০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

কৃষি খাতে অবদানে এআইপি খেতাবে ভূষিত হলেন এম এ মতিন

২০২১ সালের এআইপি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দির উপজেলার আদমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃতি সন্তান অধ্যাপক এম এ মতিন (মতিন সৈকত)।

জানা গেছে, তিনি চার দশক ধরে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে বৈপ্লবিক অবদান রাখছেন। কৃষি উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি বিভাগে মতিন সৈকত-কে এআইপি সন্মানা দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়। ৭ জুলাই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মতিন সৈকত সহ অনান্য এআইপিদের সন্মাননা সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

সাধারনত কৃষিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়ার জন্য ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি’র সমমর্যাদায় Agricultural Important Person এআইপি প্রবর্তন করেন সরকার।

এআইপিগণ সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে- মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাশ, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ, বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার, ব্যবসা/দাফতরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে Letter of Introduction ইস্যু করবে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সুবিধা পাবেন।

মতিন সৈকত একজন বহুমুখী সৃজনশীল উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যবহার এবং সম্প্রসারণে অবদানের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মতিন সৈকতকে দুবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মতিন সৈকত ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মতিন সৈকত নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মতিন সৈকত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তোলেন আপুসি, আপুবি, বিসমিল্লাহ, আদমপুর আদর্শ মৎস্য চাষ প্রকল্প।

প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষে দাউদকান্দি মডেল এবং নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম অংশীজন তিনি। সারা দেশে বোরো ধান উৎপাদন করতে সেচের পানির জন্য কৃষককে যখন ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ খরচ দিতে হয়, সেখানে মতিন সৈকত বিঘাপ্রতি এককালীন মৌসুমব্যাপী মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ত্রিশ বছর যাবৎ বোরো ধান লাগানো থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত যার যতবার সেচের পানির প্রয়োজন ততবারই সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

বোরো জমিতে ধান উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে বিঘাপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন কৃষক। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার কালাডুমুর নদী পুনঃখনন করেছেন।

মতিন সৈকত খাল-নদী পুনঃখনন, জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্য প্রাণী, পাখি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, এই অধ্যাপক নিজ এলাকা দাউদকান্দি কুমিল্লায় ২০০৬ সালে ১০ হাজার কৃষক নিয়ে আইপিএম-আইসিএম ক্লাব গঠন করেন। তার এ উদ্যোগের ফলে ২০১৭ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।’

 

দাউদকান্দির গর্বিত সন্তান এম এ মতিন মহোদয়কে কৃষি খাতে অবদানের জন্য (এআইপি) ঘোষণা করায় দাউদকান্দি উপজেলা ডিজিটাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

ট্যাগ :

কৃষি খাতে অবদানে এআইপি খেতাবে ভূষিত হলেন এম এ মতিন

প্রকাশিত : ০৪:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

২০২১ সালের এআইপি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দির উপজেলার আদমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃতি সন্তান অধ্যাপক এম এ মতিন (মতিন সৈকত)।

জানা গেছে, তিনি চার দশক ধরে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে বৈপ্লবিক অবদান রাখছেন। কৃষি উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি বিভাগে মতিন সৈকত-কে এআইপি সন্মানা দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়। ৭ জুলাই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মতিন সৈকত সহ অনান্য এআইপিদের সন্মাননা সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

সাধারনত কৃষিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়ার জন্য ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি’র সমমর্যাদায় Agricultural Important Person এআইপি প্রবর্তন করেন সরকার।

এআইপিগণ সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে- মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাশ, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ, বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার, ব্যবসা/দাফতরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে Letter of Introduction ইস্যু করবে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সুবিধা পাবেন।

মতিন সৈকত একজন বহুমুখী সৃজনশীল উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যবহার এবং সম্প্রসারণে অবদানের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মতিন সৈকতকে দুবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মতিন সৈকত ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মতিন সৈকত নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মতিন সৈকত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তোলেন আপুসি, আপুবি, বিসমিল্লাহ, আদমপুর আদর্শ মৎস্য চাষ প্রকল্প।

প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষে দাউদকান্দি মডেল এবং নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম অংশীজন তিনি। সারা দেশে বোরো ধান উৎপাদন করতে সেচের পানির জন্য কৃষককে যখন ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ খরচ দিতে হয়, সেখানে মতিন সৈকত বিঘাপ্রতি এককালীন মৌসুমব্যাপী মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ত্রিশ বছর যাবৎ বোরো ধান লাগানো থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত যার যতবার সেচের পানির প্রয়োজন ততবারই সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

বোরো জমিতে ধান উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে বিঘাপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন কৃষক। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার কালাডুমুর নদী পুনঃখনন করেছেন।

মতিন সৈকত খাল-নদী পুনঃখনন, জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্য প্রাণী, পাখি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, এই অধ্যাপক নিজ এলাকা দাউদকান্দি কুমিল্লায় ২০০৬ সালে ১০ হাজার কৃষক নিয়ে আইপিএম-আইসিএম ক্লাব গঠন করেন। তার এ উদ্যোগের ফলে ২০১৭ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।’

 

দাউদকান্দির গর্বিত সন্তান এম এ মতিন মহোদয়কে কৃষি খাতে অবদানের জন্য (এআইপি) ঘোষণা করায় দাউদকান্দি উপজেলা ডিজিটাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।