ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, হলি আর্টিসানের হামালা ছিল জাতির বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। সেই সময় আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করি। সেই সময় আমাদের দুই প্রিয় সহকর্মী মারা গিয়েছে। কিন্তু সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেছি আমরা।
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিতে নির্মিত ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ রবিবার দুপুরে উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি। উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ডিএমপি কমিশনার। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন ও বিউগলের সুরে সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জঙ্গি দেশে নেই সেটা বলা যাবে না, কারণ আপনারা জানেন এটা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে হলি আর্টিসানের পর আমরা জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক পর্যুদস্ত করেছি, ভেঙে দিয়েছি, গুঁড়িয়ে দিয়েছি। তবে এখনো জঙ্গিরা যেখানে থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হলি আর্টিসান এলাকাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। গুলশানের জমির অনেক দাম। আমরা মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। কিন্তু তিনি সেখানে জমি দিতে রাজি হননি। তাই আমরা আজাদ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ‘দীপ্ত শপথ’ তৈরি করেছি। এখানে নতুন প্রজন্ম তাদের ত্যাগের কথা জানতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, হামলার পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন শংকিত ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে এক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। এই আহবানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নিবিশেষে সবাই সাড়া দিয়েছিল। এরপর থেকে আমাদের মেধাবী পুলিশ সদস্যরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একের পর এক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে, অনেক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশে ছোট-বড় ৭০টি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে।
হলি আর্টিসান মামলার তদন্ত সম্পর্কে কমিশনার বলেন, হলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশে একটি বড় ঘটনা। আমরা এই মামলার রহস্য উন্মোচন করেছি। মামলার অধিকাংশ আসামি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে। আর এই ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে চার্জশিট দেয়া হবে।
ভাস্কর্য ‘দীপ্ত শপথ’ উদ্বোধনের পর একে একে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন, নিহতদের পরিবার, গুলশান বিভাগের পুলিশ, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ, ডিবি, গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটি, থানা কমিউনিটি পুলিশ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন স্তরের সাধারণ জনগণ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে সকালে হলি আর্টিসান বেকারিতে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ডিএমপি কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপান, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতরা।






















