০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আয়োজনে

দিনাজপুরে ঐতিহাসিক সাওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত

সোমবার (৩০ জুন ২০২৫) দিনাজপুর শহরের লোকভবন টাউন হল প্রাঙ্গনে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তারেক কবিরাজ এবং পরিচালনা করেন আদিবাসী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন এক্কা। দিনব্যাপী এই আয়োজন ছিলো সাঁওতাল নৃত্য পরিবেশন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমালা অর্পন ও সপথ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ও কৃষকদের অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়নসহ দিনাজপুরের কৃষক নেতারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার সভাপতি হাসিনুর রহমান, দিনাজপুর জেলর কৃষক নেতা মো. রশিদুল ইসলাম জুয়েল, দিনাজপুর জেলার কিষাণী নেত্রী সাবিহা খাতুন, রওশন আরা বেগম, শুকলা কুন্ডু, বিপাসা রানী, দিনাজপুর জেলার আদিবাসী নেতা রুনু মিনজি, রবিন হেমরম, পার্বতী মূর্মূ, মন্টু মূর্মূ প্রমুখ। বক্তারা বিদ্রোহের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আদিবাসী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় ১০ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানে আদিবাসী স্বীকৃতি, প্রথাগত জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং স্বাধীন জাতীয় আদিবাসী ভূমি কমিশন গঠন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস শুধু অতীত নয়, এটি আজও প্রাসঙ্গিক।

শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসের এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহ বা সাঁওতাল হুল ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদার মহাজনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র আন্দোলন। চার ভাই সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সংঘটিত এই আন্দোলন ব্রিটিশ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যুদ্ধে সাঁওতালদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা আজও বাংলাদেশের কৃষক ও আদিবাসী আন্দোলনের জন্য প্রেরণার উৎস।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আয়োজনে

দিনাজপুরে ঐতিহাসিক সাওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত

প্রকাশিত : ০৫:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

সোমবার (৩০ জুন ২০২৫) দিনাজপুর শহরের লোকভবন টাউন হল প্রাঙ্গনে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তারেক কবিরাজ এবং পরিচালনা করেন আদিবাসী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন এক্কা। দিনব্যাপী এই আয়োজন ছিলো সাঁওতাল নৃত্য পরিবেশন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমালা অর্পন ও সপথ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ও কৃষকদের অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়নসহ দিনাজপুরের কৃষক নেতারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার সভাপতি হাসিনুর রহমান, দিনাজপুর জেলর কৃষক নেতা মো. রশিদুল ইসলাম জুয়েল, দিনাজপুর জেলার কিষাণী নেত্রী সাবিহা খাতুন, রওশন আরা বেগম, শুকলা কুন্ডু, বিপাসা রানী, দিনাজপুর জেলার আদিবাসী নেতা রুনু মিনজি, রবিন হেমরম, পার্বতী মূর্মূ, মন্টু মূর্মূ প্রমুখ। বক্তারা বিদ্রোহের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আদিবাসী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় ১০ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানে আদিবাসী স্বীকৃতি, প্রথাগত জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং স্বাধীন জাতীয় আদিবাসী ভূমি কমিশন গঠন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস শুধু অতীত নয়, এটি আজও প্রাসঙ্গিক।

শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসের এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।

সাঁওতাল কৃষক বিদ্রোহ বা সাঁওতাল হুল ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদার মহাজনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র আন্দোলন। চার ভাই সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সংঘটিত এই আন্দোলন ব্রিটিশ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যুদ্ধে সাঁওতালদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা আজও বাংলাদেশের কৃষক ও আদিবাসী আন্দোলনের জন্য প্রেরণার উৎস।

ডিএস./