পুলিশের তথ্য বলছে, খুন ছাড়াও ছিনতাই, ডাকাতি, দস্যুতা,দখল বে দখল, শিশু নির্যাতন, অপহরণ, সিঁধেল চুরির ঘটনা বেড়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পেশাগত অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর কারণেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের কাজের গতিহীনতা। পুলিশ অবশ্য বলছে ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর ব্যাপক হামলা, অনাস্থা আর আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ভূমিকার জন্য পুলিশ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়।আবার নতুন করে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ার ভয়েও অনেক ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেছেন অনেক পুলিশ সদস্য।
এসব কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।একদিনেই তিনজনকে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির নেপথ্যে ছিলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল। মুক্তিপণ দিতে রাজী না হলে তিনজনকে মেরে ফেলার জন্য অনুসারীদের মুঠোফোন নির্দেশ দেন সাইফুল। অপহরণের ঘটনায় সাইফুলের ভাই ফাহিমও জড়িত ছিল।
অপহরণের শিকার তিনজন হলেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত কাজল দে প্রকাশ কেশব মিত্র দাস (৪৩), সেবক রুবেল রুদ্র (৪২) ও বায়েজিদ থানার হিলভিউ এলাকার বাসিন্দা সমির দাস (৪৫)।তিন সহোদর সুবজ-সাইফুল-ফাহিম। কথায় কথায় মানুষকে মারধর, অপহরণ কিংবা কোপানো যেন তাদের নিত্যদিনের কাজ। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে নানা অপরাধে জড়ানোর কারণে দুই ভাইকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড কিন্তু থেমে নেই। নগরের ষোলশহর থেকে বায়েজিদ অক্সিজেন পর্যন্ত ছড়িয়েছে সাইফুলের আধিপত্য। পুলিশও যেন অসহায় সাইফুলের কাছে। তিন সহোদরের মধ্যে সাইফুলের বিরুদ্ধে ২৮, সবুজের বিরুদ্ধে ৩৩ ও ফাহিমের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় গত রবিবার বায়েজিদ থানায় মামলা দায়ের করেন রুবেল রুদ্র। মামলায় আটজনকে এজাহারভুক্ত ও ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার চারজন ছাড়া পলাতক চারজন হলেন সাইফুলের ছোট ভাই ফাহিম, সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন টিংকু, মো. মিঠু ও করম আলী।রুবেল রুদ্র বলেন, হিলভিউ এক নম্বর সড়কের ডি-ব্লকে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে লন্ড্রি দোকান শুরু করেন। ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটায় সাইফুলের ভাই ফাহিমসহ ১৫/২০ জনের একদল যুবক এসে রুবেলকে দোকান থেকে বের করে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় নিয়ে আটকে রাখে। তারা বলেন, মুক্তি পেতে হলে সাইফুল ও বার্মা সবুজকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা রুবেলকে মারধর করে। রুবেল তার কাছে থাকা ২৫০০ টাকা অপহরণকারীদের দিয়ে দেয়। এরমধ্যে দুপুরের দিকে সমীর দাশকেও তার দোকান থেকে তুলে নিয়ে আসে তাদের সহযোগীরা।রুবেল আরও বলেন, সমীরের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দাবি করে। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সমীরের পরিচিত কেশব মিত্রকেও নিয়ে আসে তারা।
এক পর্যায়ে তারা তিনজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এরমধ্যে অপহরণকারীরা মুঠোফোনে সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সাইফুলের সঙ্গে কথা বলার পর তারা তিনজনকে একটি ট্যাক্সিতে তুলে পলিটেকনিক মোড়ের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পিছনে বাগানের ভেতর নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটকও করা হয়। ওই ঘটনায় গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) রইছ উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার চারজনই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুলের সহযোগী ছিল। বার্মা সাইফুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সহযোগী আসিফসহ ৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছে থেকে অস্ত্র ও বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হল- মো. আসিফ (২২), মো. হাসান (২০), মো. ফয়সাল (১৯), মো. আজিম উদ্দিন (২৩), মো. রিফাদ (১৯), মো. জুয়েল (২০)।গত রবিবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁও খলিলশাহ মাজার সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গত রবিবারে রাতে কুলগাঁও খলিলশাহ মাজার সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ের একটি বাড়ি থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সহযোগী আসিফসহ ৬ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি এলজি, তিনটি হাসুয়া, ছয়টি কিরিচি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি কাটার, দুইটি ড্রিল মেশিন, ছয়টি এন্ড্রয়েড মোবাইল, চারটি বাটন মোবাইল, পাঁচটি ডেমো মোবাইল, একটি ইলেকট্রিক শট, একটি মনিটর, তিনটি হাত ঘড়ি, আটটি এটিএম কার্ড, একটি হ্যান্ড ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।তিনি আরও জানান, আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বায়েজিদ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের নেতৃত্বে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে বিভিন্ন পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা পয়সা, ঘড়ি, এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করে আসছিল।
তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।গতকাল ফেইসবুক লাইভে এসে চট্টগ্রামের একটি থানার ওসিকে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, যিনি হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০টি মামলার আসামি।বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে লাইভে এসে পেটানোর হুমকি দেন সাজ্জাদ।এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওসি আরিফ হোসেন।স্থানীয়ভাবে সাজ্জাদ এলাকায় ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিত। হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী এই ছোট সাজ্জাদ।গত মঙ্গলবার ২৮ জানুয়ারি আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৫টায় বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের এবি ইয়ার্ড থেকে চুরির ঘটনায় ভাইরাল চিকন আলী (২৮) নামের একজনকে চোরাই পণ্যসহ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, আসামি চিকন আলী ও উদ্ধার করা চোরাই পণ্য বন্দর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।ডবলমুরিংয়ে ডাকাতদের একটি গোপন আস্তানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা গুলি থানা থেকে লুট করা বলে ধারণা করছে পুলিশ।নগরীর ডবলমুরিং থানার ঝর্নাপাড়া ঢেবার পাড় এলাকায় গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ এ অভিযান চালায়।জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—১৬ রাউন্ড সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু চায়না রাইফেলের গুলি, ১ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি কিরিচ, ১টি টিপ ছোরা, ১টি ট্রিবিল ছুরি, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি হাতুড়ি এবং ১টি বিদেশি মদের খালি বোতল।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বলেন, ঢেবার পাড় এলাকায় শাহজালাল নামে এক ব্যক্তিকে ধরতে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। তাকে পাওয়া না গেলেও তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে গুলি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।ওসি বলেন, উদ্ধার করা বুলেটগুলো পুলিশের। আমাদের ধারণা গত ৫ অগাস্ট বিভিন্ন থানায় হামলা ও লুটপাটের সময় সেগুলো লুট হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. হাছান (২৫), মো. শোয়াইব প্রকাশ সৌরভ (১৬), মেহেদী হাসান শুভ প্রকাশ বাবু (১৯), ইফতেখার আলী ওয়াবিদ (২১), হানিফুর রহমান ইরফান (১৯) ও মোহাম্মদ জনি (৩৫)।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দীন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে বহদ্দারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় অপহরণে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের কাছ থেকে ১০টি বড় ধারালো কিরিচ, একটি ড্রেগার ও একটি চাকু এবং ৫টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হল- বাছির আহম্মদ রানা (২৭), মো. জিহাদ (২৪), মো. আরিফ (২৪), মো. ইমন প্রকাশ সাদ্দাম (২৩)।গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় পূর্ব নাসিরাবাদের পলিটেকনিকেল মোড় ও শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রের পেছনে বাগান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর-দক্ষিণ)।জানা গেছে, গতকাল রাত পৌনে ৮টায় নগরীর পাঁচলাইশের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার পলিটেকনিকেল মোড় ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনে বাগানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০টি বড় ধারালো কিরিচ, একটি ড্রেগার ও একটি চাকু এবং ৫টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সাত থেকে আটজন পালিয়ে যায়। অপহৃতদের হিলভিউ রোড থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণ করে প্রথমে হিলভিউ রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় পরে পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় পলিটেকনিকেল মোড় ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পিছনে বাগান নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গ্রেপ্তার অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি সংক্রান্তে একাধিক মামলা রয়েছে।নাছিরের নাম ভাঙিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি চক্র চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে শিবির নাছির।গত বুধবার রাতে নগরীর চকবাজার এলাকায় নিজের নতুন অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন।র্যাব-পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নাছির একসময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় শিবির নাছির নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে শিবির নাছিরের বিরুদ্ধে জোড়া খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনের মামলা ছিল ৩৬টি। একে একে খালাস পেয়েছেন ৩১টি মামলায়। দুটিতে সাজা হলেও আগে কারাভোগে শেষ হয়ে যায়। আছে আর তিনটি মামলা। তিনটি মামলায় জামিন নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত বছরের ১১ আগস্ট কারাগার থেকে বের হন নাছির।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেছেন, কোন অপরাধীর জায়গা চট্টগ্রাম নগরীতে হবে না। অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা দরকার। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিএমপি পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে সিটিজেনস্ ফোরামের মহানগর কমিটির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বন্ধ না হলে যে কোনো সময় গণপরিবহন বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৃহত্তর চট্টগ্রামে গণ-পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতারা। বুধবার দুপুরে শাহ-আমানত সেতু এলাকায় ঈগল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মালিক-শ্রমিকদের জখমের প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা, ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে অর্থাৎ আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে প্রায় সবাই তটস্থ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।নিরাপদে বসবাস করার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। মানুষের এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, মানুষের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। কাজেই সংকটকালীন অবস্থা থেকে উত্তরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে মানুষের স্বার্থেই রাষ্ট্রের সব আয়োজন।মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা, কারো প্ররোচনায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো, অপহরণ করা, জিম্মি করে টাকা আদায় ইত্যাদি কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
//ডিএস../




















