০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ৯টি অভিযোগের বিষয়ে ৪টি তে অভিযান পরিচালিত

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অভিযান এক(১) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও অতিরিক্ত রোগী দেখিয়ে খাবারের বিল আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে টিম প্রথমে হাসপাতালের ক্যান্টিনে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই-বাছাই করে। অদ্য হাসপাতালে ১৩৩৫ জন ডাইট-০১ (সাধারণ খাবার) ভুক্ত রোগী থাকলেও অভিযানকালে দুদক টিম ১০৯৪ জন রোগীর জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার পায়। অর্থাৎ ২৪১ জন রোগীর খাবার কম সরবরাহ করে উক্ত খাবারের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। অধিকন্তু হাসপাতালের অনুমোদিত ডায়েট চার্ট অনুযায়ী রোগী প্রতি ব্রয়লার মুরগীর পরিমাণ ৯৪.৯০ গ্রাম হবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যাচাই-বাছাইকালে মুরগির পরিমাণ পাওয়া যায় মাত্র ২৬ গ্রাম (প্রায়)।

এছাড়াও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সরবরাহকৃত চালের মান চিকন ও উন্নতমানের (কেজি প্রতি ৮২ টাকা) হবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যাচাইকালে মোটা ও নিম্নমানের চাল পাওয়া যায়। আউটসোর্সিং কর্মচারীগণ কর্তৃক হাসপাতালের ক্যান্টিন থেকে খাবার চুরির ঘটনারও প্রাথমিক প্রমাণ পায় এনফোর্সমেন্ট টিম। সার্বিক বিষয়ে টিম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে অবহিত করলে তিনি ক্যান্টিনের দায়িত্বরত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আশ্বস্ত করেন। অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নিমিত্ত এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান দুই(২) কালিহাতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, টাঙ্গাইল -এ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনাকালে জানা যায়, কালিহাতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগণ পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত সমিতির কার্যকালে (২৫-০৯-২০২০ খ্রি. থেকে ২৬-১০-২০২৩ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত) জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রেশন করে রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন এবং নিজেরা লাভবান হয়েছেন। টিম অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট সকল নথি সংগ্রহ করে। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলির ভিত্তিতে নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান তিন(৩) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পটুয়াখালী -এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট সেবা প্রদানে গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে টিম ছদ্মবেশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পটুয়াখালীতে অবস্থান করে এবং সেবাগ্রহীতারা সেবা প্রাপ্তিতে কোন রকম হয়রানির স্বীকার হচ্ছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করে। সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং সেবা প্রদানে সিটিজেন চার্টার যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানকে দুদক টিম কর্তৃক পরামর্শ প্রদান করা হয়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলির ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান চার (৪) নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় খাল না কেটে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিম অভিযোগে বর্ণিত খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং খাল খননের বিষয়ে আশেপাশে অবস্থানরত কয়েকজনের বক্তব্য গ্রহণ করে। নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, নোয়াখালী কর্তৃক উক্ত খালের মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে দুদক টিম। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পূর্ণাঙ্গরূপে পর্যালোচনাপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ৯টি অভিযোগের বিষয়ে ৪টি তে অভিযান পরিচালিত

প্রকাশিত : ০৫:০০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অভিযান এক(১) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও অতিরিক্ত রোগী দেখিয়ে খাবারের বিল আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে টিম প্রথমে হাসপাতালের ক্যান্টিনে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই-বাছাই করে। অদ্য হাসপাতালে ১৩৩৫ জন ডাইট-০১ (সাধারণ খাবার) ভুক্ত রোগী থাকলেও অভিযানকালে দুদক টিম ১০৯৪ জন রোগীর জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার পায়। অর্থাৎ ২৪১ জন রোগীর খাবার কম সরবরাহ করে উক্ত খাবারের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। অধিকন্তু হাসপাতালের অনুমোদিত ডায়েট চার্ট অনুযায়ী রোগী প্রতি ব্রয়লার মুরগীর পরিমাণ ৯৪.৯০ গ্রাম হবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যাচাই-বাছাইকালে মুরগির পরিমাণ পাওয়া যায় মাত্র ২৬ গ্রাম (প্রায়)।

এছাড়াও ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সরবরাহকৃত চালের মান চিকন ও উন্নতমানের (কেজি প্রতি ৮২ টাকা) হবার বাধ্যবাধকতা থাকলেও যাচাইকালে মোটা ও নিম্নমানের চাল পাওয়া যায়। আউটসোর্সিং কর্মচারীগণ কর্তৃক হাসপাতালের ক্যান্টিন থেকে খাবার চুরির ঘটনারও প্রাথমিক প্রমাণ পায় এনফোর্সমেন্ট টিম। সার্বিক বিষয়ে টিম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে অবহিত করলে তিনি ক্যান্টিনের দায়িত্বরত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আশ্বস্ত করেন। অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের বক্তব্যের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নিমিত্ত এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান দুই(২) কালিহাতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, টাঙ্গাইল -এ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনাকালে জানা যায়, কালিহাতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগণ পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত সমিতির কার্যকালে (২৫-০৯-২০২০ খ্রি. থেকে ২৬-১০-২০২৩ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত) জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রেশন করে রাষ্ট্রের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন এবং নিজেরা লাভবান হয়েছেন। টিম অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট সকল নথি সংগ্রহ করে। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলির ভিত্তিতে নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান তিন(৩) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পটুয়াখালী -এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট সেবা প্রদানে গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে টিম ছদ্মবেশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পটুয়াখালীতে অবস্থান করে এবং সেবাগ্রহীতারা সেবা প্রাপ্তিতে কোন রকম হয়রানির স্বীকার হচ্ছে কি-না তা পর্যবেক্ষণ করে। সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং সেবা প্রদানে সিটিজেন চার্টার যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানকে দুদক টিম কর্তৃক পরামর্শ প্রদান করা হয়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলির ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান চার (৪) নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় খাল না কেটে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিম অভিযোগে বর্ণিত খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং খাল খননের বিষয়ে আশেপাশে অবস্থানরত কয়েকজনের বক্তব্য গ্রহণ করে। নির্বাহী প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, নোয়াখালী কর্তৃক উক্ত খালের মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে দুদক টিম। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পূর্ণাঙ্গরূপে পর্যালোচনাপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস