লালমনিরহাট সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ মারামারির ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে হারাটি ইউনিয়নের কিশামত চোঙ্গাডারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে সদর থানায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রতিপক্ষের আঘাতে আহতরা হলেন, কৃষক আসাদুল হাবিব (৪২), তার বাবা জহির উদ্দিন (৬৫), ছোট ভাই মাইদুল (৩২), সাইদুল (৩৫) ও জাহেদুল (২৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কিশামত চোঙ্গাডারা গ্রামে কৃষক আসাদুল হাবিব নিজ নামীও তফশিল বর্নিত সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবত চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মকছুদার রহমান ও আব্দুর রহমান ওরফে মহুবর গংরা কৃষক আসাদুল হাবিবের ভোগ দখলি জমি বিভিন্ন সময় জবর দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হন। এমতাবস্থায় (১৫ ফেব্রুয়ারি) চোংগাদ্বারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বের মোড়ে আসাদুল হাবিব তার ছোট ভাইরা বোরো ধান ক্ষেতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য জমিতে গেলে তাদের পার্শ্ববর্তী আবাদি তামাক গাছ উপরে ফেলে প্রায় চার লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
এতে বাঁধা দিতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মকছুদার রহমান ও আব্দুর রহমান ওরফে মহুবর গংরা হাতে লোহার রড, বাঁশের লাঠি, ধারালো বেকি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কৃষক আসাদুল হাবিব, তার বাবা জহির উদ্দিন, ছোট ভাই মাইদুল, সাইদুল ও জাহেদুলের মাথা, হাত, পা, আঙ্গুলে আঘাত করে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। যার বেড নং-৪০, ১২সি, ৪৭, ০৬ ও ৪১, তাং ১৫/০২/২৬।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আসাদুল হাবিব বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ মকছুদার রহমান (৫০) ও আব্দুর রহমান ওরফে মহুবর (৪২) সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আসাদুল হাবিব বলেন, এরআগে গত ২১ জানুয়ারী রাতে আমার জমির উঠতি বয়সের তামাক ক্ষেত সন্ত্রাসী কায়দায় উপড়ে ফেলে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এদিকে আবারো ২৮ জানুয়ারি ওই জমিতে বোরো ধানের চারা লাগাতে হালচাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা বাঁধা দেন এবং ৭ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবী করেন। দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মকছুদার রহমান ও আব্দুর রহমান ওরফে মহুবর গংরা পাঁচজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম সৃষ্টি করেন। আমি আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।
এবিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আঃ মতিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ডিএস./.



















