১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ক্যাসিনোকেও হার মানিয়েছে জুয়া ও মাদকের আসর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো)কে হার মানিয়েছে দিবা-রাত্রি জুয়া ও মাদকের আসর। দীর্ঘদিন দিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে অন্তত ৮-৯টি আসর নিয়মিত বসছে। এ আসরে প্রায়ই ঢাকা ও তার আশেপাশের জুয়ারী এবং মাদক কারবারীরা অংশ নেয়। ফলে মাদক ও জুয়ারীদের অভয়ারণ্য উপজেলার কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকার আমির উদ্দিন টেক্সটাইল সংলগ্ন কাঠ বাগান। ছোট-বড়-মাঝারী কয়েক ভাগেই ভাগ করে নিয়মীতই বসছে এ আসর। প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০জন জুয়ারী ও মাদককারবারীরা অংশ নেয় এখানে। অভিযোগ রয়েছে এখান থেকে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্র ও কাঞ্চন ফাঁড়ি পুলিশ নিয়মিত মোটা অংকের টাকা মাসহারা পায়। তাই জুয়ারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস টুকু পায়না এলাকাবাসী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যেই বসে জুয়ার প্রথম আসর। এতে অংশ নেয় স্থানীয় মাদককারবারীরা। যাদের বয়স ১৫-২৫ বছরের মধ্যে। প্রায় দেড় থেকে ২ ঘন্টা পর ১১ টার দিকে বসে ২য় আসর। এতে অংশ নেয় রূপগঞ্জের বড় বড় জুয়ারীরা (বড়দের আসর)। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জমজমাট হয়ে উঠে পরবর্তী সব গুলো আসর। ৩য়, ৪র্থ, ৫ম পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ধাপ গুলোতে বসে মাঝারী বা ৩০-৪৫ বছরের জুয়ারী ও মাদককারবারীরা। জুয়ার পাশাপাশি এখানে হিরোইন, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সেবনের রমরমা আসর বসে। যার প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। জুয়ার ও মাদকের টাকার জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এলাকার যুব সমাজ।

এ যেনো দেখার কেউ নেই। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার অঘোষিত অপরাধপল্লী নামে খ্যাত কুলুপাড়া (বর্তমানে খাঁ পাড়া)। এখানে শিক্ষার হার খুবই কম। এখানকার মানুষজনের ঘরে ঘরে মাদকের বিস্তার। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখানে মাদক ও জুয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এখানকার মানুষজনের অলিখিত পেশা মাদক ও জুয়া। এখানে প্রকাশেই চলে সকল অপরাধ। এতো কিছুর পরও প্রশাসনের নিরবতা হাপিয়ে তুলেছে সুশীল সমাজকে। এসব অপারাধীকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা না গেলে যুব সমাজ ধংশযজ্ঞে পরিণত হবে বলছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আবীর হোসেন জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। জুয়ারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শীগ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ক্যাসিনোকেও হার মানিয়েছে জুয়া ও মাদকের আসর

প্রকাশিত : ০৪:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো)কে হার মানিয়েছে দিবা-রাত্রি জুয়া ও মাদকের আসর। দীর্ঘদিন দিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে অন্তত ৮-৯টি আসর নিয়মিত বসছে। এ আসরে প্রায়ই ঢাকা ও তার আশেপাশের জুয়ারী এবং মাদক কারবারীরা অংশ নেয়। ফলে মাদক ও জুয়ারীদের অভয়ারণ্য উপজেলার কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকার আমির উদ্দিন টেক্সটাইল সংলগ্ন কাঠ বাগান। ছোট-বড়-মাঝারী কয়েক ভাগেই ভাগ করে নিয়মীতই বসছে এ আসর। প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০জন জুয়ারী ও মাদককারবারীরা অংশ নেয় এখানে। অভিযোগ রয়েছে এখান থেকে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্র ও কাঞ্চন ফাঁড়ি পুলিশ নিয়মিত মোটা অংকের টাকা মাসহারা পায়। তাই জুয়ারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস টুকু পায়না এলাকাবাসী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যেই বসে জুয়ার প্রথম আসর। এতে অংশ নেয় স্থানীয় মাদককারবারীরা। যাদের বয়স ১৫-২৫ বছরের মধ্যে। প্রায় দেড় থেকে ২ ঘন্টা পর ১১ টার দিকে বসে ২য় আসর। এতে অংশ নেয় রূপগঞ্জের বড় বড় জুয়ারীরা (বড়দের আসর)। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জমজমাট হয়ে উঠে পরবর্তী সব গুলো আসর। ৩য়, ৪র্থ, ৫ম পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ধাপ গুলোতে বসে মাঝারী বা ৩০-৪৫ বছরের জুয়ারী ও মাদককারবারীরা। জুয়ার পাশাপাশি এখানে হিরোইন, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সেবনের রমরমা আসর বসে। যার প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। জুয়ার ও মাদকের টাকার জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এলাকার যুব সমাজ।

এ যেনো দেখার কেউ নেই। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার অঘোষিত অপরাধপল্লী নামে খ্যাত কুলুপাড়া (বর্তমানে খাঁ পাড়া)। এখানে শিক্ষার হার খুবই কম। এখানকার মানুষজনের ঘরে ঘরে মাদকের বিস্তার। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখানে মাদক ও জুয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এখানকার মানুষজনের অলিখিত পেশা মাদক ও জুয়া। এখানে প্রকাশেই চলে সকল অপরাধ। এতো কিছুর পরও প্রশাসনের নিরবতা হাপিয়ে তুলেছে সুশীল সমাজকে। এসব অপারাধীকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা না গেলে যুব সমাজ ধংশযজ্ঞে পরিণত হবে বলছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) আবীর হোসেন জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। জুয়ারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শীগ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH