১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধে পা হারানো মানুষদের জন্য গাজায় ফুটবল টুর্নামেন্ট

ছবি: সংগৃহতি

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতায় অঙ্গহানি হওয়া মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ফিরিয়ে আনতে গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে ‘অ্যাম্পিউটি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ শুরু হয়েছে।

এতে অংশ নিচ্ছেন প্যালেস্টাইনের মানুষজন, যাদের মধ্যে অনেকেই সংঘাতের সময় আহত হয়েছেন, কেউ আবার বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষে আহত।

যুদ্ধাহত খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই আয়োজনটি ইতোমধ্যেই অঞ্চলে মানবিক পুনর্বাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন এমন বহু যুবক, যারা গত কয়েক বছরের বিভিন্ন হামলা, বিস্ফোরণ বা সংঘর্ষে পা হারিয়েছেন। ক্রাচের সাহায্যে ফুটবল খেলার এই বিশেষ ফরম্যাটে মাঠজুড়ে দেখা গেছে অসম্ভবকে সম্ভব করার এক অনন্য দৃশ্য ।যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতার ওপরে উঠে খেলোয়াড়দের লড়াইই হয়ে উঠেছে প্রধান পরিচয়।

এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাহতদের জন্য শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও সামাজিক আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করেছে।

খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, ফুটবল তাদের জীবনে নতুন অর্থ এনে দিয়েছে। একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা হয়তো পা হারিয়েছি, কিন্তু স্বপ্ন হারাইনি। মাঠে দাঁড়াতে পারা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”

তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়া অবকাঠামো, সরঞ্জামের অভাব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তবুও খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা ও অদম্য মনোবল স্থানীয় সমাজকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

মানবিক সংকটে ভরা গাজায় এই টুর্নামেন্ট তাই শুধু একটি খেলার আয়োজন নয় এটি আশা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের প্রতি নতুন বিশ্বাসের এক শক্তিশালী প্রতীক।

ডিএস।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

যুদ্ধে পা হারানো মানুষদের জন্য গাজায় ফুটবল টুর্নামেন্ট

প্রকাশিত : ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সহিংসতায় অঙ্গহানি হওয়া মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ফিরিয়ে আনতে গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে ‘অ্যাম্পিউটি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ শুরু হয়েছে।

এতে অংশ নিচ্ছেন প্যালেস্টাইনের মানুষজন, যাদের মধ্যে অনেকেই সংঘাতের সময় আহত হয়েছেন, কেউ আবার বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষে আহত।

যুদ্ধাহত খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই আয়োজনটি ইতোমধ্যেই অঞ্চলে মানবিক পুনর্বাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন এমন বহু যুবক, যারা গত কয়েক বছরের বিভিন্ন হামলা, বিস্ফোরণ বা সংঘর্ষে পা হারিয়েছেন। ক্রাচের সাহায্যে ফুটবল খেলার এই বিশেষ ফরম্যাটে মাঠজুড়ে দেখা গেছে অসম্ভবকে সম্ভব করার এক অনন্য দৃশ্য ।যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতার ওপরে উঠে খেলোয়াড়দের লড়াইই হয়ে উঠেছে প্রধান পরিচয়।

এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাহতদের জন্য শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও সামাজিক আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করেছে।

খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, ফুটবল তাদের জীবনে নতুন অর্থ এনে দিয়েছে। একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা হয়তো পা হারিয়েছি, কিন্তু স্বপ্ন হারাইনি। মাঠে দাঁড়াতে পারা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”

তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়া অবকাঠামো, সরঞ্জামের অভাব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তবুও খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা ও অদম্য মনোবল স্থানীয় সমাজকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

মানবিক সংকটে ভরা গাজায় এই টুর্নামেন্ট তাই শুধু একটি খেলার আয়োজন নয় এটি আশা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের প্রতি নতুন বিশ্বাসের এক শক্তিশালী প্রতীক।

ডিএস।