০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন

৩ দফায় মন প্রতি ৬০ টাকা মুল্যবৃদ্ধি, আখচাষে ফিরছে কৃষকরা

oplus_2

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারিশিল্প মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ইক্ষু গবেষণা বিভাগের পরিচালক এবং যুগ্ন সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম তাং। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম আলোচনা সভার সভাপতিত্বে করেন।

চলতি মাড়াই মৌসুমে ৫০ দিনে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চিনি আহরণের গড় ধরা হয়েছে ৫.৪০ শতাংশ। এবছর মিলে প্রতিমন আখের দাম ধরা হয়েছে ২৪০ টাকা।

২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে ৪০ দিনে ৪৯ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৮৭০ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। ওই বছর চিনি আহরণের গড় ছিল ৩.৮০ শতাংশ। প্রতিমন আখের দাম ছিল ২২০ টাকা। এর আগের বছর ২০২২-২৩ মৌসুমে আখের মন ছিল ১৮০ টাকা।

মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মন্ডল জানান, মাড়ায়ের জন্য মাঠে দন্ডায়মান আখ রয়েছে ৪ হাজার ১০ একর। লতি মাড়াই মৌসুমে আখ রোপন ও চিনি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আখের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর কৃষকরা আখচাষে ঝুকছেন বলেও যোগ করেন এ কর্মকর্তা। চলতি রোপন মৌসুমে সাড়ে ৫ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষকরা ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখচাষ করতো। নানা প্রতিকূল পরিবেশ এবং অল্প সময়ে ফুল ফলসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ হওয়ায় কমে গিয়েছিল আখচাষ। তবে গত তিন মৌসুমে পর্যায়ক্রমে আখের দাম বৃদ্ধি করায় আবার আখচাষে ফিরছেন কৃষকরা।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭.৯৩ একর নিজস্ব জমির উপর নেদারল্যান্ড সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে। এরমধ্যে ২০.৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮.২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কলোনী, ২৩.৯৮ একর পুকুর এবং ১০৭ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার। এছাড়া ১৮.১২ একর জমিতে জুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয় কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-১৯৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা ছাড়াও যশোরের দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলে আটটি জোনের আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ একর। আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি।

ডিএস//

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন

৩ দফায় মন প্রতি ৬০ টাকা মুল্যবৃদ্ধি, আখচাষে ফিরছে কৃষকরা

প্রকাশিত : ০৬:২০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারিশিল্প মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মিলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ইক্ষু গবেষণা বিভাগের পরিচালক এবং যুগ্ন সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম তাং। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম আলোচনা সভার সভাপতিত্বে করেন।

চলতি মাড়াই মৌসুমে ৫০ দিনে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চিনি আহরণের গড় ধরা হয়েছে ৫.৪০ শতাংশ। এবছর মিলে প্রতিমন আখের দাম ধরা হয়েছে ২৪০ টাকা।

২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে ৪০ দিনে ৪৯ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১ হাজার ৮৭০ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। ওই বছর চিনি আহরণের গড় ছিল ৩.৮০ শতাংশ। প্রতিমন আখের দাম ছিল ২২০ টাকা। এর আগের বছর ২০২২-২৩ মৌসুমে আখের মন ছিল ১৮০ টাকা।

মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার মন্ডল জানান, মাড়ায়ের জন্য মাঠে দন্ডায়মান আখ রয়েছে ৪ হাজার ১০ একর। লতি মাড়াই মৌসুমে আখ রোপন ও চিনি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আখের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর কৃষকরা আখচাষে ঝুকছেন বলেও যোগ করেন এ কর্মকর্তা। চলতি রোপন মৌসুমে সাড়ে ৫ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগে প্রতি মৌসুমে মিল এলাকার কৃষকরা ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখচাষ করতো। নানা প্রতিকূল পরিবেশ এবং অল্প সময়ে ফুল ফলসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ হওয়ায় কমে গিয়েছিল আখচাষ। তবে গত তিন মৌসুমে পর্যায়ক্রমে আখের দাম বৃদ্ধি করায় আবার আখচাষে ফিরছেন কৃষকরা।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৭.৯৩ একর নিজস্ব জমির উপর নেদারল্যান্ড সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে। এরমধ্যে ২০.৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮.২২ একর জমিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কলোনী, ২৩.৯৮ একর পুকুর এবং ১০৭ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার। এছাড়া ১৮.১২ একর জমিতে জুড়ে রয়েছে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয় কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ১৯৬৭-১৯৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করে। ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা ছাড়াও যশোরের দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত মিলে আটটি জোনের আওতায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ একর। আখ ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৪৮টি।

ডিএস//