পরিবেশ রক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবুজ মনের মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি এনে দেয়। তাই সবাইকে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ির আশেপাশে পরিত্যাক্ত জায়গাতেও গাছ লাগাতে হবে।
রাজধানী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার সকালে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, সড়ক, অফিস-আদালতের যেখানে পরিত্যক্ত জায়গা আছে, সেখানেই গাছ লাগতে হবে। বনজ, ফলজ ও ভেষজ এই তিন ধরণের গাছ লাগান। তাহলে আমরা দেশে ও পরিবেশ রক্ষা করতে পারবো। পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এবং দেশ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছি। সামাজিক বনায়ন গড়ে তুলতে আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ করবে। আমরা সেটা করে চলেছি।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্য মেলার মাঠে সাত দিন পরিবেশ মেলা এবং মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা চলবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ ও বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার এবং সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য প্রতি বছর বিশ্বে ৫ জুন পরিবেশ দিবস পালিত হয়। এ বছর রোজা থাকায় দেশে পরিবেশ দিবসের আয়োজন পেছানো হয়। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, না পারলে বর্জন করি’।
‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা শুরু হলো। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ বীর শহীদের স্মৃতির সম্মানে সারাদেশে একযোগে ৩০ লাখ গাছের চারা লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাতে-মাছে বাঙ্গালি। বাংলাদেশ আগেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এবার মাছেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। মাছের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাংলাদেশকে প্রকৃত ভাতে-মাছে বাঙালী করে তুলেছে। তবে আমাদের আরো বেশি মাছ উৎপাদন করতে হবে।
তিনি মাছ উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, মাছ উৎপাদন করতেই হবে। এজন্য খাল-বিলের সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। খাল ভরাট হয়ে আসছিল। নৌ পথ হারিয়ে যাচ্ছিল, তা ড্রেজিং করে নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি।
সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘৭৫ পরবর্তী সরকাররা রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বনাঞ্চল সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। আমরা সরকারে আসার পর রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও ডলফিন সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নিয়েছি।
বনাঞ্চল রক্ষায় ১৯টি উপকূলীয় এলাকায় সবুজায়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা, সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এতে সুন্দরবনসহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলো সংরক্ষিত হবে।






















