০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী সমিতি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতার উপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন করেছে। সকালে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মোঃ আতাউল্লাহসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি। সংবাদ সম্মেলন করার পর দুপুরে আদালত ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ। আইনজীবী সমিতি ভবনে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মো. ইউনুছ সরকার জানান, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য বি.এম. ফরহাদ হোসেনের ঘনিষ্টজন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খোকনকে সোমবার জামিন করান।

চট্টগ্রাম আদালতে দায়ের হওয়া মামলার উপনথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এনে বিচারককে চাপ প্রয়োগ করে জামিন করিয়েছেন। যা নজিরবিহীন ঘটনা। এরপর কসবার একটি পারিবারিক সালিশ করার জন্য বাদী পক্ষের হয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুলের কক্ষে যান জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মোঃ আতাউল্লাহ, জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ ও সদর উপজেলা সংগঠক হাসান নাসিমুল রাসেল। তবে বিলম্বজণিত কারণে ঐ দিন সালিশ না হবার কথা জানানো হয়। কিন্তু আতাউল্লাহসহ তার সাথে থাকা অন্যান্যরা ওইদিনই সালিশ করতে আইনজীবীদের সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। একপর্যায়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে হওয়া টানা হেচঁরার সময় টেবিলের গ্লাসে লেগে পড়ে গিয়ে আহত হন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ফেসবুকে লাইভ করে অপপ্রচার চালানো শুরু করে তারা।

এদিকে দুপুরে পৌর এলাকার কাউতলীর সড়ক ভবনের সামনে থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শেষ হয়। সেখানে তারা মফিজুর রহমান বাবুলকে জেলা আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে শ্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ তাদেরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফটকে আটকে দেয়। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে সার্কিট হাউজের ভেতরের রাস্তা দিয়ে আবার আদালত প্রাঙ্গনে প্রবেশের চেষ্টা করে। সেখানেও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন জানান, আদালত এলাকায় বিক্ষোভ কিংবা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। বিক্ষোভকারীদেরকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে পুলিশ সতর্ক আছে। মারামারির ঘটনায় অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদকের কক্ষে এক মামলা সালিশ সভায় বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে আইনজীবীদেও হামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ, জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ ও উপজেলা সংগঠক হাসান নাছিমুল রাসেল আহত হয় । খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী সমিতি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

প্রকাশিত : ০৬:২৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতার উপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতি ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালন করেছে। সকালে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মোঃ আতাউল্লাহসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতি। সংবাদ সম্মেলন করার পর দুপুরে আদালত ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ। আইনজীবী সমিতি ভবনে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মো. ইউনুছ সরকার জানান, জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য বি.এম. ফরহাদ হোসেনের ঘনিষ্টজন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খোকনকে সোমবার জামিন করান।

চট্টগ্রাম আদালতে দায়ের হওয়া মামলার উপনথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এনে বিচারককে চাপ প্রয়োগ করে জামিন করিয়েছেন। যা নজিরবিহীন ঘটনা। এরপর কসবার একটি পারিবারিক সালিশ করার জন্য বাদী পক্ষের হয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুলের কক্ষে যান জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মোঃ আতাউল্লাহ, জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ ও সদর উপজেলা সংগঠক হাসান নাসিমুল রাসেল। তবে বিলম্বজণিত কারণে ঐ দিন সালিশ না হবার কথা জানানো হয়। কিন্তু আতাউল্লাহসহ তার সাথে থাকা অন্যান্যরা ওইদিনই সালিশ করতে আইনজীবীদের সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। একপর্যায়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে হওয়া টানা হেচঁরার সময় টেবিলের গ্লাসে লেগে পড়ে গিয়ে আহত হন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ফেসবুকে লাইভ করে অপপ্রচার চালানো শুরু করে তারা।

এদিকে দুপুরে পৌর এলাকার কাউতলীর সড়ক ভবনের সামনে থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শেষ হয়। সেখানে তারা মফিজুর রহমান বাবুলকে জেলা আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে শ্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ তাদেরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফটকে আটকে দেয়। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে সার্কিট হাউজের ভেতরের রাস্তা দিয়ে আবার আদালত প্রাঙ্গনে প্রবেশের চেষ্টা করে। সেখানেও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন জানান, আদালত এলাকায় বিক্ষোভ কিংবা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। বিক্ষোভকারীদেরকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে পুলিশ সতর্ক আছে। মারামারির ঘটনায় অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদকের কক্ষে এক মামলা সালিশ সভায় বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে আইনজীবীদেও হামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ, জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ ও উপজেলা সংগঠক হাসান নাছিমুল রাসেল আহত হয় । খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস