ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জমে ওঠা রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন ভরাডুবির মুখে পড়ে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন শুরুর আগে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মোট আটজন। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকেন অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও মো. গিয়াস উদ্দিন। এতে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ধানের শীষ প্রতীকে আজহারুল ইসলাম মান্নান পান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া দাড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট।
অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম (ঘোড়া) পান মাত্র ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট এবং মো. গিয়াস উদ্দিন (ফুটবল) পান ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট। নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এছাড়া আরও সাতজন প্রার্থী একই পরিণতির মুখে পড়েছেন।উল্লেখযোগ্য যে, অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম অতীতে বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর মো. গিয়াস উদ্দিন ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে একবার এমপি হন। এবারের নির্বাচনে তিনি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিএস./





















