০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডে জনপ্রতিনিধি নেই, ইউনিয়ন-পৌরসভার নাজুক অবস্থা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান অনেক জনপ্রতিনিধি। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অপসারণ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের।
রাজনীতির কারণে আত্মগোপনে চলে যান পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান ও সদস্য। আবার কেউ বিভিন্ন মামলায় এখন কারাগারে।
জনপ্রতিনিধিবিহীন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। যথাসময়ে মিলছে না নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদ। এ কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বিপাকে পড়েছেন অনেক অভিভাবক।
এসব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ থাকে প্রায় একমাস যাবত। জনগণের ভোগান্তি ও জরুরী প্রয়োজনে অন্তর্বতী সরকার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদেরকে এসব দায়িত্ব বন্টন করে দেন। কার্যক্রম চালুর অনেক দিন পর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মহিলা মেম্বারকে শুধুমাত্র যাচাই বাচাই করে সুপারিশ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অনলাইনে আবেদন ও উপজেলা ইউএনও’র দপ্তর থেকে অনলাইনে গ্রহণ করার পর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর প্রিন্ট করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে আবার নিয়ে যাবেন উনার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দপ্তরে থাকলে স্বাক্ষর করেন অথবা রেখে যেতে বলেন, পরে দেখবেন বলেন। পরেরদিন আবার উপজেলা পরিষদে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটর স্বাক্ষর করা কাগজগুলো নিয়ে যান।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠে থাকেন প্রকল্প পরিদর্শনে তদন্ত ও পরামর্শ দিতে। আবার অনেকেই যেতে হয় জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে মিটিং ও নানান কাজে, কেউ থাকেন ছুটিতে। ফলে জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাগজপত্রগুলো স্বাক্ষর করতে বিলম্বিত হয়।
সরকার নতুন ভোটার হালনাগাদ করবেন ঘোষণা দেয়ার পর জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। নির্ধারিত সময়ে নতুন ভোটার প্রত্যাশীগণ তাদের জন্মনিবন্ধন যথা সময়ে পাবেন কিনা সন্ধিহান। এসব কাগজপত্র পেতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। আর এসব বিবেচনা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানদের প্রতি একটি প্রস্তাব রেখেছেন, যেমন জন্মনিবন্ধন, প্রত্যায়নপত্র সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও ইউএনওসহ এই দুইজনের স্বাক্ষরে দিলে ভূক্তভোগীদের হয়রানী কিছুটা কমবে। ওয়ারিশ সনদ যেহেতু কিছুটা জটিল এই দায়িত্বটি ইউএনও, এসিল্যান্ড বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতে রাখা যেতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ও সরকারের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দাবী জানান ভূক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও মেম্বার না থাকায় প্রশাসনিক কাজ করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এতে সেবা পেতে নানা জটিলতা ও হায়রানি শিকারের অভিযোগ তাদের।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের আলাকুলিপুর এলাকার বাসিন্দা রিপাত বলেন, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ নিতে গেলে অনেক ভোগান্তি। মানে একটা জিনিসের জন্য আসলে এক মাস থেকে দুই মাস সময় লাগে নিতে গেলে। একজন মানুষকে যখন ১০ জনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে যে অবস্থা তৈরী হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা তাই দাঁড়িয়েছি।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকাশ বলেন, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটের জন্য দুই মাস ধরে ঘুরতেছি, এখনও নিতে পারিনি।
পৌরসভার শেখ নগর এলাকার বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, আমার স্বামীর জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য দিয়েছি। আজকে দুই মাস ধরে ঘুরতেছি এখনও পায়নি। এটার জন্য আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধনও করতে পারতেছিনা। যার ফলে মেয়েকেও স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্তরা উনাদের দফতরের কাজকে সম্পন্ন করে এবং এর ফাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব গুলোও সম্পন্ন করছে। এতে কিছুটা বিড়ম্বনা থাকতেই পারে। তাছাড়া যাচাই বাচাই করতেও কিছুটা সময় লাগে। তবে কোনো কাজই থেমে নেই। একটু দেরিতে হলেও সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই হচ্ছে। আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। দালাল চক্রের বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেবার মান উন্নত করতে আরও কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে।
ডিএস../
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

হিন্দুদের নিরাপত্তা কোনো দল নয়, রাষ্ট্র দেবে: ড. আতিক মুজাহিদ

সীতাকুণ্ডে জনপ্রতিনিধি নেই, ইউনিয়ন-পৌরসভার নাজুক অবস্থা

প্রকাশিত : ১১:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান অনেক জনপ্রতিনিধি। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অপসারণ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের।
রাজনীতির কারণে আত্মগোপনে চলে যান পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান ও সদস্য। আবার কেউ বিভিন্ন মামলায় এখন কারাগারে।
জনপ্রতিনিধিবিহীন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। যথাসময়ে মিলছে না নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদ। এ কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বিপাকে পড়েছেন অনেক অভিভাবক।
এসব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ থাকে প্রায় একমাস যাবত। জনগণের ভোগান্তি ও জরুরী প্রয়োজনে অন্তর্বতী সরকার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদেরকে এসব দায়িত্ব বন্টন করে দেন। কার্যক্রম চালুর অনেক দিন পর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মহিলা মেম্বারকে শুধুমাত্র যাচাই বাচাই করে সুপারিশ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অনলাইনে আবেদন ও উপজেলা ইউএনও’র দপ্তর থেকে অনলাইনে গ্রহণ করার পর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর প্রিন্ট করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে আবার নিয়ে যাবেন উনার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দপ্তরে থাকলে স্বাক্ষর করেন অথবা রেখে যেতে বলেন, পরে দেখবেন বলেন। পরেরদিন আবার উপজেলা পরিষদে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটর স্বাক্ষর করা কাগজগুলো নিয়ে যান।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠে থাকেন প্রকল্প পরিদর্শনে তদন্ত ও পরামর্শ দিতে। আবার অনেকেই যেতে হয় জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে মিটিং ও নানান কাজে, কেউ থাকেন ছুটিতে। ফলে জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাগজপত্রগুলো স্বাক্ষর করতে বিলম্বিত হয়।
সরকার নতুন ভোটার হালনাগাদ করবেন ঘোষণা দেয়ার পর জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। নির্ধারিত সময়ে নতুন ভোটার প্রত্যাশীগণ তাদের জন্মনিবন্ধন যথা সময়ে পাবেন কিনা সন্ধিহান। এসব কাগজপত্র পেতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। আর এসব বিবেচনা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানদের প্রতি একটি প্রস্তাব রেখেছেন, যেমন জন্মনিবন্ধন, প্রত্যায়নপত্র সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও ইউএনওসহ এই দুইজনের স্বাক্ষরে দিলে ভূক্তভোগীদের হয়রানী কিছুটা কমবে। ওয়ারিশ সনদ যেহেতু কিছুটা জটিল এই দায়িত্বটি ইউএনও, এসিল্যান্ড বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতে রাখা যেতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ও সরকারের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দাবী জানান ভূক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও মেম্বার না থাকায় প্রশাসনিক কাজ করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এতে সেবা পেতে নানা জটিলতা ও হায়রানি শিকারের অভিযোগ তাদের।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের আলাকুলিপুর এলাকার বাসিন্দা রিপাত বলেন, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ নিতে গেলে অনেক ভোগান্তি। মানে একটা জিনিসের জন্য আসলে এক মাস থেকে দুই মাস সময় লাগে নিতে গেলে। একজন মানুষকে যখন ১০ জনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে যে অবস্থা তৈরী হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা তাই দাঁড়িয়েছি।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকাশ বলেন, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটের জন্য দুই মাস ধরে ঘুরতেছি, এখনও নিতে পারিনি।
পৌরসভার শেখ নগর এলাকার বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, আমার স্বামীর জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য দিয়েছি। আজকে দুই মাস ধরে ঘুরতেছি এখনও পায়নি। এটার জন্য আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধনও করতে পারতেছিনা। যার ফলে মেয়েকেও স্কুলে ভর্তি করাতে পারিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্তরা উনাদের দফতরের কাজকে সম্পন্ন করে এবং এর ফাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব গুলোও সম্পন্ন করছে। এতে কিছুটা বিড়ম্বনা থাকতেই পারে। তাছাড়া যাচাই বাচাই করতেও কিছুটা সময় লাগে। তবে কোনো কাজই থেমে নেই। একটু দেরিতে হলেও সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই হচ্ছে। আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। দালাল চক্রের বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেবার মান উন্নত করতে আরও কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা চলছে।
ডিএস../