০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু এখনো রহস্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সহপাঠীদের ধারণা, আরিফ পরিকল্পিত হত্যার শিকার। বিভাগের চেয়ারম্যানের ধারণা, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। আরিফুলের মৃত্যু পানিতে ডুবে, না এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

তিনি কেরানীগঞ্জের একটি মেসে থাকতেন। বুড়িগঙ্গার তীরের একটি বাসায় টিউশনি করাতেন।সোমবার সকাল ১০টার দিকে মেস থেকে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে টিউশনির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

সেদিন বেলা ১১টার দিকে সদরঘাটের তিন নম্বর প্লাটুনের লঞ্চের পেছনে পানিতে তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। তার ব্যাগ ও মোবাইল উদ্ধারকারী নৌকার মাঝি রফিক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, তিনি তিন নম্বর প্লাটুনের লঞ্চের পেছনে পানিতে ভাসতে থাকা ব্যাগে আরিফুলের মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান।

পরে বেলা ১টার দিকে আরিফুলের মোবাইল ফোনে দুজন মহিলা ও তার ভাই কল করলে তিনি তাদের মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা জানান।

পরে আরিফুলের ভাই রাশেদুল ও তার বন্ধুরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে রাতে তার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন।

সোম ও মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গায় ডুবুরি দল অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার বিকালে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটের পাশে নদীর মাঝখানে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পায়।

আরিফুলের সহপাঠীরা জানায়, আরিফুল বিভাগের ফার্স্ট বয়। তিনি অনেক শান্ত নম্র স্বভাবের ছিলেন। সে বিভাগের ফার্স্ট বয় ছিল। সর্বশেষ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮৫।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘আরিফুলের মৃত্যুটা অস্বাভাবিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছি ময়নাতদন্ত ও আইনগত বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। নৌকায় তো একজন থাকে না, সঙ্গে অন্যরা থাকে। তার মৃত্যুটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রমেন্দ্র সরকার জানান, আরিফুলের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আমাদের কাছে আসেনি। রিপোর্ট পাওয়ার পরই তদন্তের কাজ দ্রুতগতিতে করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

নিহত আরিফুল ইসলামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মারুফদহ মাঝপাড়া করবস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় দাফন সম্পন্ন হয়।:

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

জবির শিক্ষার্থীর মৃত্যু এখনো রহস্য

প্রকাশিত : ০১:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৮

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সহপাঠীদের ধারণা, আরিফ পরিকল্পিত হত্যার শিকার। বিভাগের চেয়ারম্যানের ধারণা, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। আরিফুলের মৃত্যু পানিতে ডুবে, না এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

তিনি কেরানীগঞ্জের একটি মেসে থাকতেন। বুড়িগঙ্গার তীরের একটি বাসায় টিউশনি করাতেন।সোমবার সকাল ১০টার দিকে মেস থেকে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে টিউশনির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

সেদিন বেলা ১১টার দিকে সদরঘাটের তিন নম্বর প্লাটুনের লঞ্চের পেছনে পানিতে তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। তার ব্যাগ ও মোবাইল উদ্ধারকারী নৌকার মাঝি রফিক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, তিনি তিন নম্বর প্লাটুনের লঞ্চের পেছনে পানিতে ভাসতে থাকা ব্যাগে আরিফুলের মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান।

পরে বেলা ১টার দিকে আরিফুলের মোবাইল ফোনে দুজন মহিলা ও তার ভাই কল করলে তিনি তাদের মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা জানান।

পরে আরিফুলের ভাই রাশেদুল ও তার বন্ধুরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে রাতে তার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন।

সোম ও মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গায় ডুবুরি দল অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার বিকালে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটের পাশে নদীর মাঝখানে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পায়।

আরিফুলের সহপাঠীরা জানায়, আরিফুল বিভাগের ফার্স্ট বয়। তিনি অনেক শান্ত নম্র স্বভাবের ছিলেন। সে বিভাগের ফার্স্ট বয় ছিল। সর্বশেষ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮৫।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘আরিফুলের মৃত্যুটা অস্বাভাবিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর চিঠি দিয়েছি ময়নাতদন্ত ও আইনগত বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। নৌকায় তো একজন থাকে না, সঙ্গে অন্যরা থাকে। তার মৃত্যুটা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি রমেন্দ্র সরকার জানান, আরিফুলের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আমাদের কাছে আসেনি। রিপোর্ট পাওয়ার পরই তদন্তের কাজ দ্রুতগতিতে করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

নিহত আরিফুল ইসলামের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মারুফদহ মাঝপাড়া করবস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় দাফন সম্পন্ন হয়।: