০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেড় যুগ পর বিপুল ভোটে বাচ্চু মোল্লার প্রত্যাবর্তন, জয়ের পর শান্তির বার্তা

ছবি: রেজ আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে দীর্ঘ দেড় যুগ পর আবারও বিজয়ের হাসি ফুটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির। বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

দৌলতপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই আসনটি বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসানুল হক মোল্লা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করে টানা তিনবার আসনটি ধরে রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে দৌলতপুরে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হয়। ২০০৩ সালে তাঁর মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে তাঁরই ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া ছিল।

এবারের নির্বাচনে ১৩৫টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮১২ ভোট। প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি।

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একমাত্র কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শুক্রবার সকাল থেকেই তারাগুনিয়াস্থ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের বাসভবনে সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত হন তিনি।

বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দৌলতপুর উপজেলার মানুষ আমাকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছে। আমি শুধু বিএনপির সংসদ সদস্য নই, আমি দৌলতপুরের সব মানুষের সংসদ সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন কোনো ধরনের সহিংসতা, গ্যাঞ্জাম বা ফ্যাসাদ বরদাশত করা হবে না। কেউ এমন কাজে জড়িত হলে দলীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়ে রেজা আহমেদের পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর ছেলে শিশির মোল্লা এক ভিডিও বার্তায় দৌলতপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই বিজয় জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যেন বিরোধী মতের মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচারের চিন্তা না করে। বিরোধী দল করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার বিরুদ্ধে কারও মত থাকতে পারে, তাই বলে তাদের ওপর অত্যাচার করা যাবে না। আমাকে খারাপ বানাবেন না; আমরা সবাই দৌলতপুরের মানুষ, উন্নয়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।
শিশির মোল্লার এই সময়োপযোগী বক্তব্যে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা। দীর্ঘ বিরতির পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি নতুন করে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের প্রমাণ দিয়েছে। তবে এই বিজয় ধরে রাখতে হলে দলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বিজয় শুধু একটি রাজনৈতিক ফলাফল নয়; এটি দৌলতপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, নতুন প্রত্যাশা এবং সহনশীল রাজনীতির এক নতুন বার্তার সূচনা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পোশাকে বাসন্তী ছোয়া, আছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলাবন্ধন

দেড় যুগ পর বিপুল ভোটে বাচ্চু মোল্লার প্রত্যাবর্তন, জয়ের পর শান্তির বার্তা

প্রকাশিত : ০৩:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে দীর্ঘ দেড় যুগ পর আবারও বিজয়ের হাসি ফুটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির। বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

দৌলতপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই আসনটি বরাবরই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসানুল হক মোল্লা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করে টানা তিনবার আসনটি ধরে রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে দৌলতপুরে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হয়। ২০০৩ সালে তাঁর মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে তাঁরই ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া ছিল।

এবারের নির্বাচনে ১৩৫টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮১২ ভোট। প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি।

কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একমাত্র কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ায় স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শুক্রবার সকাল থেকেই তারাগুনিয়াস্থ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের বাসভবনে সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত হন তিনি।

বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দৌলতপুর উপজেলার মানুষ আমাকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছে। আমি শুধু বিএনপির সংসদ সদস্য নই, আমি দৌলতপুরের সব মানুষের সংসদ সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন কোনো ধরনের সহিংসতা, গ্যাঞ্জাম বা ফ্যাসাদ বরদাশত করা হবে না। কেউ এমন কাজে জড়িত হলে দলীয়ভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়ে রেজা আহমেদের পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর ছেলে শিশির মোল্লা এক ভিডিও বার্তায় দৌলতপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই বিজয় জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যেন বিরোধী মতের মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচারের চিন্তা না করে। বিরোধী দল করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার বিরুদ্ধে কারও মত থাকতে পারে, তাই বলে তাদের ওপর অত্যাচার করা যাবে না। আমাকে খারাপ বানাবেন না; আমরা সবাই দৌলতপুরের মানুষ, উন্নয়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।
শিশির মোল্লার এই সময়োপযোগী বক্তব্যে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৌলতপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা। দীর্ঘ বিরতির পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি নতুন করে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের প্রমাণ দিয়েছে। তবে এই বিজয় ধরে রাখতে হলে দলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার বিজয় শুধু একটি রাজনৈতিক ফলাফল নয়; এটি দৌলতপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, নতুন প্রত্যাশা এবং সহনশীল রাজনীতির এক নতুন বার্তার সূচনা।

ডিএস./