র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৩ প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে।
এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বনশ্রীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল আসামি মোঃ মিলন মল্লিক (২৮)বাগেরহাট’কে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ২০৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গত ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তার দুই মেয়ে শোভা আক্তার (২৩) ও মোসাঃ ফাতেমা আক্তার নীলি (১৮) কে বাসায় রেখে জমি সংক্রান্ত কাজে তার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ী হবিগঞ্জে গমন করে। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১৩.৩০ ঘটিকায় বাদীর বড় মেয়ে শোভা আক্তার (২৩) তার ছোট বোন মোসাঃ ফাতেমা আক্তার নীলি (১৮)’কে বাসায় রেখে জিম করার জন্য জিম সেন্টারে যায়।
একই তারিখ বেলা আনুমানিক ১৫.৩০ ঘটিকায় জিম থেকে বাসায় ফিরে বাসার ভিতর রান্না ঘরের মেঝেতে তার ছোট বোন মোসাঃ ফাতেমা আক্তার নীলি (১৮)’কে রক্তাক্ত গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং খিলগাঁও থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পিতা মোঃ সজিব (৫৩) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন সাংবাদিকদের জানান সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, হোটেল কর্মচারী মোঃ মিলন মল্লিক ঘটনার দিন ১. ৩৬ ঘটিকায় বাসায় প্রবেশ করে এবং খাবার নিয়ে ১.৪১ ঘটিকায় ভিকটিমের বোন শোভার সাথে একত্রে বাসা হতে বের হয়। ভিকটিমের বোন শোভা ১৩.৪২ ঘটিকা হতে ১৫.৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত জিমে অবস্থানকালীন সময়ে ধৃত আসামি মোঃ মিলন মল্লিক পুনরায় দুপুর ১৪.২৫ ঘটিকায় ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করে এবং ১৪.৪৫ ঘটিকায় বাসা হতে বের হয়ে যায়।
গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়, র্যাব সন্দিগ্ধ পলাতক আসামি হোটেল কর্মচারী মোঃ মিলন মল্লিক (২৮) এর অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন বড় সিংগা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিক’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মিলন মল্লিক (২৮) জানায় যে, ভিকটিমের পিতা মোঃ সজিবের হোটেল কর্মচারী হিসেবে তার বিভিন্ন সময়ে হোটেলের কাজে ভিকটিমের বাসায় আসা যাওয়া ছিল। গত ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের বাবা মা ও ছোট ভাইসহ জমি সংক্রান্ত কাজে হবিগঞ্জে যায় এবং হোটেলে কর্মরত অন্য ০৩ জন কর্মচারীও ছুটিতে গমন করেন। ছুটিতে না যাওয়া হোটেলের একমাত্র কর্মচারী হিসেবে সে ভিকটিমের বাসা হতে খাবার আনা নেওয়া করত।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে মিলন ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। ঘটনার পূর্বের রাতে আসামি ভিকটিমের বাসায় খাবার আনতে যায় এবং ভিকটিমকে পূনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম আসামির প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তাকে গালি গালাজ করে। আসামি ভিকটিমের গালিগালাজে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দিন ভিকটিমের বড়বোন জিমের উদ্দেশ্য বের হয়ে গেলে, আসামি পূর্ব থেকে সংগৃহীত নাইলনের দড়িসহ ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমকে পূনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।
তিনি আরো বলেন, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিকটিমের গলায় রশি দিয়ে পেচিয়ে ধরলে ভিকটিম মাটিতে পরে গেলে আসামি রান্না ঘরের বটি দিয়ে ভিকটিমকে গলাকেটে হত্যা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মিলন মল্লিক এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পিছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
ডিএস






















