জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সাত দিনব্যাপী জামাই মেলা শুরু হয়েছে। এই মেলা কে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতেছে নানা বয়সী মানুষ। বিকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গত মঙ্গলবার উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের ফসলের মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
গত দুই বছর থেকে এই মেলা শুরু হয়। এ বছর “জামাই মেলা সিজন ৩” হিসেবে চলছে। মেলা উপলক্ষে কয়েক এলাকার জামাইদের দাওয়াত করে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে এসেছেন। তারা সপরিবারে মেলা ঘুরে দেখছেন কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে নতুন প্রজন্মকে গ্রামের ঐতিহ্য গুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং গ্রামের মানুষের পারিবারিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করার জন্য এই মেলার আয়োজন।
মেলায় ঘুরতে আসা মোঃ রাব্বানী বলেন, আমার শ্বশুর দুদিন আগে আমাদেরকে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছেন। মেলার যাওয়ার জন্য শাশুড়ি কিছু টাকা দিয়েছেন সেই টাকা নিয়ে মেলা থেকে একটি বড় মাছ কিনেছেন এবং বাচ্চাদের জন্য খেলনাসহ মিষ্টান্ন কিনে বাড়ি ফিরছেন। বলছেন এই মাছ রান্না করে পরিবারের সকল সদস্য মিলে একসাথে খাবেন।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় তিন শতাধিক বিভিন্ন দোকান বসেছে। এর মধ্যে খাবার, দই, মিষ্টান্ন, আচার, মাছ মাংস, প্রসাধনী, খেলনা, কাপড়, আসবাবপত্র, ফার্নিচার। এর পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন ধরনের পিঠা ফুচকা চটপটি দোকানও রয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা, চরকি, দোলনা পুতুল নাচসহ নানা আয়োজন। এখানে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন যে কারোরই নজর কাড়বে। প্রতিদিন বিকাল থেকে নানা বয়সি মানুষের আনাগোনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে মেলায় এসে একটু বিনোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তিনি আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিবছর এই মেলা আয়োজন করার আহ্বান জানান।
মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি সোহেল তালুকদার জানান, জামাই মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো এই এলাকার শশুর জামাই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যেন আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন গ্রামীন খেলা হাডুডু, ঘোড়া দৌড় মোরগ যুদ্ধ কলাগাছ খেলাসহ গ্রামীণ খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। মেলা থেকে জামাই শশুরের জন্য এবং শশুর জামাইয়ের জন্য মাছ মিষ্টান্ন কিনে বাড়িতে যেয়ে সবাই একসাথে বসে খাবেন এটাই মূল উদ্দেশ্য।
মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোখলেসুর রহমান জানান, ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মেলা জমে উঠেছে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের ঢল নেমেছে। মেলা উপলক্ষে মানুষের পারিবারিক বন্ধন কে আরো সুদৃঢ় করা। নাড়ির টানকে আরো কাছে নিয়ে আসা। জন্মসূত্রে মনের টানে আমরা গ্রামে আসি এই বন্ধন কে আরো কাছে নিয়ে আসার জন্য মূলত এই আয়োজন। পুরো মেলাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। মেলায় দর্শনার্থীরা নিরাপত্তার বিষয়ে খুব সন্তুষ্ট। আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলা চলবে তবে মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে সময় আরো বাড়তে পারে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস






















