গত সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের উপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (এয়ারফোর্সের) একটি এফ-৭ বিজিআই চাইনিজ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুর্ঘটনার ঘটনায় শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়ে আহত হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে মাইলস্টোন স্কুলের প্রাইমারি শাখার ইংরেজি মাধ্যমের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা মাসুকা বেগম (নিপু)’র শেষ ইচ্ছা (অসিয়ত) অনুযায়ী গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাদ আছর আশুগঞ্জের সোহাগপুর ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে তার বড় বোনের এলাকা সোহাগপুর গ্রামের প্রধান কবরস্হানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিমানটি যখন দুর্ঘটনায় পতিত হও ঠিক সেই সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস নিচ্ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে নিহতের লাশের গোসল করানো হয়ে গেলে বার্ন ইউনিট থেকে মাসুকার বড় বোন পাঁপড়ী রহমান ও স্বামী ব্যাবসায়ী খলিলুর রহমান তার লাশ গ্রহণ করেন। শিক্ষিকা মাসুকার ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান জানান, মৃত্যুর আগে হাসপাতালে পাশের বেডে চিকিৎসাধীন আরেক শিক্ষককে মাসুকা তার মৃত্যু হলে যেন তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগপুরে কবর দেওয়া হয় এ অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তার লাশ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তিনিসহ তার স্বজনরা মিলে অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নিয়ে আসেন। পরে বাদ আসর আশুগঞ্জের সোহাগপুর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে ওই গ্রামের প্রধান কবরস্থনে তার লাশ দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, নিহত শিক্ষিকা মাসুকা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর ছোট মেয়ে। ৩ তিন ভাই বোনের মধ্যে মাসুকা ছিলেন সবার ছোট ।প্রায় ১৫ বছর আগে মাসুকার মায়ের মৃত্যু হলে তিনি মায়ের মৃত্যুর পর আশুগঞ্জের সোহাগপুরে বোনের কাছেই থেকেই বড় হয়েছিলেন। এদিকে তার এমন মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চিলোকূট ও আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রাম জুড়ে এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে মুহ্যমান তার পরিবারের কাউকে শান্তনা দেবার ভাষাও জেনো কারো জানা নেই।
ডিএস./



















