বেসিক ব্যাংকঅবশেষে নারী কর্মীদের রাতে অফিস করার বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাতে অফিস করা সংক্রান্ত ২৬ জুন জারি করা আদেশটিতে সংশোধন আনা হয়েছে। নারী কর্মীদেরকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে অফিস আদেশ জারি করেছে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বেসিক ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকের নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ব্যাংকিং সময়সূচির পরে, অর্থাৎ সন্ধা ছয়টায় কর্মদিবস শেষে ব্যাংকে অবস্থানের জন্য বাধ্য করা যাবে না। আরও বলা হয়, নারীদের ক্ষেত্রে আগের আদেশ প্রযোজ্য হবে না। নতুন এই সিদ্ধান্তকে নারী কর্মকর্তারা ছাড়াও সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যাংকটির পুরুষ কর্মকর্তারাও। নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কাজের প্রয়োজন হলে প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহীরা ব্যতীত অন্য কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে ব্যাংকিং সময়সূচির পরে অবস্থানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানরা নিজ নিজ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। প্রসঙ্গত, ২৭ জুন বাংলা ট্রিবিউনে ‘বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে রাতেও অফিস!’ শিরনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এর আগে ২৬ জুন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেসিক ব্যাংক একটি অফিস আদেশ জারি করে। এতে বিশেষ করে বিপাকে পড়েন নারী কর্মকর্তারা। আগের নির্দেশনায় ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনার কথা বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্ধ্যা সাতটার আগে অফিস ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা হচ্ছেÑ সন্ধ্যা ছয়টার পরে কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে ব্যাংকে অবস্থানের জন্য বাধ্য করা যাবে না। আবার সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকেও স্পষ্ট বলা আছেÑ ব্যাংকে কর্মরতদের কর্মঘণ্টা হবে ৮ ঘণ্টা, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেশি কাজ করাতে চাইলে তাকে ‘বাধ্য করা কিংবা নির্দেশনা’ দেওয়া যাবে না। বেসিক ব্যাংকের অফিস আদেশে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আউয়াল খান ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হাসান তানভীরের স্বাক্ষর রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকটির একজন নারী কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অফিস করতে হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন নারী কর্মীরা।’
তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টায় অফিসে ঢুকতে হয়, এ কারণে বাসা থেকে বের হই আরও দুই ঘণ্টা আগে। আর সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অফিস করতে হলে বাসায় যেতে যেতে রাত ৯টা বাজবে। ফলে প্রায় ১২ ঘণ্টা অফিসের জন্য সময় ব্যয় হবে। ২৬ জুনের ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছিলÑ ‘প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও এর ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট এ সময়ের আগে কার্যালয় ছেড়ে যাবে না কর্মকর্তাদের বহন করা পুলের কোনও পরিবহনও।’ আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত সব নির্বাহী ছাড়াও প্রধান কার্যালয়ের অন্যান্য পদের কর্মকর্তারাও কাজের প্রয়োজনে নিদেনপক্ষে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।
প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বহনে নিয়োজিত পুলের পরিবহনগুলো সন্ধ্যা সাতটার আগে প্রধান কার্যালয় ত্যাগ করবে না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকিং সময়সূচির পরে অর্থাৎ সন্ধ্যা ছয়টার পরে কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে নারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে ব্যাংকে অবস্থানের জন্য বাধ্য করা যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে যদি কোনও নারী কর্মীকে ব্যাংকিং সময়সূচির পরেও ব্যাংকে অবস্থান করতে হয়, তবে তাদেরকে উপযুক্ত নিরাপত্তা ও পারিশ্রমিক দিতে হবে।


























