ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তার পুরনো আসন চট্টগ্রাম–১১ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম–১০ আসনে জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম–৪ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে।
এর আগে বিএনপি চট্টগ্রাম–১০ আসনে আমীর খসরু এবং চট্টগ্রাম–৪ আসনে কাজী সালাউদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে শেষ পর্যন্ত আমীর খসরুকে তার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম–১১-এ ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে চট্টগ্রাম–১০ আসনে বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
বিএনপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় গত ৩ নভেম্বর ১০টি আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় আরও তিনটি আসনের নাম ঘোষণা করা হলেও চট্টগ্রাম–১১ তখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ আসনে আমীর খসরুর পাশাপাশি তার ছেলে ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
চট্টগ্রাম–৪ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন করে বিএনপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে এর আগে তার সমর্থকরা সড়ক অবরোধসহ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রার্থী পরিচিতিতে দেখা যায়, সাঈদ আল নোমান রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুর পর তিনি প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। অল্প সময়ের মধ্যেই বাবার অনুসারী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন তিনি।
অন্যদিকে, চারবারের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা। তিনি ২০০১ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। স্থানীয়ভাবে তার ‘ক্লিন ইমেজ’ ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
চট্টগ্রাম–৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ছাত্রদল রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত নেতা। একাধিকবার কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগেও একই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সাঈদ আল নোমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনগণ সুযোগ দিলে তিনি জনসেবায় আত্মনিয়োগ করবেন। আর আসলাম চৌধুরী বলেন, দল ও জনগণের আস্থার মর্যাদা রাখতেই তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের এই তিনটি আসনে প্রার্থী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বিএনপি অভিজ্ঞতা ও উত্তরাধিকার—দুয়ের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে দলটির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ডিএস./













