মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা এলাকায় অবস্থিত জে এম আই ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে অকটেন তেলের জন্য হাহাকার লক্ষ্য করা যায়।
সেখানে উপস্থিত মোটরসাইকেল চালকরা জানান, গজারিয়া উপজেলায় আরও ৭-৮টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে নিয়মিত তেল বিক্রি করা হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে সবাইকে আনারপুরা জে এম আই ফিলিং স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক সোলাইমান ও নুরুল আমিন বলেন, গজারিয়ায় এতগুলো ফিলিং স্টেশন থাকলেও কোথাও তেল পাওয়া যায় না। জে এম আই ফিলিং স্টেশন থাকায় আমরা অন্তত কিছুটা তেল পাচ্ছি। এখানে একদিন পরপর প্রায় ৫০০ টাকার অকটেন তেল দেওয়া হয়, যা দিয়ে কোনোভাবে চলতে হচ্ছে।
এক ট্রাক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে মাত্র এক হাজার টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার চলা যায়। এরপর আবার তেল নিতে হবে। এভাবে গাড়ি চালানো খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে কয়েকদিন আগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। তেল মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ বা সীমিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই জ্বালানি বিক্রি করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে বলেও তিনি জানান।
জে এম আই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, গজারিয়া উপজেলার মধ্যে আমরা যতটুকু অকটেন তেল পাচ্ছি, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের দিচ্ছি। আমরা ট্যাগ অফিসারকেও বিষয়টি নিয়মিত অবহিত করছি।
ডিএস./



















