০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে খাসির আড়ালে কুকুরের মাংস, কসাই পলাতক

নওগাঁর ধামইরহাটে খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজার সংলগ্ন তেতুলতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত কসাই ও তার সহযোগী পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়ী বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা এনতাজুল কসাই ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। তারা সাধারণত নিজ বাড়িতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে দোকানে এনে বিক্রি করতেন।

রবিবার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার ঘটনা প্রতিবেশীদের নজরে আসে। সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্তরা দোকানে রাখা মাংস ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। মুহূর্তেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ধামইরহাট থানার এসআই আবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাংসগুলো জব্দ করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান মিজানুর রহমান মিন্টু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে উদ্ধারকৃত মাংস খাসির নয়, বরং কুকুরের।

জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এন্তাজুল ও দুলু মৌলভী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত মাংসগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হচ্ছে।”

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সচেতন মহল বলছেন, ভেজাল ও প্রতারণামূলকভাবে খাদ্য বিক্রি করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি অভিযানের অগ্রগতি এবং মামলার কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয়রা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

নওগাঁর ধামইরহাটে খাসির আড়ালে কুকুরের মাংস, কসাই পলাতক

প্রকাশিত : ১২:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাটে খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজার সংলগ্ন তেতুলতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত কসাই ও তার সহযোগী পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়ী বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা এনতাজুল কসাই ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। তারা সাধারণত নিজ বাড়িতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে দোকানে এনে বিক্রি করতেন।

রবিবার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার ঘটনা প্রতিবেশীদের নজরে আসে। সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানান। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্তরা দোকানে রাখা মাংস ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। মুহূর্তেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ধামইরহাট থানার এসআই আবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাংসগুলো জব্দ করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান মিজানুর রহমান মিন্টু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে উদ্ধারকৃত মাংস খাসির নয়, বরং কুকুরের।

জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এন্তাজুল ও দুলু মৌলভী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত মাংসগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হচ্ছে।”

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সচেতন মহল বলছেন, ভেজাল ও প্রতারণামূলকভাবে খাদ্য বিক্রি করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং ভোক্তাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি অভিযানের অগ্রগতি এবং মামলার কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয়রা।

ডিএস./