বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির জনবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোসাইটির একজন পরিচালক তাঁর ই-মেইল থেকে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে সোসাইটির ডিসিআরএম বিভাগের জিআরআইপি প্রকল্পের স্কিল ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী সৈয়দ আতাউর রহমান হলে বসে প্রশ্ন ও পূর্বে তৈরীকৃত উত্তরপত্র বের করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখতে থাকেন। এসময় পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপ-মহাসচিব সুলতান আহমেদ ও সহকারী পরিচালক ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সৈয়দ আতাউর রহমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র জব্দ করেন।
জব্দকৃত প্রশ্নপত্রটি কমিটির আহবায়কের কাছে জমা দিলে তিনি বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখেন যে, জব্দকৃত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রটি সোসাইটির পরিচালক (যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ) ইমাম জাফর শিকদারের ই-মেইল থেকে পরীক্ষার্থী সৈয়দ আতাউর রহমানের ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে পরীক্ষার প্রশ্নে সঙ্গে জব্দকৃত প্রশ্নের শতভাগ মিল রয়েছে।
পরে এই ঘটনায় গত ১৪ মে সোসাইটির বোর্ড মেম্বার মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে আহবায়ক এবং বোর্ড মেম্বার মুন্সী কামরুজ্জামান কাজল, এডভোকেট সোহানা তাহমিনা, গাজী মোজ্জামেল হক ও অডিট বিভাগের পরিচালক তৌহিদুর রহমানকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আযম। এই কমিটিকে ঘটনা তদন্ত করে সুপারিশসহ চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত পরিচালক (যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ) ইমাম জাফর শিকদার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়। তিনি বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ট আত্মীয়। তিনি বরিশাল বিএল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। সোসাইটির সবার কাছে তিনি একজন আপদমস্তক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
নামপ্রকাশে অনইচ্ছুক সোসাইটির একজন বোর্ড মেম্বার জানান, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন ইমাম জাফর শিকদার। এছাড়াও বিল-ভাউচার ছাড়াই তিনি সোসাইটির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে নিয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর যাবৎ তিনি এখানে চাকুরি করছেন। এরআগে সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান বরাবর তাঁর বিরুদ্ধে সেক্সচুয়াল হেরাজমেন্ট ও দুর্নীতির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
একাধিক সুত্র জানায়, পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার সোসাইটিতে দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে স্ব-নামে, বে-নামে ঠিকাদারী ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর ঠিকাদারী দুটি ফার্মের নাম হলো- প্রগ্রেসিভ ও ফারহান ইঞ্জিনিয়ারিং। যার মাধ্যমে সোসাইটিতে ঠিকাদারী, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই কর্মকর্তা।
পরিচালক ইমাম জাফর শিকদারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সোসাইটির পরিচালক (যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ) ইমাম জাফর শিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আযম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনা তদন্ত করে সুপারিশসহ চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।





















