০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

পাবনার সুজানগর উপজেলার চর ভবানীপুরের বন্দের মন্ডলের ছেলে কাদের মন্ডল। ৭/৮ বছর আগে মারা গেছেন তিনি। অথচ অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুজানগর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে তাকে। মামলা নথিভূক্ত হবার পর লোকমারফতে বিষয়টি জেনে হতবাক হন মৃত কাদের মন্ডলের পরিবার। মৃত ব্যক্তি কিভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকতে পারেন এবং কিভাবেই তিনি এ সংক্রান্ত মামলার আসামি হতে পারেন এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার।
এব্যাপারে কাদের মন্ডলের স্ত্রী আসমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মারা গেছেন প্রায় ৮বছর আগে। অথচ কয়েকদিন আগে তার নামে মামলা হইছে। তিনি নাকি অবৈধভাবে বালু তোলে। ৩ সন্তান নিয়ে কষ্টের সংসারে মামলা টানা আমার পক্ষে অসম্ভব। অথচ এরকম মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর বিচার চাই।
শুধু কাদের মন্ডল নয়, দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে অসুস্থ্যতাজনিত কারণে বিছানায় পড়ে থাকা ৮৫ বছর বয়সী তার বড়ভাই শুকুর মন্ডলকেও। কেবল কাদের বা শুকুর মন্ডল নয়, এরকম অনেককেই এ মামলার আসামি করা হয়েছে। যারা বালু উত্তোলনের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের। শুকুর মন্ডল বলেন, আমি অসুস্থ্য মানুষ, নিজের বাপ যে জমি রেখে গেছে সেগুলোই দেখে শুনে খেতে পারি না। স্ট্রোক করার পর থেকে কয়েক বছর ধরে শুয়ে বসে খাচ্ছি। আমি কিভাবে বালু ব্যবসার সাথে জড়িত তাই-ই বুঝতে পারছি না।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুজানগরের চর ভবানীপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে পরিদর্শনে যান পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাবুল আখতার। ঘটনাস্থলে কাউকে না পেলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তিনি। ঐ মামলায় ২জনকে স্বাক্ষী করা হয়। অথচ তারা কেউই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের নাম জানা তো দূরে থাক, ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান সাংবাদিকদের। স্বাক্ষী ইকবাল বলেন, কখন কোথায় নায়েব আসছিলো আমি তার কিচ্ছু জানি না। তাহলে আমি কিভাবে স্বাক্ষী হলাম?
আরেক স্বাক্ষী খলিল জানান, আমি অফিস যাচ্ছিলাম। নায়েব নদীর পাড়ে ডেকে নিলেন। সেখানে কাউকে পায়নি। পরে একদিন উনি আমার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি বলেছি। কে বালু তোলে বা বিক্রি করে কিচ্ছু জানি না। আমাকে স্বাক্ষী করেছে। মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দিয়েছে। এলাকার লোকজনের কাছে আমাকে কথা শুনতে হচ্ছে, তাদের কাছে খারাপ হয়ে গেছি।
এদিকে মৃত ব্যক্তির নামে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে মামলার ঘটনায় ভূমি কর্মকর্তা বাবুল আখতারের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছে। তবে একে গাফিলতি মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে বাবুল আখতারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্তে মুল দোষীরা শনাক্ত হবেন। কেউ মৃত হলে সেটিও বেরিয়ে আসবে।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকার জানান, এটি কোনো গাফিলতি নয়, ছোট্ট ভুল। যারা নায়েবকে তথ্য দিয়েছে তারা ভুল তথ্য দেবার কারণেই এমনটি হয়েছে। মামলা থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মৃত ব্যক্তির নামে মামলা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত : ০৭:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাবনার সুজানগর উপজেলার চর ভবানীপুরের বন্দের মন্ডলের ছেলে কাদের মন্ডল। ৭/৮ বছর আগে মারা গেছেন তিনি। অথচ অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুজানগর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে তাকে। মামলা নথিভূক্ত হবার পর লোকমারফতে বিষয়টি জেনে হতবাক হন মৃত কাদের মন্ডলের পরিবার। মৃত ব্যক্তি কিভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকতে পারেন এবং কিভাবেই তিনি এ সংক্রান্ত মামলার আসামি হতে পারেন এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার।
এব্যাপারে কাদের মন্ডলের স্ত্রী আসমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মারা গেছেন প্রায় ৮বছর আগে। অথচ কয়েকদিন আগে তার নামে মামলা হইছে। তিনি নাকি অবৈধভাবে বালু তোলে। ৩ সন্তান নিয়ে কষ্টের সংসারে মামলা টানা আমার পক্ষে অসম্ভব। অথচ এরকম মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর বিচার চাই।
শুধু কাদের মন্ডল নয়, দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে অসুস্থ্যতাজনিত কারণে বিছানায় পড়ে থাকা ৮৫ বছর বয়সী তার বড়ভাই শুকুর মন্ডলকেও। কেবল কাদের বা শুকুর মন্ডল নয়, এরকম অনেককেই এ মামলার আসামি করা হয়েছে। যারা বালু উত্তোলনের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের। শুকুর মন্ডল বলেন, আমি অসুস্থ্য মানুষ, নিজের বাপ যে জমি রেখে গেছে সেগুলোই দেখে শুনে খেতে পারি না। স্ট্রোক করার পর থেকে কয়েক বছর ধরে শুয়ে বসে খাচ্ছি। আমি কিভাবে বালু ব্যবসার সাথে জড়িত তাই-ই বুঝতে পারছি না।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুজানগরের চর ভবানীপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে পরিদর্শনে যান পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাবুল আখতার। ঘটনাস্থলে কাউকে না পেলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তিনি। ঐ মামলায় ২জনকে স্বাক্ষী করা হয়। অথচ তারা কেউই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের নাম জানা তো দূরে থাক, ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান সাংবাদিকদের। স্বাক্ষী ইকবাল বলেন, কখন কোথায় নায়েব আসছিলো আমি তার কিচ্ছু জানি না। তাহলে আমি কিভাবে স্বাক্ষী হলাম?
আরেক স্বাক্ষী খলিল জানান, আমি অফিস যাচ্ছিলাম। নায়েব নদীর পাড়ে ডেকে নিলেন। সেখানে কাউকে পায়নি। পরে একদিন উনি আমার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি বলেছি। কে বালু তোলে বা বিক্রি করে কিচ্ছু জানি না। আমাকে স্বাক্ষী করেছে। মৃত ব্যক্তির নামেও মামলা দিয়েছে। এলাকার লোকজনের কাছে আমাকে কথা শুনতে হচ্ছে, তাদের কাছে খারাপ হয়ে গেছি।
এদিকে মৃত ব্যক্তির নামে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে মামলার ঘটনায় ভূমি কর্মকর্তা বাবুল আখতারের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছে। তবে একে গাফিলতি মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে বাবুল আখতারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্তে মুল দোষীরা শনাক্ত হবেন। কেউ মৃত হলে সেটিও বেরিয়ে আসবে।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকার জানান, এটি কোনো গাফিলতি নয়, ছোট্ট ভুল। যারা নায়েবকে তথ্য দিয়েছে তারা ভুল তথ্য দেবার কারণেই এমনটি হয়েছে। মামলা থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ