চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে মাত্র ২০ ভাগ তৈল (Garments Related Container ) -বাহী পণ্য। বাকী ৮০ ভাগই বিভিন্ন প্রকার ব্লক পণ্য; যার মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর কাঁচামাল, বিভিন্ন প্রকার সার, চাল, ডাল, লবণ, সরিষা, গম, ভূট্টা, র-সুগার, এগ্রিগেট, পিক আয়রন, স্ক্র্যাপ, এইচ বি আই, পোলিট্রি ফিড, ভূষি, রক সালফেট, রক ফসফেট, ফেল্ডস্পার, বল-ক্লে, বিলেট, এস.আর কয়েল, পাথর, কয়লা ইত্যাদি নানাবিধ পণ্য। এ সকল পণ্যের প্রায় পুরোটাই চট্টগ্রাম বহি:নোঙ্গর থেকে লাইটার জাহাজ যোগে নৌপথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন করা হয়। যে কোন পরিবহন ব্যবস্থার তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন দর এক চতুর্থাংশ বা তার চেয়েও কম বিধায় অন্যান্য পরিবহন মাধ্যমের চেয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহনে সাশ্রয় বেশী।
পূর্বে নৌ পরিবহন সেক্টরে কোন শৃংখলা না থাকায় পরিবহন দর মধ্যস্বত্ত ভোগীদের একটি সিন্ডিকেটের কারণে খুব উঠানামা করতো। তখন মধ্যস্বত্তভোগীদের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হতো – ঠিক তেমনি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরেরও ভাবমূর্তি নষ্ট হতো। কোন মাদার ভেসেলে বাংলাদেশের কোন বন্দরে প্রবেশ করতে চাইতো না, চাইলেও মাদার ভেসেলের ভাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যধিক ভাড়া দাবী করতো শুধুমাত্র এদেশের নৌ সেক্টরের অরাজকতার কারনে। ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে আগত এই বাল্ক পণ্য পরিবহনকে কেন্দ্র করে মধ্যস্বত্তভোগীরা প্রচুর ব্যবসা করেছে। তখনও পণ্যের তুলনায় লাইটার জাহাজের সংখ্যা বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু, মধ্যস্বত্তভোগীরা জাহাজের ক্রাইসিস দেখিয়ে তৎকালীন সময়ে কখনো টনপ্রতি ৭০০ টাকা, আবার কখনো টন প্রতি ১ রভঁভা টাকা করে আমদানীকারকদের কাছ থেকে নিতো। কিন্তু প্রকৃত জাহাজ মালিকরা কখনোই টন প্রতি দেড়শ’ টাকার বেশী পেতো না, পুরোটাই চলে যেতো মধ্যস্বত্তভোগীদের পকেটে।
জাহাজ মালিকদেরকে এভাবে ঠকানোর পরিক্রমা বেশ কয়েক বছর ধরে চলার পর ২০০৩ সালের দিকে জাহাজ মালিকরা বিষয়টি অনুধাবন করে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম রোধ কল্পে নিজেদের ব্যবসা নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু করে। উদ্দেশ্যে ছিল নিজেদের আয় নিজেদের কাছে রেখে প্রান্তিক বাজার দর স্থিতিশীল রাখা ও আমদানীকারকদেরকে সুনির্দিষ্ট একটি পণ্য পরিবহন দর সরবরাহ করা। এই অরাজকতা ও মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম দূর করার লক্ষ্যে জাহাজ মালিকদের সংগঠনদ্বয় বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন (বিসিভোয়া) ও কোষ্টাল-শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) যৌথভাবে চট্টগ্রাম চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টি-কে সাথে নিয়ে একটি কমন প্লাটফর্ম তৈরী করে ডব্লিউটিসিসি নামে নতুনভাবে একটি প্লাটফর্ম তৈরী করে পণ্য পরিবহন কাজ শুরু করে। এই প্লাটফর্ম থেকে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স নিজেদেরকে সরিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রেখে আমদানীকারক, রপ্তানীকারক ও জাহাজ মালিকদেরকে অবাধ সেবা প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে সমুন্নত রাখা ও সুনির্দিষ্ট ভাড়া এবং নীতিমালার আওতায় সকল প্রকার পণ্যের পরিবহন নির্বিঘ্ন করার উদ্দেশ্যে টু রুলস এর আওতায় নিবন্ধিত জাহাজ মালিকদের সংগঠনদ্বয় বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন (বিসিভোয়া) ও কোষ্টাল-শীপ ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-কে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সমুদ্র বন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশের সকল পণ্যবাহী নৌযানের সুশৃংখলভাবে পরিচালনার রাষ্ট্রীয় স্বার্থে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর গত ৪ জুলাই “সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত লাইটার জাহাজযোগে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরসমূহে পণ্য পরিবহন সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৩” প্রণয়ন করে তা’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন। পরে নির্বাহী সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ডব্লিউটিসি’র কার্যক্রমে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক জাহাজ মালিকদের সংগঠন ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন অব চিটাগং (আইভোয়াক)-কে সম্পৃক্ত করা হয়।
২০২০ সালের শুরুর থেকেই শুরু হয় নানামুখী যড়যন্ত্র। একদিকে, বিভিন্ন ফ্যাক্টরী/গ্রুপ অব কোম্পানী ও বিভিন্ন আমদানীকারকগণ ডব্লিউটিসি হতে লাইটার জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে জাহাজগুলোকে পূর্বের ন্যায় ভাসমান গুদাম হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ৬০/৬৫ দিন জাহাজ বসিয়ে রেখে খুচরা বিক্রেতার মতো জাহাজ থেকে ৪০/৫০ মেট্রিক টন করে পণ্য (গম, ডাল, সয়াবিন ভূষি, ভূট্টা, কয়লা, পাথর ইত্যাদি) মাথায় আনলোড করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ বাজার মূল্য বৃদ্ধির অপেক্ষায় মাসের পর মাস জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসাবে ব্যবহার করেন। পানিতে লাইটারে যতক্ষণ মাল থাকে ততক্ষন বাজারে এ মালের প্রভাব পড়ে না।
গুদামে মাল নামলেই বাজারে পণ্য মূল্য হ্রাস পায়। বেশী মুনাফার আশায় আমদানীকারকরা লাইটার অলস বসিয়ে রেখে পার্টি খুঁজেন, তারপর লাইটার থেকেই অল্প অল্প করে পণ্য বিক্রয় করেন। যা তৎকালীন বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
অপর দিকে, ফ্যাক্টরী মালিকগণ তাদের নিজস্ব জাহাজগুলো দিয়ে প্রতিমাসে ৫/৬টি করে ট্রিপ করে নিজেদের ও অন্য আমদানীকারকের পণ্য পরিবহন শুরু করে। এতে সেক্টরে সৃষ্টি হয় বিশাল বৈষম্য ও নৈরাজ্য। ফ্যাক্টরী মালিক/গ্রুপ অব কোম্পানীগণ ডব্লিউটিসি’র জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে ভাসমান গুদাম বানিয়ে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করে সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নতুন নক্সা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। নতুন নির্মিত জাহাজগুলির মধ্যে ৪০% জাহাজ সেক্টর বিরোধী কিছু মধ্যস্বত্তভোগী দালাল বিভিন্ন ফ্যাক্টরী ও সাধারণ পণ্য আমদানীকারকগণের কাছে বিক্রি করে এবং কিছু জাহাজ নামে- বেনামে চার্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হতে থাকে। এইসব ফ্যাক্টরী ও চার্টার জাহাজ মাসে গড়ে ৫/৬ ট্রিপ করে পণ্য পরিবহন করলেও ডব্লিউটিসি’র ক্রমতালিকাভূক্ত সাধারণ বা প্রান্তিক শ্রেনীর জাহাজ মালিকদের জাহাজগুলো পণ্যের জন্য একমাস সিরিয়ালে বসে থেকেও ২ মাসে একটি ট্রিপ করার সুযোগ পাচ্ছে না।
যার ফলে ডব্লিউটিসি’র জাহাজ ২ মাসে ১ট্রিপ করত: ১ট্রিপের আয় থেকে দুই মাসের শ্রমিক মজুরী, দুই মাসের ব্যাংক কিস্তি ও ২ মাসের আনুষাঙ্গিক খরচ মেটাতে সাধারণ জাহাজ মালিকদেরকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার কারণে, ফ্যাক্টরী/গ্রুপগুলোর নৌযান ও মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের ভাড়া বা চার্টার জাহাজে কর্মরত নাবিকদের ট্রিপ বোনাসের অনুপাতে মাসিক আয়ের পরিমাণ ডব্লিউটিসি’র মাধ্যমে চলাচলরত জাহাজের নাবিকদের তুলনায় অধিক বেশী হওয়ায় নৌ শ্রমিকদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে।
যা হোক এর সাথে যুক্ত হয় পূর্বের মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের অনৈতিক কার্যক্রম। তারা কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহনের স্বার্থে মাদার ভেসেল থেকে ভাড়ার জাহাজের পাশাপাশি বাল্কহেড দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করে। এই সব বাল্কহেডে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে পণ্য পরিবহনের কারণে সংস্থার জাহাজমালিকরা পণ্য না পেয়ে ব্যবসায়ীকভাবে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছে। ভাড়ায় চালিত জাহাজ ও বাল্ক হেড বন্ধ করার বিষয়ে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মার্কেন্টাইল মেরিন অফিস সহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থা হতে বিভিন্ন রকম গণ বিজ্ঞপ্তি ও নোটিশ জারীসহ ষ্টিভিডোর এসোসিয়েশন, শিপিং এজেন্ট, বন্দর ম্যাজিট্রেষ্ট, নৌ বাহিনীকে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হলেও তা’ বন্ধ হয়নি। যার ফলে মধ্যস্বত্তভোগী দালালদের মাধ্যমে আন্ডার রেইড-এ ভাড়ায়/চার্টারে চালিত লাইটার জাহাজ, বাল্কহেড ও ফ্যাক্টরী জাহাজসমূহের অসম ব্যবসায়ীক প্রতিযোগীতা সাধারণ জাহাজ মালিকরা টিকে থাকতে না পেরে সেক্টরে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
২০২৩ ডিসেম্বর হতে ২০২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সেলের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সেক্টরের নৈরাজ্য নিরসনের লক্ষ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে নৌপরিবহন অধিদপ্তর প্রান্তিক জাহাজ মালিকদের তিনটি সংগঠন (বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াক), আমদানীকারক, ফ্যাক্টরী মালিক ও নৌযান
শ্রমিক সংগঠন গুলিকে এক টেবিলে বসিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে পূর্বের গেজেট সংশোধনপূর্বক “নৌপরিবহন অধিদপ্তর হইতে অনুমতিপ্রাপ্ত লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরসমূহে পণ্য পরিবহন নীতিমালা, ২০২৪” গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত গেজেটের উল্লেখিত নীতিমালার আলোকে গত ৪ নভেম্বর হতে বিডব্লিউটিসিসি এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং যা সুন্দর ও সুশৃংখল ভাবে চলমান আছে। বিডব্লিউটিসিসি এর মাধ্যমে সুশৃংখল ভাবে চলমান থাকার ফলে সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌ যান শ্রমিকদের পূর্বের বকেয়া বেতন-ভাতাও জাহাজ মালিকরা পরিশোধ করতে পারছেন। বিডব্লিউটিসিসি কর্তৃক ৪ নভেম্বর হতে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বরাদ্দকৃত জাহাজের সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৫টি। যার আনুমানিক ধারণ ক্ষমতা ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৯০১ মেট্রিক টন।
বর্তমান নীতিমালায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মোতাবেক লাইটার জাহাজে ২য় ট্রিপ ও ৩য় ট্রিপের ভাড়া বন্ধ করে শুধুমাত্র ডেমারেজ-ডেসপাচ প্রথা চলমান আছে। সরকারের ও আমদানীকারকগণের অনুরোধে বিডব্লিউটিসিসি গন্তব্যে ভেদে লাইটার জাহাজে ভাড়া ৫%-৩৫% পর্যন্ত কমিয়েছে। বর্তমানে পুনরায় সে পুরানো অপশক্তি আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা কোনভাবেই এই সেক্টরকে সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে অর্থ্যাৎ সকল জাহাজ মালিক/আমদানীকারক/পণ্যের এজেন্টদের মধ্যে যে এখন সুন্দর মেলবন্ধন তৈরী হয়ে সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে তা কোন ভাবেই মধ্যস্বত্তভোগীরা মেনে নিতে পারছে না। এই সুশৃংখল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন অপপ্রচার, মামলা, হুমকি ও ধমকির মাধ্যমে এই মুনাফা লোভী মধ্যস্বত্তভোগী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে হীন চক্রান্তে লিপ্ত। এতে প্রান্তিক জাহাজ মালিক, পণ্যের এজেন্ট ও বিডব্লিউটিসিসির সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারগণ গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তার এই সুন্দর প্লাটফর্মটি যারা ধংস করতে মড়িয়া হয়ে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলন করার চিন্তা ভাবনা করছেন।
যেহেতু বর্তমান সরকার একটি ব্যবসা বন্ধব সরকার সেহেতু জাহাজ মালিকরা কঠিন কোন কর্মসুচীতে না গিয়ে বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকসহ সকল পক্ষের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে তারা বদ্ধ পরিকর। নতুবা এই সেক্টর পুনরায় বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজ মালিকগণ তাদের জাহাজ আবার কেটে স্ক্রাপ করে ফেলবে।
বিডব্লিউটিসিসি’র পূর্বের ও বর্তমান কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত রূপ নিম্ন বর্ণিত করা হলো:
সুনির্দিষ্টভাবে পরিবহন ভাড়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে পণ্য বাজারে
দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা। আমদানী পণ্য নিয়ে আগত মাদার ভেসেলগুলোতে সময়োচিত প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইটার বরাদ্দ দিয়ে আমদানীকারদেরকে বৈদেশীক মুদ্রায় মাদার ভেসেলের ডেমারেজ প্রদানের হাত থেকে রক্ষা করে বৈদেশীক মুদ্রার দেশীয় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। অর্থ্যাৎ মাদার ভেসেলের চার্ন রান কমিয়ে মাদার ভেসেলের ডেমারেজ প্রদান হতে আমাদনীকারকগণকে মুক্ত করে বর্হি:বিশ্বের কিাছে চট্টগ্রাম বন্দরের তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করা। শুল্ক/করাদি প্রদান করা হয়নি এমন পণ্যে/মাদার ভেসেলে জাহাজ বরাদ্দ না দিয়ে সরকারকে যথার্থ রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাষ্টমস্ কর্তৃপক্ষকে সহযোগীতা করা। বে-ক্রসিং সনদবিহীন লাইটারে বিডব্লিউটিসিসি পণ্য বোঝাই না দিয়ে সরকার তথা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে রাজস্ব আদায়ে সহযোগীতা করা। প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজকে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করার পাশাপাশি Conservancy fee -এ লাইটার বরাদ্দ না দেয়ার মাধ্যমে চোরাচালান রোধ করা।
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় প্রবেশকৃত লাইটারের Port Dues ও Conservancy Fee আদায় নিশ্চিত করার বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিআইডব্লিটিএ-কে সহযোগীতা করে সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর গুলো রাজস্ব বৃদ্ধি করা। Biwta -এর পক্ষে লাইটারগুলো থেকে প্রতি বছরে প্রায় ৪-৫ কোটি টাকার চরষড়ঃ ফি আদায় করে সরকারকে যথাযথ রাজস্ব প্রাপ্তিতে সহযোগীতা ও নিশ্চিত করা। কুতুবদিয়া/চট্টগ্রাম বহি:নোঙ্গর থেকে সার্বক্ষনিক পণ্য বোঝাই ও পরিবহন করে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঈড়হমবংঃরড়হ মুক্ত রাখা। খাদ্য শস্য ও বিভিন্ন প্রকার সার পরিবহনে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পর্যাপ্ত লাইটার বরাদ্দ দিয়ে কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকদেরকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা। সার ও খাদ্যশস্য পরিবহনের দৈনিক বিবরণী বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে (যেমন- খাদ্য বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, ( BCIC, BADC,BAG,Coast Guard, Chattagong Area রাখা। শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে Up-To-Date -দের মধ্যে সমঝোতার মনোভাব সৃষ্টি করত: বিভিন্ন বিষয় নিষ্পত্তি করা। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে চোরাচালান রোধে সরকারকে সহযোগীতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন নৌ-পথে এর ব্যবস্থা করে পরিবাহিত পণ্য ও নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিষয়টি নিয়ে বিডব্লিউটিসিসির কনভেনর সাঈদ আহমেদ বলেন, আমরা নতুনভাবে সবকিছু গুছিয়ে আনছি। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিশৃংখলা থেকে বেরিয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে অচিরেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমরা কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে এতদিনের অনিয়ম রোধ করবো। তিনি কিছুটা সময়ের দরকার বলে মন্তব্য করে বলেন, এই সেক্টরের স্বার্থে আরো অনেককিছু করতে হবে। আমরা কিছু পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। আদালতের বিষয়টি মিটে গেলে আমাদের কাজে আরো গতি আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।






















