১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারের দোকানে

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কামার শিল্পীরা। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলমানরা প্রতি বছর আল্লাহকে রাজি খুশি করতে ঈদুল আজহায় পশু জবাই করে। আর এই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। মাংস কাটা এবং কোরবানীর পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব ব্যবহার করা হয়।

চলছে হাপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরী করছেন ছুরি, দা, বঁটিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। পৌরসভা ও গ্রামগঞ্জে সব জায়গায় কামাররা নতুন সরঞ্জাম তৈরীর পাশাপাশি পুরোনো ছুরি, দা, বঁটি ও চাপাতিতে শান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার মোটরচালিত মেশিনে শান দেওয়ার কাজও চলছে।

সবমিলিয়ে দম ফেলার যেন সময় নেই কামারদের। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় তাদের কাজ বেড়ে গেছে বহুগুণ। দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। তাদের এ ব্যস্ততা চলবে ঈদুল আযহার দিন পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন কামারের দোকানে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে এই শিল্পের দুর্দিন চললেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সীতাকুণ্ড বাজারের নয়ন কর্মকার বলেন, সারা বছরের মধ্যে কোরবানী ঈদেই আমাদের বেশী ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম বেশী। তাই তৈরী করা সরঞ্জাম বেশী বিক্রি হলেও লাভ কম হয়। আমরা বছরজুড়ে এ সময়ের অপেক্ষায় থাকি। সারাবছর আমাদের তেমন বিক্রি হয় না। কোরবানী ঈদের এক মাস আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। উৎপাদন ও প্রতিযোগীতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে অনেক কম। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ২৫০ থেকে ৮০০টাকা, বঁটি ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পশু জবাই এর ছুরি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা ও চাপাতি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের মিরেরহাট বাজারের সুমন কর্মকার বলেন, প্রতি বছর কোরবানী ঈদে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরী করে থাকি। এবারও এসব উপকরণের চাহিদা বেড়েছে। সারাবছর আমরা যে আয় করি কোরবানী ঈদের এক মাসে তার চেয়ে বেশী আয় করতে পারি। এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানী হচ্ছে কয়লা। কিন্তু কয়লা এখন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গ্রামগঞ্জে ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

মিরেরহাট বাজারে দা বানাতে আসা সাইমন হোসেন বলেন, আগের চেয়ে দাম অনেক বেশী। আগে যে দা বানাতাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়, সেটি এখন বানাতে লাগছে ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা।

কামারপল্লীর কারিগররা জানান, কয়লা ও লোহার দাম অনেক বেশী। তাই তৈরী করা সরঞ্জাম বিক্রি বেশী হলেও লাভ কম হয়। তাদের অভিযোগ, পরিশ্রমের তুলনায় মজুরী অনেক কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কমে যাচ্ছে এই পেশার মানুষ। বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকেই।

ডিএস./

ট্যাগ :

২০ বছর পর বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারের দোকানে

প্রকাশিত : ০৬:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কামার শিল্পীরা। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলমানরা প্রতি বছর আল্লাহকে রাজি খুশি করতে ঈদুল আজহায় পশু জবাই করে। আর এই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। মাংস কাটা এবং কোরবানীর পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব ব্যবহার করা হয়।

চলছে হাপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরী করছেন ছুরি, দা, বঁটিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। পৌরসভা ও গ্রামগঞ্জে সব জায়গায় কামাররা নতুন সরঞ্জাম তৈরীর পাশাপাশি পুরোনো ছুরি, দা, বঁটি ও চাপাতিতে শান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার মোটরচালিত মেশিনে শান দেওয়ার কাজও চলছে।

সবমিলিয়ে দম ফেলার যেন সময় নেই কামারদের। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় তাদের কাজ বেড়ে গেছে বহুগুণ। দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। তাদের এ ব্যস্ততা চলবে ঈদুল আযহার দিন পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন কামারের দোকানে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে এই শিল্পের দুর্দিন চললেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সীতাকুণ্ড বাজারের নয়ন কর্মকার বলেন, সারা বছরের মধ্যে কোরবানী ঈদেই আমাদের বেশী ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম বেশী। তাই তৈরী করা সরঞ্জাম বেশী বিক্রি হলেও লাভ কম হয়। আমরা বছরজুড়ে এ সময়ের অপেক্ষায় থাকি। সারাবছর আমাদের তেমন বিক্রি হয় না। কোরবানী ঈদের এক মাস আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। উৎপাদন ও প্রতিযোগীতা বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে অনেক কম। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ২৫০ থেকে ৮০০টাকা, বঁটি ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পশু জবাই এর ছুরি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা ও চাপাতি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের মিরেরহাট বাজারের সুমন কর্মকার বলেন, প্রতি বছর কোরবানী ঈদে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরী করে থাকি। এবারও এসব উপকরণের চাহিদা বেড়েছে। সারাবছর আমরা যে আয় করি কোরবানী ঈদের এক মাসে তার চেয়ে বেশী আয় করতে পারি। এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানী হচ্ছে কয়লা। কিন্তু কয়লা এখন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গ্রামগঞ্জে ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

মিরেরহাট বাজারে দা বানাতে আসা সাইমন হোসেন বলেন, আগের চেয়ে দাম অনেক বেশী। আগে যে দা বানাতাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়, সেটি এখন বানাতে লাগছে ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা।

কামারপল্লীর কারিগররা জানান, কয়লা ও লোহার দাম অনেক বেশী। তাই তৈরী করা সরঞ্জাম বিক্রি বেশী হলেও লাভ কম হয়। তাদের অভিযোগ, পরিশ্রমের তুলনায় মজুরী অনেক কম। সারাদিন আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কমে যাচ্ছে এই পেশার মানুষ। বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা পরিবর্তন করছেন অনেকেই।

ডিএস./