১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
"কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বৃদ্ধি"

ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র নিহত, আটক-১

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রতিনিয়ত কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক সেবন, ইভটিজিং, চোরাচালান, জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী স্কুলগামী ছেলেরা। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকা কিংবা গ্রাম ভিত্তিক গড়ে উঠেছে কিশোরগ্যাং। যার ফলে প্রতিনিয়তই কোন না কোন স্থানে ছোট ছোট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ঘটনায় রূপ নেয় এবং খুনা-খুনিতে পরিণত হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে শফিউল্লাহের ছোট ভাই সানাউল্লাহ এবং মশিউর রহমান হৃদয়ের ছোট ভাই রিয়াদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মনপাড়া মোশারফ হোসেন খান চৌধূরী ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শফিউল্লাহ দলবল নিয়ে একই গ্রামের এবং একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হৃদয়ের বাড়ীতে গিয়ে সংঘর্ষের কথা জিজ্ঞাসাবাদ করতে যায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বির্তক চলাকালে হৃদয়ের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শফিউল্লাহর সামনে এবং পেছন দিকে দুটি গাই মারে। এতে শফিউল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পরলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মনপাড়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা এরশাদ আলী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক মশিউর রহমান হৃদয়ের মা এজাহারভুক্ত আসামী রিনা আক্তার (৪০) কে আটক করে।এ ব্যপারে নিহতের পিতা ডাব বিক্রেতা এরশাদ মিয়া বলেন, আমি কিছুই চাইনা শুধু আমার অবুঝ ছেলের হত্যার সঠিক বিচার চাই। আমার নিরপরাধ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শিশির ঘোষ বলেন, অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে শফিউল্লাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ মামলায় এজাহারনামীয় ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। শফিউল্লাহ হত্যাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

"কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বৃদ্ধি"

ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র নিহত, আটক-১

প্রকাশিত : ০৬:০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রতিনিয়ত কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক সেবন, ইভটিজিং, চোরাচালান, জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী স্কুলগামী ছেলেরা। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকা কিংবা গ্রাম ভিত্তিক গড়ে উঠেছে কিশোরগ্যাং। যার ফলে প্রতিনিয়তই কোন না কোন স্থানে ছোট ছোট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ঘটনায় রূপ নেয় এবং খুনা-খুনিতে পরিণত হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে শফিউল্লাহের ছোট ভাই সানাউল্লাহ এবং মশিউর রহমান হৃদয়ের ছোট ভাই রিয়াদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মনপাড়া মোশারফ হোসেন খান চৌধূরী ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শফিউল্লাহ দলবল নিয়ে একই গ্রামের এবং একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হৃদয়ের বাড়ীতে গিয়ে সংঘর্ষের কথা জিজ্ঞাসাবাদ করতে যায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বির্তক চলাকালে হৃদয়ের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে শফিউল্লাহর সামনে এবং পেছন দিকে দুটি গাই মারে। এতে শফিউল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পরলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মনপাড়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা এরশাদ আলী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক মশিউর রহমান হৃদয়ের মা এজাহারভুক্ত আসামী রিনা আক্তার (৪০) কে আটক করে।এ ব্যপারে নিহতের পিতা ডাব বিক্রেতা এরশাদ মিয়া বলেন, আমি কিছুই চাইনা শুধু আমার অবুঝ ছেলের হত্যার সঠিক বিচার চাই। আমার নিরপরাধ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শিশির ঘোষ বলেন, অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে শফিউল্লাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ মামলায় এজাহারনামীয় ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। শফিউল্লাহ হত্যাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস