়ায় হয়। কিন্তু শিক্ষার্থী তারপরও আজ রবিবার শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

চবির সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৮:০৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজ বিভাগের ছাত্রীর যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে একই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে তারা।

এ সময়ে তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড দেখা যায়। ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যজ্য’, ‘শিক্ষক রক্ষক না হয়ে ভক্ষক কেন’, ‘ ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য বন্ধ চাই’, ‘যৌন নিপীড়ক মাহবুবুল মতিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ ইত্যাদি। এ ছাড়া ‘মতিনের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘এক-দুই-তিন-চার মতিন তুই ক্যাম্পাস স্যার’, ‘মতিনের চামড়া তুলে নিব আমরা’ ইত্যাদি স্লোগানে দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এ সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিকট যেয়ে তাদের আবেদন শুনেন এবং পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের যথাপোযুক্ত শাস্তি প্রধান করবে বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা উপাচার্য ম্যামের নিকট দাবি জানিয়েছি যে, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে যাতে তার স্থায়ী বহিষ্কার হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। ভবিষ্যতে পরবর্তী ব্যাচের ছাত্রীরা যেন এমন যৌন হয়রানির শিকার আর না হয়। উপাচার্য ম্যাম কিছু দিনের মধ্যে যথাপোযুক্ত শাস্তি প্রদানের বিষয়ে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু তিনি যদি আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেন তাহলে আমরা লাগাতার আন্দোলন করে যাবো, কখনো থামবো না।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ওই শিক্ষক যে কাজটি করেছেন শুধু শিক্ষক হিসেবে না, মানুষ হিসেবেও কারো কাছে গ্রহণযোগ্য না। তিনি শুধু রসায়ন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেনি; বরং গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। তার মত গবেষকের প্রয়োজন নেই যে, ধর্ষণ করে। তিনি নিজের মেয়ের বয়সের একজন শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে এমন কাজ কিভাবে করতে পারেন? তখন কি তার বুক কেঁপে উঠেনি?

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন সেলের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়ায় হয়। কিন্তু শিক্ষার্থী তারপরও আজ রবিবার শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ