১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বেড়া–সুজানগর আসনে ‘ভূমিধ্বস’ জয়: রাজনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জে এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব

আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পাবনা-২ (বেড়া ও সুজানগর) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছেন। বেসরকারি ফল অনুযায়ী তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।

এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে সরাসরি বিএনপি-জামায়াত শক্তির লড়াইয়ে রূপ দেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বেড়া ও সুজানগর অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক উপস্থিতি, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় প্রচারণা তাঁর বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুইটিতে বিএনপির জয় পাওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাঁর ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেক বাস্তবতা এই অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহাসিকভাবে তীব্র, এবং ভোটের বড় ব্যবধান ভবিষ্যতে প্রত্যাশার চাপ বাড়াবে। স্থানীয় উন্নয়ন, নদীভাঙন, কৃষি অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সমন্বয় এই চারটি ইস্যুতে দ্রুত ফল দেখাতে না পারলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেও সময় লাগবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা মূলত দলীয় সংগঠন ও মাঠভিত্তিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। জাতীয় পর্যায়ে দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক যোগাযোগ ধরে রাখার কৌশল তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে।

সব মিলিয়ে, বেড়া–সুজানগর আসনে এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়; এটি স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, দলীয় সংগঠন এবং ভোটার প্রত্যাশার এক জটিল সমীকরণের প্রতিফলন যার প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এখন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

তারেক রহমানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বেড়া–সুজানগর আসনে ‘ভূমিধ্বস’ জয়: রাজনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জে এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব

প্রকাশিত : ১১:৫০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পাবনা-২ (বেড়া ও সুজানগর) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছেন। বেসরকারি ফল অনুযায়ী তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।

এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে সরাসরি বিএনপি-জামায়াত শক্তির লড়াইয়ে রূপ দেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বেড়া ও সুজানগর অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক উপস্থিতি, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় প্রচারণা তাঁর বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুইটিতে বিএনপির জয় পাওয়া বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাঁর ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেক বাস্তবতা এই অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহাসিকভাবে তীব্র, এবং ভোটের বড় ব্যবধান ভবিষ্যতে প্রত্যাশার চাপ বাড়াবে। স্থানীয় উন্নয়ন, নদীভাঙন, কৃষি অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সমন্বয় এই চারটি ইস্যুতে দ্রুত ফল দেখাতে না পারলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেও সময় লাগবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা মূলত দলীয় সংগঠন ও মাঠভিত্তিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। জাতীয় পর্যায়ে দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক যোগাযোগ ধরে রাখার কৌশল তাঁকে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে।

সব মিলিয়ে, বেড়া–সুজানগর আসনে এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়; এটি স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, দলীয় সংগঠন এবং ভোটার প্রত্যাশার এক জটিল সমীকরণের প্রতিফলন যার প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে এখন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে।

ডিএস./