কর্মজীবনের শুরুতে একটি চায়ের দোকানের মালিক ছিল সে। এরপর শুরু করে মাদকের ব্যবসা। তবে ফেনসিডিলের ব্যবসা তার ২যুগ আগে থেকেই শুরু। এখন ইয়াবা ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে সে। আর এসব করেই কয়েক বছরে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছে সে।
সে হলো যশোর জেলার শার্শা উপজেলার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের বক্সের বড় ছেলে জয়নাল বক্স। শার্শার নাভারন বাজারের সোনালী সিনেমা হল চত্তরে চায়ের দোকান দেয় জয়নাল বক্স সহ তার ৪ সহদর ভাই। তখন সিনেমা হলের ব্যবসা রমরমা। এ সুযোগে ফেনসিডিল ব্যবসার আখড়া খুলে বসে।
সিনেমা হলের ব্যবসা হ্রাস নামলে জয়নাল বক্স আখড়ার জায়গা পাল্টিয়ে নতুন আখড়া গড়ে তোলে নাভারন আনসার ব্যাটালিয়ন সদর এলাকায়। আর ফিরে তাকাতে হয়নি পিছনে। মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। অল্প দিনে বনে যায় কোটিপতি। গড়ে তোলে আলিশান বাড়ি। শতাধিক বিঘা জমির মালিকও বনে যান। নাভারন ব্যাটালিয়ন সদরের পাশে কয়েক কোটি টাকার জমি ক্রয় করে মার্কেট সহ সিনেমা হল নির্মাণ করে।
ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তার বাড়িতে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিল সহ তাদেরকে আটক করে। মাদক আইনে মামলাও হয় কয়েকটি।
দেশে মরন নেশা ইয়াবা’র প্রচলন ঘটার শুরুতে মাদকের আড়তদার বনে যায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল। যেমন তার মাদকের স্পট বাড়তে থাকে তেমনি বাড়তে থাকে মামলার পরিধিও। বড় বড় মাদকের চালান সহ আটক হয় তার ইয়াবা বহনকারী সদস্যরা। মামলাও হয় একের পর এক। বর্তমানে জয়নাল বক্সের নামে ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া আরো ৯টি মামলায় মাদক সহ ধৃতদের শিকারুক্তিতে অভিযুক্ত রয়েছে।
শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের ইনসাফ মোড়ল বলেন, জয়নাল দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবারে জড়িত হয়ে এলাকাটাকে দূষিত করে তুলেছে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে আটক করতে পারছে না।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু মহাদয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ভাবতেও পারিনা, এতোগুলো মামলা মাথায় নিয়ে কুখ্যাত এ মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কিভাবে ঘুরছে। তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে এলাকার যুব সমাজ ধংস হয়ে যাবে।


























