বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রেলওয়ে স্টোরস সংগ্রাম পরিষদ। একইসঙ্গে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (Chief Controller of Stores CCS) দপ্তর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
৫ এপ্রিল ২০২৬, রোববার সকাল ১১ ঘটিকায় সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা সরঞ্জাম বিভাগের মাধ্যমে পূর্বের ন্যায় মালামাল ক্রয়, সংগ্রহ, মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম চালুর জোর দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে এই বিভাগকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে,
যা রেলওয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মানববন্ধনে সংগঠনের মুখপাত্র কামাল বলেন, সরঞ্জাম বিভাগের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে হলে এই বিভাগের প্রধান পদে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “যেহেতু সরঞ্জাম বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে পদায়ন করা হয় না, সেহেতু এই বিভাগেও বাইরের কাউকে পদায়ন করা যুক্তিযুক্ত নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরঞ্জাম বিভাগের বাইরে থেকে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় কার্যক্রমে স্থবিরতা ও অদক্ষতা তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরঞ্জাম বিভাগ ব্যতীত অন্য কোনো বিভাগ থেকে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) পদে পদায়ন বন্ধ করতে হবে এবং বিভাগটির দপ্তর ঢাকায় স্থানান্তরের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তাদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
মানববন্ধনে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দ্রুত পদোন্নতির দাবিও জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মচারীরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
মুখপাত্র কামাল আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগ পাওয়া বেলাল হোসেন সরকারকে সম্প্রতি ওএসডি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সরঞ্জাম বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন স্টোরস সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোঃ আমিরুজ্জামান। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য মোঃ জিয়াউর রহমান, মোঃ লোকমান হাকিম, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় সরঞ্জাম বিভাগের সর্বস্তরের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল রেলওয়ের প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের দাবি, পূর্বে সরঞ্জাম বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ৮০ শতাংশ কাঁচামাল ক্রয় করা হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে আনা হয়েছে, যা রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।
এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের শতবর্ষী ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (CCS) দপ্তর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এটি কোনো প্রশাসনিক প্রয়োজন নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ স্বার্থান্বেষী চক্রের পুনরুজ্জীবিত অপচেষ্টা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স অ্যান্ড এক্সেসরিজ সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে উল্লেখ করে, অতীতের একটি প্রভাবশালী মহল যার মধ্যে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও কিছু সুযোগসন্ধানী কর্মকর্তা ছিলেন—এর আগেও এই দপ্তর ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বর্তমান উদ্যোগ সেই পুরনো নকশারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন তারা।
বক্তারা বলেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে রেলওয়ের ক্রয়, সরবরাহ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, সরঞ্জাম বিভাগের পূর্বের কাঠামো পুনর্বহাল এবং ডিজেল লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগনের প্রয়োজনীয় মালামাল সরঞ্জাম বিভাগের মাধ্যমে মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্টোরস সংগ্রাম পরিষদের নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ডিএস./



















