শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৯০, ১৯৯৮ ও ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। তিনবারই হেরেছিল তারা।
ফলে ইতিহাস গড়েই রাশিয়া বিশ্বকাপে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে জায়গা করে নেয় ইংলিশরা।
পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে টাইব্রেকারে এই প্রথম জয় পায় সাউথগেটের শিষ্যরা। এবার তাই শঙ্কা ছিল সমর্থকদের মনে। তবে এবার আর তালগোল পাকায়নি সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। শুধু কি তাই ১৯৬৬ সালের পরে ইংল্যান্ড ফুটবলের বড় কোনো আসরে সপ্তমবারের মতো শেষ আটে ওঠার কৃতিত্ব এটি।
টাইব্রেকারে প্রথম শটটি নেন উভয় দলের দুই অধিনায়ক ফ্যালকাও এবং হ্যারি কেন। শট দুটি থেকে উভয়েই গোল করেন। দ্বিতীয় শট থেকে গোল আদায় করে নেন কলম্বিয়ার কুয়াদ্রাদো ও ইংল্যান্ডের র্যাশফোর্ড। তৃতীয় শটে কলম্বিয়ার লুইস মুরিয়েল গোল পেলেও ইংল্যান্ডের হেন্ডারসনের শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন অসপিনা।

চতুর্থ শটে কলম্বিয়ার উরিবের জোরালো শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে। আর ইংল্যান্ডের ট্রিপিয়ার গোল করে ফেরান সমতা। কলম্বিয়ার হয়ে কার্লোস বাক্কার পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। আর শেষ শটে মাথা ঠাণ্ডা রেখে আসপিনাকে বোকা বানিয়ে ইংল্যান্ডকে শেষ আটে তোলেন এরিক ডায়ার।
রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় লড়াইয়ে নামে ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়া। গুরুত্বপূর্ণ এমন ম্যাচে কলম্বিয়ার একাদশে ছিলেন না তারকা হামেস রদ্রিগেজ। চোটের কারণে আগে থেকেই এ মিডফিল্ডারের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তিনি থাকলে হয়তো অন্যকিছু হতে পারতো।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে কোন দলই প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি। গোল না পেলেও । বরং মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষি। এমনই এক ঘটনায় জর্ডান হেন্ডারসনকে মাথা দিয়ে হালকা গুতো মেরে হলুদ কার্ড দেখেই পার পেয়ে যান কলম্বিয়ার উইলমার বাররিওস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের সন্ধানে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ৫৭ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর হ্যারি কেনের ওপর অযথা চড়াও হয়ে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি উপহার দেন কলম্বিয়ার কার্লোস সানচেজ। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় এবারের বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন। পেনাল্টি থেকে বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেন।

গোল শোধে একের পর এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নামাতে থাকেন কলম্বিয়ান কোচ হোসে পেকারম্যান। সুফল পায় তারা। ম্যাচের এক পর্যায়ে পুরো মাঝমাঠ নিজেদের দখলে নিয়ে আক্রমণ বাড়াতে থাকে ফ্যালকাওর দল। ৮১ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন মোনাকোর এই স্ট্রাইকার। কিন্তু তার হেড ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্যালকাও দূরপাল্লার দুর্বল শট কেবল হতাশাই বাড়ায় কলম্বিয়ার।
ম্যাচে সবাই যখন ইংল্যান্ডের জয় দেখছিল ঠিক সেই সময় নাটকীয় এক গোল করেন বার্সেলোনায় খেলা ইয়ারি মিনা। রেফারির দেয়া অতিরিক্ত চার মিনিট শেষ হতে মাত্র এক মিনিট বাকি। তখনই কর্নার পায় কলম্বিয়া। ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে তখনও এগিয়ে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টারের স্বপ্নবোনা ইংলিশদের হতাশ করে কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে কলম্বিয়াকে ১-১ গোলে সমতায় আনেন ডিফেন্ডার ইয়ারি মিনা।

মিনা তার এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে দু’টি রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি গোলই সর্বোচ্চ। এছাড়া মিনার এই আসরে সবকটি গোলই হেডের মাধ্যমে এসেছে। এটিও বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ডিফেন্ডার হিসেবে ৩ গোল করে মিনা ভাগ বসিয়েছেন জার্মানির পল ব্রেইটনারের সঙ্গে। ব্রেইটনার ১৯৭৪ বিশ্বকাপে রক্ষণভাড়ের ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ তিনটি গোল করে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছিলেন।
আর হাত কিংবা পা নয় হেডে গোল দিতে পটু মিনা মাথা দিয়ে তিনটি গোল করে আরেক জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৬টি) ক্লোসা ২০০২ সালে হেডের মাধ্যমে ৩টি গোল করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরে কিন্তু স্কোরলাইন আর বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গিয়ে নিজেদের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টারে তারা আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় সামারা অ্যারেনায় সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
























