০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে যৌথবাহিনীর মহড়া

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সেনা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার এর সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর ব্যাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মহড়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র দখল বা সন্ত্রাসী হামলার মতো কাল্পনিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথবাহিনীর প্রস্তুতি পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচনের দিন সম্ভাব্য কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাসী হামলা বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে যৌথবাহিনী কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে তা মোকাবিলা করবে, তা অনুশীলন করা। সীতাকুণ্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে একটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এই মহড়া ছিল মূলত একটি পরিস্থিতিনির্ভর অনুশীলন। কাল্পনিক দৃশ্যপটে দেখানো হয়, একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মিছিল করে ভোটকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত ভোটারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটাররা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ জনগণের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করলে, পেট্রোলরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উচ্ছৃঙ্খলদের নিষ্ক্রিয় করেন। এরপর অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, বিজিবি, ‌র‍্যাব ও আনসার’র সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

এই মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া, পেশাদারিত্ব এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযানের সক্ষমতা আরও দৃঢ় হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি যেমন কেন্দ্র দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখা।

নিরাপত্তা মহড়া পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।

সীতাকুণ্ড সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মেজর ফাহিম জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরণের মহড়া তাদের মনে সাহসের সঞ্চার করছে। তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচন গতবারের চেয়েও বেশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে।

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনীর এ ধরনের প্রস্তুতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি চট্টগ্রাম এরিয়া পরিদর্শন করে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে টহল ও যৌথ অভিযানও বাড়ানো হয়েছে, যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এই মহড়া সেনাবাহিনীর নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তুতির একটি উদাহরণ, যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহড়ায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার এর সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এতে অংশ নেন।

ডিএস,.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে যৌথবাহিনীর মহড়া

প্রকাশিত : ০৫:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সেনা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার এর সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর ব্যাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মহড়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র দখল বা সন্ত্রাসী হামলার মতো কাল্পনিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথবাহিনীর প্রস্তুতি পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল, নির্বাচনের দিন সম্ভাব্য কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাসী হামলা বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে যৌথবাহিনী কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে তা মোকাবিলা করবে, তা অনুশীলন করা। সীতাকুণ্ডকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে একটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এই মহড়া ছিল মূলত একটি পরিস্থিতিনির্ভর অনুশীলন। কাল্পনিক দৃশ্যপটে দেখানো হয়, একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মিছিল করে ভোটকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত ভোটারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটাররা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ জনগণের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করলে, পেট্রোলরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উচ্ছৃঙ্খলদের নিষ্ক্রিয় করেন। এরপর অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ, বিজিবি, ‌র‍্যাব ও আনসার’র সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

এই মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া, পেশাদারিত্ব এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযানের সক্ষমতা আরও দৃঢ় হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি যেমন কেন্দ্র দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখা।

নিরাপত্তা মহড়া পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।

সীতাকুণ্ড সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মেজর ফাহিম জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরণের মহড়া তাদের মনে সাহসের সঞ্চার করছে। তারা আশা করছেন, এবারের নির্বাচন গতবারের চেয়েও বেশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে।

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনীর এ ধরনের প্রস্তুতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি চট্টগ্রাম এরিয়া পরিদর্শন করে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে টহল ও যৌথ অভিযানও বাড়ানো হয়েছে, যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এই মহড়া সেনাবাহিনীর নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তুতির একটি উদাহরণ, যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহড়ায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার এর সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এতে অংশ নেন।

ডিএস,.