০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনায় হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে মৌবক্সে মধু সংগ্রহ ব্যাহত, বের হচ্ছে না মৌমাছি

পাবনায় সপ্তাহ খানেক ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সবশেষ গত তিনদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে জেঁকে বসেছে কনকনে ঠান্ডা। এর ফলে মৌবক্স থেকে বের হচ্ছে না মৌমাছি। ফলে গত ২/৩ দিন ধরে মধু উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে রবিবার (৫ জানুয়ারি) বেলা বাড়ার সাথে সাথে মৌমাছি বের হবার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মৌচাষিরা।

মৌচাষিরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি মৌবক্স থেকে গড়ে দেড় থেকে ২ কেজি করে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গত ২/৩ সেটি ব্যাহত হচ্ছে। উল্টো সংগ্রহকৃত মধু বক্সে রাখা হয়েছে মৌমাছির খাওয়ার জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল, ফরিদপুরের বিএল বাড়ি, সোনাহারা, ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ও সদর উপজেলার গয়েশপুর সহ জেলার বিভিন্ন সরিষা মাঠগুলোতে মধু সংগ্রহে স্থাপন করা হয়েছে মৌবক্স। তীব্র শীতের হাত থেকে মৌবাক্স ও মৌমাছি রক্ষায় পলিথিন ও চটের কাপড় দিয়ে মৌবক্সকে মুড়িয়ে রেখেছেন চাষিরা। এতে বাক্সের ভেতরে বাতাস ঢুকতে না পারলেও মধু সংগ্রহে বের হচ্ছে না মৌমাছি।

ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামে সরিষা মাঠে ১৫০ টি মৌবক্সে মধু সংগ্রহ করছেন আমজাদ হোসেন। সপ্তাহে প্রতিটি মৌবক্স থেকে প্রায় ৩ কেজি করে মধ্য সংগ্রহের আশা তার। কিন্তু আবহাওয়ায় সেটি ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যে শীত, এর সাথে ঠান্ডা বাতাস। এতে মধু সংগ্রহ নিয়ে চিন্তা কম করছি। আপাতত মৌবক্স ও মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় আছি। সংগ্রহকৃত মধু মৌমাছির জন্য রেখে দিয়েছি, যেনো সেটা খেয়ে তারা বেঁচে থাকতে পারে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের গোলাম ও শফিক সহ কয়েকজন মৌ চাষি জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে মৌ-বাক্স থেকে মৌমাছি বের হবে না, মধুও উৎপাদন করা যাবে না। ঠান্ডায় মৌমাছি না খেতে পেয়ে দুর্বল হয়ে যাবে, বেশি দিন থাকলে মারাও যেতে পারে। মৌমাছি সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে মৌ বক্সের মধু মৌমাছির খাবার হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, গত এক মাসে দুইবার মধু উৎপাদন করেছেন। ১৫০ মৌ বাক্স থেকে প্রথমবার ১০ মণ ও দ্বিতীয়বার ১৯ মণ মধু পাওয়া গেছে। শীতের তীব্রতা না বাড়লে ২০ মণের বেশি মধু উৎপাদন করা যেত। এক্ষেত্রে দ্রুত শীত না কমলে মধ্য সংগ্রহে তারা পিছিয়ে পড়বেন বলেও জানান।

সদর উপজেলার গয়েশপুরের মৌচাষি জাহাঙ্গীর জানান, এবছর সপ্তাহে মৌবক্স থেকে কেজি দুয়েক করে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। কিন্তু বুধবার শীত বাড়ায় সেটি কমে যায়। সবশেষ বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে ২/৩ দিন ধরে মৌমাছিরা বেরই হয়নি। তবে আজ (রবিবার) কিছুটা রোদ ওঠায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছু কিছু মৌমাছি বের হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় ৪৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমি মৌচাষের আওতায় রয়েছে। জেলায় ১০ হাজার মৌবক্সের লক্ষমাত্রার বিপরীতে এসব জমিতে ৬১ জন মৌচাষি ৭ হাজার ৫৮ টি মৌবক্স স্থাপন করে মধ্য সংগ্রহ করছেন। এযাবৎ ২৯ হাজার ১৭৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বিপরীতে মৌবক্সে মধু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ কেজি। গতবছর জেলায় মধু উৎপাদন হয়েছিলো ১ লাখ ৮ হাজার কেজি।
ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে মধু উৎপাদন শুরু করেছেন মৌচাষিরা। জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে জানিয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, শীত প্রকৃতিগত ব্যাপার। এটির ফলে আপাত সময়ে মধুচাষে একটু ব্যাঘাত ঘটলেও এর বিপরীতে লাভই বেশি। শীত বাড়লে সরিষার ফুল বেশি ফোটে, গাছ বড় ও মোটা হয় এবং এর পাশাপাশি ফুলে মধুর পরিমাণও বাড়তে থাকে। এদিক থেকে শীতের জন্য দুএকদিন মধ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটলেও পরবর্তীতে চাষিরা অতিরিক্ত মধু সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আরো বেশি লাভবান হবেন। গতবছরের ন্যায় এবারও লক্ষ্যমাত্রার বেশি মধু উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ কর্মকর্তা।

ডিএস//

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়া-১ আসনে নিরাপত্তা শঙ্কা: ১৩৫ কেন্দ্রের ৬৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ

পাবনায় হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে মৌবক্সে মধু সংগ্রহ ব্যাহত, বের হচ্ছে না মৌমাছি

প্রকাশিত : ০৫:২৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

পাবনায় সপ্তাহ খানেক ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সবশেষ গত তিনদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে জেঁকে বসেছে কনকনে ঠান্ডা। এর ফলে মৌবক্স থেকে বের হচ্ছে না মৌমাছি। ফলে গত ২/৩ দিন ধরে মধু উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে রবিবার (৫ জানুয়ারি) বেলা বাড়ার সাথে সাথে মৌমাছি বের হবার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মৌচাষিরা।

মৌচাষিরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি মৌবক্স থেকে গড়ে দেড় থেকে ২ কেজি করে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে গত ২/৩ সেটি ব্যাহত হচ্ছে। উল্টো সংগ্রহকৃত মধু বক্সে রাখা হয়েছে মৌমাছির খাওয়ার জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল, ফরিদপুরের বিএল বাড়ি, সোনাহারা, ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ও সদর উপজেলার গয়েশপুর সহ জেলার বিভিন্ন সরিষা মাঠগুলোতে মধু সংগ্রহে স্থাপন করা হয়েছে মৌবক্স। তীব্র শীতের হাত থেকে মৌবাক্স ও মৌমাছি রক্ষায় পলিথিন ও চটের কাপড় দিয়ে মৌবক্সকে মুড়িয়ে রেখেছেন চাষিরা। এতে বাক্সের ভেতরে বাতাস ঢুকতে না পারলেও মধু সংগ্রহে বের হচ্ছে না মৌমাছি।

ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামে সরিষা মাঠে ১৫০ টি মৌবক্সে মধু সংগ্রহ করছেন আমজাদ হোসেন। সপ্তাহে প্রতিটি মৌবক্স থেকে প্রায় ৩ কেজি করে মধ্য সংগ্রহের আশা তার। কিন্তু আবহাওয়ায় সেটি ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যে শীত, এর সাথে ঠান্ডা বাতাস। এতে মধু সংগ্রহ নিয়ে চিন্তা কম করছি। আপাতত মৌবক্স ও মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় আছি। সংগ্রহকৃত মধু মৌমাছির জন্য রেখে দিয়েছি, যেনো সেটা খেয়ে তারা বেঁচে থাকতে পারে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের গোলাম ও শফিক সহ কয়েকজন মৌ চাষি জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে মৌ-বাক্স থেকে মৌমাছি বের হবে না, মধুও উৎপাদন করা যাবে না। ঠান্ডায় মৌমাছি না খেতে পেয়ে দুর্বল হয়ে যাবে, বেশি দিন থাকলে মারাও যেতে পারে। মৌমাছি সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে মৌ বক্সের মধু মৌমাছির খাবার হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, গত এক মাসে দুইবার মধু উৎপাদন করেছেন। ১৫০ মৌ বাক্স থেকে প্রথমবার ১০ মণ ও দ্বিতীয়বার ১৯ মণ মধু পাওয়া গেছে। শীতের তীব্রতা না বাড়লে ২০ মণের বেশি মধু উৎপাদন করা যেত। এক্ষেত্রে দ্রুত শীত না কমলে মধ্য সংগ্রহে তারা পিছিয়ে পড়বেন বলেও জানান।

সদর উপজেলার গয়েশপুরের মৌচাষি জাহাঙ্গীর জানান, এবছর সপ্তাহে মৌবক্স থেকে কেজি দুয়েক করে সংগ্রহ করা যাচ্ছে। কিন্তু বুধবার শীত বাড়ায় সেটি কমে যায়। সবশেষ বৃহস্পতিবার থেকে অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে ২/৩ দিন ধরে মৌমাছিরা বেরই হয়নি। তবে আজ (রবিবার) কিছুটা রোদ ওঠায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছু কিছু মৌমাছি বের হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় ৪৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমি মৌচাষের আওতায় রয়েছে। জেলায় ১০ হাজার মৌবক্সের লক্ষমাত্রার বিপরীতে এসব জমিতে ৬১ জন মৌচাষি ৭ হাজার ৫৮ টি মৌবক্স স্থাপন করে মধ্য সংগ্রহ করছেন। এযাবৎ ২৯ হাজার ১৭৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বিপরীতে মৌবক্সে মধু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ কেজি। গতবছর জেলায় মধু উৎপাদন হয়েছিলো ১ লাখ ৮ হাজার কেজি।
ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিক থেকে মধু উৎপাদন শুরু করেছেন মৌচাষিরা। জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে জানিয়ে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, শীত প্রকৃতিগত ব্যাপার। এটির ফলে আপাত সময়ে মধুচাষে একটু ব্যাঘাত ঘটলেও এর বিপরীতে লাভই বেশি। শীত বাড়লে সরিষার ফুল বেশি ফোটে, গাছ বড় ও মোটা হয় এবং এর পাশাপাশি ফুলে মধুর পরিমাণও বাড়তে থাকে। এদিক থেকে শীতের জন্য দুএকদিন মধ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটলেও পরবর্তীতে চাষিরা অতিরিক্ত মধু সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আরো বেশি লাভবান হবেন। গতবছরের ন্যায় এবারও লক্ষ্যমাত্রার বেশি মধু উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ কর্মকর্তা।

ডিএস//