০৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সঙ্কটে আশার গল্প নতুন জাতের পেঁয়াজে, কম ব্যয়ে ফলন দেড়শো থেকে ২শ মণ

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের তিন ভাগের এক ভাগই উৎপাদন হয় পাবনায়। এ দৃষ্টিতে পেঁয়াজে দেশীয় অর্থনীতিতে পাবনার অবদান ব্যাপক। নতুন জাতের পেঁয়াজ আবাদে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সাড়ে তিন গুণ বেশি ফলনে এবার সঙ্কটেও আশার গল্প রচনা করছেন পাবনার চাষিরা। বারি-৫ নামক এ নতুন জাতের পেঁয়াজ নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগও।

চাষী ও কৃষি বিভাগ বলছে, সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট তৈরি হয়। কারণ এসময় চাষীদের হাতে কোনো পেঁয়াজ থাকে না। ফলে সঙ্কটকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি শুরু হয়। এদিকটা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের আওতাধীন বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র বারি- ৫ নামক একটি নতুন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করে। যেটি আবাদে মুড়িকাটা বা চারা পেঁয়াজের তুলনায় ব্যয় তুলনামূলক কম। কিন্তু ফলন কয়েকগুণ বেশি। মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘায় এর ফলন দেড়শো থেকে ২০০ মণও হয়ে থাকে। প্রতিটি পেঁয়াজ ওজনে ২০০-৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। স্বল্প ব্যয়ে নতুন জাতের এ উচ্চ ফলনের পেঁয়াজ আবাদে লাভের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা।

এব্যাপারে ঈশ্বরদীর জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী বাদশা বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে এবার আমি এ পেঁয়াজের আবাদ করেছি। বিঘায় ফলন হবে ২০০ মণের মত। যা সাধারণত এক একর জমিতেও সম্ভব নয়। খরচ বাদে প্রায় দুই থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

চাষের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় তিনি বলেন, এ পেঁয়াজ চাষে সার বা রাসায়নিকের পরিমাণ খুবই কম লাগে। তবে একদমই পানি সহ্য করতে পারে না। এক্ষেত্রে জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে এবং কোনোভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকলে সেটি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সারাবছরই এ পেঁয়াজ আবাদ সম্ভব।

চাষি শাহিনুজ্জামান জানান, এর বীজ এখনো চাষিরা উৎপাদন শুরু করেনি। কারণ বীজ উৎপাদনে কিছুটা হিসেব নিকেশের ব্যাপার রয়েছে। এটি কাটাতে পারলে চাষিরা উঁচু সব জমিতে এটি চাষ করতে পারবে। এতে যে সময়ে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়, সে সময়টা এই পেঁয়াজ দিয়ে অনেকটা সংকট মেটানো যাবে।সদর উপজেলার আতাইকুলা মধুরপুর চাষি এলাকার মকবুল হোসেন জানান, যে হারে ফলন হচ্ছে তাতে লোকসান তো দূরে থাক লাভ নিয়েও চিন্তার কিছু দেখছি না। মুড়িকাটা পেঁয়াজে খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। কারণ দাম খুবই কম। কিন্তু এ পেঁয়াজে সে ভয় নাই।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার নয়টি উপজেলাতেই কম বেশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের এ নতুন জাত বরি- ৫ এর আবাদ হয়েছে। তবে বেশি হয়েছে সদর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, সুজানগর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায়। জেলায় এবার প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজের আবাদ করেছেন চাষিরা। বিঘায় দেড়শো মণ ফলন ধরলেও এ থেকে প্রায় ৮০ হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

উচ্চ ফলনের এ জাতের পেঁয়াজ আবাদে কৃষক ব্যাপক লাভবান হবেন জানিয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা সহ সকল বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠকর্মীরা। যে হারে ফলন হচ্ছে তাতে গ্রীষ্মকালে বাজারে পেঁয়াজের যে সংকট থাকে সেটির বড় অংশ এই পেঁয়াজ দিয়ে মেটানো সম্ভব।

এদিকে এ কৃষি বিপ্লব পরিদর্শন করেছেন কৃষি মমন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শণ শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান জানান, এ পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর বীজ উৎপাদন এখনো চাষিদের হাতে দেয়া সম্ভব হয়নি। এটি সম্ভব নাহলে জনপ্রিয়তা হারাবে এ আবাদ। বীজ উৎপাদনে পলিনেট হাউজ সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদ্ধতির প্রয়োজন হচ্ছে। এব্যাপারে কিভাবে সহযোগিতা দেয়া যায় সেটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আমি কথা বলবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

সঙ্কটে আশার গল্প নতুন জাতের পেঁয়াজে, কম ব্যয়ে ফলন দেড়শো থেকে ২শ মণ

প্রকাশিত : ০৫:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের তিন ভাগের এক ভাগই উৎপাদন হয় পাবনায়। এ দৃষ্টিতে পেঁয়াজে দেশীয় অর্থনীতিতে পাবনার অবদান ব্যাপক। নতুন জাতের পেঁয়াজ আবাদে তুলনামূলক কম ব্যয়ে সাড়ে তিন গুণ বেশি ফলনে এবার সঙ্কটেও আশার গল্প রচনা করছেন পাবনার চাষিরা। বারি-৫ নামক এ নতুন জাতের পেঁয়াজ নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগও।

চাষী ও কৃষি বিভাগ বলছে, সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট তৈরি হয়। কারণ এসময় চাষীদের হাতে কোনো পেঁয়াজ থাকে না। ফলে সঙ্কটকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি শুরু হয়। এদিকটা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের আওতাধীন বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র বারি- ৫ নামক একটি নতুন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করে। যেটি আবাদে মুড়িকাটা বা চারা পেঁয়াজের তুলনায় ব্যয় তুলনামূলক কম। কিন্তু ফলন কয়েকগুণ বেশি। মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘায় এর ফলন দেড়শো থেকে ২০০ মণও হয়ে থাকে। প্রতিটি পেঁয়াজ ওজনে ২০০-৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। স্বল্প ব্যয়ে নতুন জাতের এ উচ্চ ফলনের পেঁয়াজ আবাদে লাভের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা।

এব্যাপারে ঈশ্বরদীর জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী বাদশা বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে এবার আমি এ পেঁয়াজের আবাদ করেছি। বিঘায় ফলন হবে ২০০ মণের মত। যা সাধারণত এক একর জমিতেও সম্ভব নয়। খরচ বাদে প্রায় দুই থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

চাষের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় তিনি বলেন, এ পেঁয়াজ চাষে সার বা রাসায়নিকের পরিমাণ খুবই কম লাগে। তবে একদমই পানি সহ্য করতে পারে না। এক্ষেত্রে জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে এবং কোনোভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকলে সেটি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সারাবছরই এ পেঁয়াজ আবাদ সম্ভব।

চাষি শাহিনুজ্জামান জানান, এর বীজ এখনো চাষিরা উৎপাদন শুরু করেনি। কারণ বীজ উৎপাদনে কিছুটা হিসেব নিকেশের ব্যাপার রয়েছে। এটি কাটাতে পারলে চাষিরা উঁচু সব জমিতে এটি চাষ করতে পারবে। এতে যে সময়ে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়, সে সময়টা এই পেঁয়াজ দিয়ে অনেকটা সংকট মেটানো যাবে।সদর উপজেলার আতাইকুলা মধুরপুর চাষি এলাকার মকবুল হোসেন জানান, যে হারে ফলন হচ্ছে তাতে লোকসান তো দূরে থাক লাভ নিয়েও চিন্তার কিছু দেখছি না। মুড়িকাটা পেঁয়াজে খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। কারণ দাম খুবই কম। কিন্তু এ পেঁয়াজে সে ভয় নাই।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার নয়টি উপজেলাতেই কম বেশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের এ নতুন জাত বরি- ৫ এর আবাদ হয়েছে। তবে বেশি হয়েছে সদর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, সুজানগর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায়। জেলায় এবার প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজের আবাদ করেছেন চাষিরা। বিঘায় দেড়শো মণ ফলন ধরলেও এ থেকে প্রায় ৮০ হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

উচ্চ ফলনের এ জাতের পেঁয়াজ আবাদে কৃষক ব্যাপক লাভবান হবেন জানিয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা সহ সকল বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠকর্মীরা। যে হারে ফলন হচ্ছে তাতে গ্রীষ্মকালে বাজারে পেঁয়াজের যে সংকট থাকে সেটির বড় অংশ এই পেঁয়াজ দিয়ে মেটানো সম্ভব।

এদিকে এ কৃষি বিপ্লব পরিদর্শন করেছেন কৃষি মমন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শণ শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান জানান, এ পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর বীজ উৎপাদন এখনো চাষিদের হাতে দেয়া সম্ভব হয়নি। এটি সম্ভব নাহলে জনপ্রিয়তা হারাবে এ আবাদ। বীজ উৎপাদনে পলিনেট হাউজ সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদ্ধতির প্রয়োজন হচ্ছে। এব্যাপারে কিভাবে সহযোগিতা দেয়া যায় সেটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আমি কথা বলবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস