০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফোরজি নিলামে বিটিআরসির আয় বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা ফোরজি প্রযুক্তির (এলটিই) নিলামে ভর করে আয় বেড়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি)। গত অর্থবছর কমিশন আয় করেছে প্রায় ছয় হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের দেড় গুণের বেশি। এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আয় হিসেবে সরকারি কোষাগারে প্রতিষ্ঠানটি জমা দিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিটিআরসির সূত্রমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিটিআরসি’র আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৬০ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় হয়েছিল প্রায় চার হাজার ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৩৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে ওই অর্থবছর আয় হয়েছে প্রায় ছয় হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিটিআরসির উল্লেখযোগ্য আয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং ও স্পেকট্রাম চার্জ। এসব সেবার জন্য প্রাপ্য ফি বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ছয় হাজার ৩৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মূলত ফোরজি নিলামের সুবাদে এ আয় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফলেই বিটিআরসি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দেশে প্রযুক্তি খাতের নিত্যনতুন সেবা প্রদান বাড়ায় বিটিআরসির আয় বাড়ছে। দেশে এখন ফোরজি প্রযুক্তি চালু হয়েছে।

সামনে ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করা হলে অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতে উন্নত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ই-কমার্স খাতে অনেক তরুণ-তরুণী কাজ করছে। একমাত্র প্রযুক্তির মাধ্যমেই এগুলো সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারসহ বিভিন্নভাবে কল আসায় বিটিআরসির আয় একটু কমে গেছে। আমরা আয় বাড়াতে তৎপর, ভবিষ্যতে আমাদের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে।’ বিটিআরসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ১৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছিল চার হাজার ২০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ওই সময় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ছয় কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যদিও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় কমে যায় প্রায় ১৪১ কোটি টাকা। ২০০১-০২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার কোটি ২৬ লাখ টাকা, যেখানে রাজস্ব আদায় হয়েছিল তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময় লক্ষ্যমাত্রা কমে যায় প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি সেই সময়ের পর থেকেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড গড়ে। যদিও এর পরবর্তী সময় এক যুগ পর, অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে প্রতিষ্ঠানটি সে বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সাত হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় করেছিল প্রায় দুই হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এই দুই বছর ছাড়া বাকি সব অর্থবছরেই তাদের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

২০০২-০৩ অর্থবছরে ৮৯ কোটির বিপরীতে ১২০ কোটি সাত লাখ টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৯১ কোটির বিপরীতে ১৪৭ কোটি ৮৫ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ২৭০ কোটির বিপরীতে ৩৫৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা আয় হয়। এছাড়া ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪৪৯ কোটি ২৫ লাখের বিপরীতে ৭৩৫ কোটি ৭০ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৫১২ কোটি ৩১ লাখের বিপরীতে ৫৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা আয় করে বিটিআরসি। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক হাজার ৫০১ কোটি ৯২ লাখের বিপরীতে এক হাজার ৬৭৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দুই হাজার ৫৪৭ কোটি ৬৮ লাখের বিপরীতে আয় করে তিন হাজার ১৯৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দুই হাজার ১৩৫ কোটি ৩৫ লাখের বিপরীতে দুই হাজার ৩৭০ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই হাজার ৫৫৬ কোটি ৭৪ লাখের বিপরীতে আয় করে তিন হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

২০১১-১২ অর্থবছরে ছয় হাজার ৩০২ কোটির বিপরীতে ছয় হাজার ৯৫৭ কোটি ৭০ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ১৫৯ কোটি ৩২ লাখের বিপরীতে পাঁচ হাজার ৪০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অর্জিত হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ৯ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার বিপরীতে রাজস্ব আয় করে ১০ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকার বিপরীতে কমে যায় চার হাজার ২১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চার হাজার ১৮১ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আয় হয় চার হাজার ২০৮ কোটি টাকা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

ফোরজি নিলামে বিটিআরসির আয় বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

প্রকাশিত : ১০:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা ফোরজি প্রযুক্তির (এলটিই) নিলামে ভর করে আয় বেড়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি)। গত অর্থবছর কমিশন আয় করেছে প্রায় ছয় হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের দেড় গুণের বেশি। এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আয় হিসেবে সরকারি কোষাগারে প্রতিষ্ঠানটি জমা দিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিটিআরসির সূত্রমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিটিআরসি’র আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৬০ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় হয়েছিল প্রায় চার হাজার ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ৩৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে ওই অর্থবছর আয় হয়েছে প্রায় ছয় হাজার ৪৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিটিআরসির উল্লেখযোগ্য আয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং ও স্পেকট্রাম চার্জ। এসব সেবার জন্য প্রাপ্য ফি বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ছয় হাজার ৩৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মূলত ফোরজি নিলামের সুবাদে এ আয় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফলেই বিটিআরসি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া দেশে প্রযুক্তি খাতের নিত্যনতুন সেবা প্রদান বাড়ায় বিটিআরসির আয় বাড়ছে। দেশে এখন ফোরজি প্রযুক্তি চালু হয়েছে।

সামনে ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করা হলে অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতে উন্নত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ই-কমার্স খাতে অনেক তরুণ-তরুণী কাজ করছে। একমাত্র প্রযুক্তির মাধ্যমেই এগুলো সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারসহ বিভিন্নভাবে কল আসায় বিটিআরসির আয় একটু কমে গেছে। আমরা আয় বাড়াতে তৎপর, ভবিষ্যতে আমাদের রাজস্ব আয় অব্যাহত থাকবে।’ বিটিআরসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ১৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি আয় করেছিল চার হাজার ২০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

ওই সময় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ছয় কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যদিও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় কমে যায় প্রায় ১৪১ কোটি টাকা। ২০০১-০২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার কোটি ২৬ লাখ টাকা, যেখানে রাজস্ব আদায় হয়েছিল তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময় লক্ষ্যমাত্রা কমে যায় প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি সেই সময়ের পর থেকেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড গড়ে। যদিও এর পরবর্তী সময় এক যুগ পর, অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে প্রতিষ্ঠানটি সে বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সাত হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় করেছিল প্রায় দুই হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এই দুই বছর ছাড়া বাকি সব অর্থবছরেই তাদের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

২০০২-০৩ অর্থবছরে ৮৯ কোটির বিপরীতে ১২০ কোটি সাত লাখ টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৯১ কোটির বিপরীতে ১৪৭ কোটি ৮৫ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ২৭০ কোটির বিপরীতে ৩৫৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা আয় হয়। এছাড়া ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪৪৯ কোটি ২৫ লাখের বিপরীতে ৭৩৫ কোটি ৭০ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৫১২ কোটি ৩১ লাখের বিপরীতে ৫৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা আয় করে বিটিআরসি। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক হাজার ৫০১ কোটি ৯২ লাখের বিপরীতে এক হাজার ৬৭৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দুই হাজার ৫৪৭ কোটি ৬৮ লাখের বিপরীতে আয় করে তিন হাজার ১৯৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দুই হাজার ১৩৫ কোটি ৩৫ লাখের বিপরীতে দুই হাজার ৩৭০ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই হাজার ৫৫৬ কোটি ৭৪ লাখের বিপরীতে আয় করে তিন হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

২০১১-১২ অর্থবছরে ছয় হাজার ৩০২ কোটির বিপরীতে ছয় হাজার ৯৫৭ কোটি ৭০ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ১৫৯ কোটি ৩২ লাখের বিপরীতে পাঁচ হাজার ৪০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অর্জিত হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ৯ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার বিপরীতে রাজস্ব আয় করে ১০ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকার বিপরীতে কমে যায় চার হাজার ২১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চার হাজার ১৮১ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আয় হয় চার হাজার ২০৮ কোটি টাকা।