০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টঙ্গির ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষ, নিহত ৩, আহত শতাধিক, গণ বিজ্ঞপ্তি জারি

টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা জুবায়ের ও সাদ পন্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যে রাত থেকে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক আহত এবং তিন মুসুল্লীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত তিনজন উভয় পক্ষের সাথি ভাই দাবী করছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপ-কমিশনার (ডিসি-টঙ্গী জোন) এন এম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বুধবার ভোর রাত ৩ টা থেকে ইজতেমা মাঠ দখলে নেওয়ার চেষ্টাা করলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের হয়।

এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মোঃ নাজমুল করিম খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলো মিটার এলাকায় (জিএমপি) আইন ২০১৮ এর ৩০ ও ৩১ ধারা মেনে চলার গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দু গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৭০), বগুড়া জেলার তাইদুল ইসলাম (৬৫), ও রাজধানীর দক্ষিন খান (বেড়াইদ এলাকার) আব্দুস সামাদের ছেলে বেলাল হোসেন (৬০)। তাদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আনার পর নিহত হয়। রাজধানীর দক্ষিন খান (বেড়াইদ এলাকার) বেলালকে ঢাকায় নেয়ার পথে নিহত হয়।

আহতরা হলো ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আব্দুর রউফ (৫৫), ময়মনসিংহের মজিবুর রহমান (৫৮), গাজীপুরের আব্দুল হান্নান (৬০), টঙ্গীর জহুরুল ইসলাম (৩৮), প্রান্ত (৫৫), গোপালগঞ্জের আরিফ (৩৪), সাভারের ফয়সাল (২৮), আরিফুল ইসলাম (৫০), আনোয়ার (২৬), নরসিংদীর তরিকুল (৪২), উকিল মিয়া (৫৮), চট্টগ্রামের সাহেদ (৪৪), কেরানীগঞ্জের খোরশেদ আলম (৫০), বেলাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের আনোয়ার (৫০), আবু বক্কর (৫৯), নোয়াখালী সদরের আনোয়ার (৭৬), সাতক্ষিরার ফোরকান আহমেদ (৩৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদেরকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের অধিকাংশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মাওলানা জুবায়ের পন্থি তাবলীগ জামাত (শুয়ারী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাওলানা জুবায়ের সাহেবকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয় বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুপুর ১২টায় আমাদের সাথে (জুবায়ের পন্থি) মিটিংয়ে বসবে এবং বিশ্ব ইজতেমা মাঠের বিষয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। ভোর রাত ৩ টার দিকে আমরা খবর পাই সারা দেশ থেকে সাদ পন্থী মুসুল্লীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশে বেলাল মসজিদে অবস্থান করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের নতুন, পুরাতন সাথী জমা করে ধারালো অস্ত্রসস্ত্রসহ তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামার পাড়া ব্রীজসহ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ময়দানের বিদেশী গেইট ভেঙ্গে ময়দানের ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। এসময় ময়দানের ভেতর থেকে জুবায়ের পন্থী মুসুল্লীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ঘটনা শুরু হয়। এক পর্যাায়ে সাদপন্থীরা মাঠে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দুইজন মুসুল্লী নিহত ও শতাধিক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

সাদ পন্থি তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ২০ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাদের জোড় ইজতেমা শুরুর হওয়ার কথা ছিল। মাঠ প্রস্তুতির জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাঠের আশপাশে সড়কে পাশে মুসল্লিরা এসে অবস্থান নিচ্ছিলেন। আমাদের এ প্রস্তুতি দেখে জোবায়ের পন্থি মুসুল্লিরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে আমাদের লোকজন ইজতেমা মাঠে ঢুকে পড়ে। সেখানে দুই গ্রæপের মধ্যে আবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষে আহতদের টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেলকলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তাবলীগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা জোড় ইজতেমা পালন করেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা জোড় ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেন জুবায়ের অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সাদ অনুসারীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ঠেকাতে ময়দানের চারপাশে ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা বসায় জুবায়ের অনুসারীরা।

গণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় বুধবার দুপুর ২ টা থেকে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলো মিটার এলাকার মধ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে ঘোরাফেরা, জমায়েত এবং কোন মিছিল সমাবেশ করতে পারবে না। কোন প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, চুরি, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বা এ জাতীয় কোন পদার্থ বহন করতে পারবে না। কোন প্রকার লাউড স্পীকার বা এ জাতীয় কোন যন্ত্র দ্বারা উচ্চস্বরে কোন শব্দ করতে পারবে না । আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এই গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিব ইস্কান্দার জানান, সকাল থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত দুই মুসুল্লীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পেরেছি। জিএমপি কমিশনার দুপুরে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর বিকেল ৩ টা থেকে মুসুল্লিরা মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

টঙ্গির ইজতেমা ময়দানে সংঘর্ষ, নিহত ৩, আহত শতাধিক, গণ বিজ্ঞপ্তি জারি

প্রকাশিত : ০৫:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪

টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে মাওলানা জুবায়ের ও সাদ পন্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যে রাত থেকে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক আহত এবং তিন মুসুল্লীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত তিনজন উভয় পক্ষের সাথি ভাই দাবী করছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপ-কমিশনার (ডিসি-টঙ্গী জোন) এন এম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বুধবার ভোর রাত ৩ টা থেকে ইজতেমা মাঠ দখলে নেওয়ার চেষ্টাা করলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের হয়।

এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মোঃ নাজমুল করিম খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলো মিটার এলাকায় (জিএমপি) আইন ২০১৮ এর ৩০ ও ৩১ ধারা মেনে চলার গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দু গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৭০), বগুড়া জেলার তাইদুল ইসলাম (৬৫), ও রাজধানীর দক্ষিন খান (বেড়াইদ এলাকার) আব্দুস সামাদের ছেলে বেলাল হোসেন (৬০)। তাদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আনার পর নিহত হয়। রাজধানীর দক্ষিন খান (বেড়াইদ এলাকার) বেলালকে ঢাকায় নেয়ার পথে নিহত হয়।

আহতরা হলো ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আব্দুর রউফ (৫৫), ময়মনসিংহের মজিবুর রহমান (৫৮), গাজীপুরের আব্দুল হান্নান (৬০), টঙ্গীর জহুরুল ইসলাম (৩৮), প্রান্ত (৫৫), গোপালগঞ্জের আরিফ (৩৪), সাভারের ফয়সাল (২৮), আরিফুল ইসলাম (৫০), আনোয়ার (২৬), নরসিংদীর তরিকুল (৪২), উকিল মিয়া (৫৮), চট্টগ্রামের সাহেদ (৪৪), কেরানীগঞ্জের খোরশেদ আলম (৫০), বেলাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের আনোয়ার (৫০), আবু বক্কর (৫৯), নোয়াখালী সদরের আনোয়ার (৭৬), সাতক্ষিরার ফোরকান আহমেদ (৩৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তাদেরকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের অধিকাংশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মাওলানা জুবায়ের পন্থি তাবলীগ জামাত (শুয়ারী নেজাম) মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাওলানা জুবায়ের সাহেবকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয় বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুপুর ১২টায় আমাদের সাথে (জুবায়ের পন্থি) মিটিংয়ে বসবে এবং বিশ্ব ইজতেমা মাঠের বিষয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। ভোর রাত ৩ টার দিকে আমরা খবর পাই সারা দেশ থেকে সাদ পন্থী মুসুল্লীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশে বেলাল মসজিদে অবস্থান করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের নতুন, পুরাতন সাথী জমা করে ধারালো অস্ত্রসস্ত্রসহ তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামার পাড়া ব্রীজসহ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ময়দানের বিদেশী গেইট ভেঙ্গে ময়দানের ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। এসময় ময়দানের ভেতর থেকে জুবায়ের পন্থী মুসুল্লীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ঘটনা শুরু হয়। এক পর্যাায়ে সাদপন্থীরা মাঠে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দুইজন মুসুল্লী নিহত ও শতাধিক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

সাদ পন্থি তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ২০ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাদের জোড় ইজতেমা শুরুর হওয়ার কথা ছিল। মাঠ প্রস্তুতির জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাঠের আশপাশে সড়কে পাশে মুসল্লিরা এসে অবস্থান নিচ্ছিলেন। আমাদের এ প্রস্তুতি দেখে জোবায়ের পন্থি মুসুল্লিরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে আমাদের লোকজন ইজতেমা মাঠে ঢুকে পড়ে। সেখানে দুই গ্রæপের মধ্যে আবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষে আহতদের টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেলকলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তাবলীগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা জোড় ইজতেমা পালন করেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীরা জোড় ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেন জুবায়ের অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সাদ অনুসারীদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ঠেকাতে ময়দানের চারপাশে ও বিভিন্ন সড়কের মোড়ে লাঠি হাতে পাহারা বসায় জুবায়ের অনুসারীরা।

গণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় বুধবার দুপুর ২ টা থেকে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলো মিটার এলাকার মধ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে ঘোরাফেরা, জমায়েত এবং কোন মিছিল সমাবেশ করতে পারবে না। কোন প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, চুরি, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বা এ জাতীয় কোন পদার্থ বহন করতে পারবে না। কোন প্রকার লাউড স্পীকার বা এ জাতীয় কোন যন্ত্র দ্বারা উচ্চস্বরে কোন শব্দ করতে পারবে না । আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এই গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিব ইস্কান্দার জানান, সকাল থেকে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত দুই মুসুল্লীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পেরেছি। জিএমপি কমিশনার দুপুরে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর বিকেল ৩ টা থেকে মুসুল্লিরা মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস