পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা আশ্রয়ণকেন্দ্রের এক নারী বাসিন্দাকে ধর্ষণের ঘটনায় মাত্র এক হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চাকলা ইউনিয়ন পরষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস সরদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ওই বিচার না মেনে থানায় মামলা করতে চাইলে তাকে হুমকি দিয়ে মামলা করতে নিষেধ করার অভিযোগও ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তবে হুমকি উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বেড়া থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর অভিযোগ, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২নং ঘরের বাসিন্দা তার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণের করে ওই প্রকল্পের ৬ নং ঘরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৩০) । এঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে ডেকে গত রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাকলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে বসে ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী। এরপর কয়েকজন ইউপি সদস্যসহ তার অনুসারীদের নিয়ে একটি সালিশী বোর্ড গঠন করে বিচারকার্য পরিচালনা করে ইউপি চেয়ারম্যান। ধর্ষককে জুতা পেটা, নাকে খত ও কান ধরে উঠাবসা করার শাস্তি দেন ওই সালিশী বোর্ড। একইসাথে অভিযুক্ত ধর্ষককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষণকাণ্ডের বিচারের মীমাংসা করে দেন ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস সরদার। কিন্তু ভুক্তভোগী নারীর স্বামী তৎক্ষণাৎ এ মীমাংসা মেনে না নিয়ে থানায় মামলা করার কথা বললে তাকে হুমকি দিয়ে মামলা করতে নিষেধ করেন চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, আমার স্ত্রীর ইজ্জতের দাম এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে রায় দেন ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস সরদার। রায় দেবার সাথে সাথে আমি জানিয়েছি, এ রায় মানি না। আমি থানায় মামলা করব। তখন চেয়ারম্যান ধমক দিয়ে বলেন, এতোবড় সাহস তোর, আমার রায় মানিস না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে রটিয়ে দেবো বউ দিয়ে দেহ ব্যবসা করিয়ে খাস। এছাড়া গালাগালি ও নানারকম হুমকিও দেন চেয়ারম্যান। আমার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করেছে শফিকুল। তার শাস্তি না দিয়ে উল্টো তার পক্ষ নিয়ে আমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে, হুমকি দেয়া হয়েছে। এরপরও আমি থানায় মামলা করেছি। পরে পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জমিজমা সংক্রান্ত সহ নানা ঝামেলার মীমাংসা করতে স্থানীয়রা চাকলা ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস সরদারের শরণাপন্ন হলে উভয়পক্ষকে জিম্মি করে টাকা খেয়ে সালিশ করে থাকেন। সালিশে স্বজনপ্রীতি ও টাকা খেয়ে অন্যায়ের পক্ষে রায় দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ধর্ষণের বিচার কোনো সালিশী বৈঠকে সম্পন্ন করা বিধান নেই জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবিব বলেন, ধর্ষণ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এটি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া সালিশী রায়ে অভিযুক্তকে কায়া শাস্তি (শারিরীক শাস্তি) দেবার এখতিয়ারও কারো নেই। এদিক থেকে এ সালিশী কার্যক্রম সঠিক হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ হোসেন বলেন, ধর্ষণ অপরাধের মীমাংসা এক হাজার টাকা জরিমানায়। এটি কোনোভাবেই সঠিক মীমাংসা হতে পারে না। এছাড়া এটি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের জন্য খুবই দু:খজনক।
অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে চাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস সরদার বলেন, উভয়পক্ষের সম্মতিতে সালিশ করা হয়েছে। সালিশী কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেছেন তারা। এর বাইরে একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারাই এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরছেন।
এব্যাপারে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্যদের পুলিশকে অবহিত করার দায়িত্ব রয়েছে। সেটি না করে অন্যায়ভাবে কেউ যদি কোনো সালিশ বা মীমাংসার চেষ্টা করে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই তদন্ত চলছে। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















