সীমান্তের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের একটি অবহেলিত জেলা লালমনিরহাট। এ জেলায় শীত আসলেই বেড়ে যায় হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডা। হঠাৎ করে কয়েকদিন থেকে শীতের প্রকোপ ও হিমেল হাওয়া বেড়ে যাওয়ায় নবজাতক শিশুরা, বয়স্ক, বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন চিকিৎসা নিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতের তীব্রতায় কনকনে ঠান্ডায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসাপাতালের আউটডোরে আগের তুলনায় কয়েকগুন বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। শুধু আউটডোরেই নয় শিশু বিভাগ ও ম্যাডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুন। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডটি ১০ শয্যার হলেও বর্তমানে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৩০ জন শিশু। এসব শিশুরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসা নিতে পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা থেকে আসা শারমিন আক্তার (৫) ঠান্ডাজনিত পানিবাহী রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে গত রবিবার (২৬ জানুয়ারি )। তার মা ফারজানা বেগম বলেন, গত দুইদিনে ঠান্ডার প্রকোপ অনেক বেড়েছে, সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়েছে। হাসপাতালে রোগী বেশি থাকায় মেয়ের জন্য বেড মেলেনি। তাই কষ্ট করে মেঝেতেই বিছানা পেতে আছি।
লালমনিরহাট শহরের বানভাসা এলাকার জহুরা বেগমের ছেলে জয়নাল আবেদীন (০৪) কে নিয়ে বিছানা পেতেছেন হাসপাতালের মেঝেতে। তিনি বলেন, সকালে ছেলেকে নিয়ে এসেছি। ছেলের শরীর কাঁপুনি দিয়ে উঠছে, ঠান্ডার কারণে বারবার বমি হচ্ছে। ভর্তির পরপরই একবার ডাক্তার এসে দেখে গেছেন। ওষুধ পাতি খাওয়ার পর বর্তমান আমার ছেলে একটু সুস্থ আছে।
শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা লোকমান হোসেন (৬০) বলেন, ঠান্ডা পড়লেই আমার এই সমস্যায় পড়তে হয়। এই দুদিনের ঠান্ডা ও শির শির বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে গেছে। বাহিরে ডা. দেখার মত সামর্থ্য না থাকায় হাসপাতালে এসেছি। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তিরত অন্যান্য শিশুদের স্বজনরা বলেন, সকাল থেকে বেশ কয়েকজন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে অনেকেই বেড না পেয়ে মেঝেতে বিছানা করে আছেন। ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে রাতে ঠান্ডা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে শিশু বৃদ্ধরাসহ অনেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা কম ছিলো। চলমান সপ্তাহে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ার কারণে প্রতিদিন রোগীর চাপ আউটডোর ও শিশু ওয়ার্ডে কয়েকগুন বেড়েছে। আমরা আমাদের সামর্থ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোহাগ বলেন, হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা ও ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় নবজাতক শিশুরা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত সপ্তাহের চেয়ে এই তিনদিনে আউটডোরে রোগীর চাপ বাড়ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ রোগী শিশু। অনেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে আবার অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শীত ও ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, নিউমোনিয়া, রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া দেখা দিচ্ছে।
পরামর্শ হিসেবে এই চিকিৎসক বলেন, এই সময় নবজাতক ও শিশুদের মায়ের কাছাকাছি রাখতে হবে। ঘরের মেঝে ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে শিশুদের রাখা যাবে না। শীতে তাদের কুসুম গরম পানি খাওয়াতে হবে। সুষম খাবারের পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খাওয়াতে হবে, স্যালাইনের পানি গরম করার পর ঠান্ডা করে খাওয়াতে হবে। শিশুদের ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া শীতে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এতে তাদের নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ডিএস,,./




















