ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। গুটিকয়েক ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করলেও অনেকে বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেয়নি। তারা সময়মতো সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেবেন। আবার কোনো কোনো ব্যাংক সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে নানা ফাকফোকরে আদায় করছে বিভিন্ন খরচ। এতে সুদহারের পূর্বতন অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এদিকে এই কালক্ষেপনের মধ্যে কোনো কোন ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার যেন বাস্তবায়িত না হয় সে লক্ষ্যেও কাজ করছে বলে জানা গেছে।
তবে সব ব্যাংকে ঋণ সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তমা গ্রুপের চেয়ুারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ব্যাংক মালিকরা মেনে নেবে বলে আমি আশাবাদী। অনেকে উচ্চহারে আমানত সংগ্রহ করে। এখন অধিকহারে গৃহিত ঋণ সমন্বয় করে সিঙ্গেল ডিজিটে সরবরাহ করতে সময় লাগবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋণের সুদহার কমাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জন্য সব ধরনের নীতিসহায়তা দিয়েছে। ভবিষ্যতেও দেবে। ১ জুলাই থেকে সুদহার কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যে কার্যকর করেছে। কিছু ব্যাংকের সময় লাগতে পারে।
সুদহার না কমানোর কোনো সুযোগ নেই। সবাইকেই কমাতে হবে। আশা করি দ্রুত এ সিদ্ধান্ত সব ব্যাংক কার্যকর করবে। জানা যায়, সরকারি খাতের সোনালী, অগ্রণী, জনতা ব্যাংক আমানত ও ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। এর মধ্যে জনতা ও সোনালী ব্যাংক প্রায় সব ধরনের সুদের ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে এনেছে। আমানতের সুদের হারও তারা কমিয়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত রেখেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই হার ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। সরকারি খাতের কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক অচিরেই ঋণের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেবে, যা কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকেই। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি, আল-আরাফাহ্, সিটি, এশিয়া, ব্র্যাক, ইস্টার্ন, প্রাইম, মধুমতিসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। তবে তারা সবক্ষেত্রে এই হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনেনি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক সুদের নতুন হার ৩ জুলাই থেকে কার্যকর করেছে।
তারা কৃষিঋণ ছাড়া সব ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের উপরে রেখেছে। এই হার আগে থেকেই ৯ শতাংশ রয়েছে। তারা মেয়াদি শিল্প ঋণের সুদের হার ভালো গ্রাহকদের জন্য সাড়ে ৯ থেকে ১২ শতাংশ এবং অন্য গ্রাহকদের জন্য ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, চলতি মূলধন বড় শিল্পে ৯ থেকে ১২ শতাংশ, মাঝারি শিল্পে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্পে সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। হাউজিং খাতে তারা সুদের হার রেখেছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। ব্যাংক এশিয়া শিল্প ঋণের সুদের হার সাড়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং চলতি মূলধনে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। অন্যান্য ঋণে সুদের হার আরও বেশি রেখেছে। ব্র্যাক ব্যাংক ৩ জুলাই থেকে আমানতের নতুন হার কার্যকর করেছে। তারা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ সুদ দেবে ৮ শতাংশ। সুদের হারও কমিয়ে আনবে, তবে এখনও ঘোষণা দেয়া হয়নি।
ইস্টার্ন ব্যাংক ২ জুলাই থেকে আমানতের সুদের হার কমিয়ে সর্বনিম্ন ২ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। অচিরেই তারা ঋণের সুদের হারও কমানোর ঘোষণা দেবে। আইএফআইসি ব্যাংক ২৮ জুন ঋণ ও আমানতের নতুন সুদহার নির্ধারণ করে । তারা কৃষিঋণ ও রফতানি ঋণ ছাড়া বাকি সব ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের উপরে রেখেছে। এর মধ্যে মেয়াদি ঋণ, চলতি মূলধন, বাণিজ্য ঋণ, গৃহঋণের সুদের হার সাড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ রেখেছে। ভোক্তাঋণের ১৩ শতাংশ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ২৪ শতাংশ রেখেছে। প্রাইম ব্যাংক ৫ জুলাই থেকে নতুন সুদহার কার্যকর করেছে। তারা আমানতের সুদহার সর্বনিু ২ থেকে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ করেছে। ঋণের মধ্যে কৃষি, মসলা, রফতানি খাতে সুদহার ৬ থেকে ৯ শতাংশ, যা আগের অবস্থানেই রয়েছে। এছাড়া রফতানিমুখী শিল্প খাতে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ, মধ্যম মানের শিল্প খাতে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্পে সাড়ে ১৩ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে।


























