০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে দেশটিকে। তবে এসব আলোচনার মাঝেই পারমাণবিক ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ জারি করেছেন, প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।

মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুটি ইরানি সূত্র।

তারা জানিয়েছেন, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই খামেনির নির্দেশে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনও তীব্র। ইরানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও দাবি করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।

অন্যদিকে ইসরায়েলও স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ছাড়া যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

আইএইএ-র অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কী পরিমাণ টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে বলেছিলেন যে, ওই মজুদের যা অবশিষ্ট ছিল তা ‘প্রধানত’ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত আছে এবং তার সংস্থা বিশ্বাস করে যে সেখানে ২০০ কেজির কিছু বেশি পরিমাণ রয়েছে।

আইএইএ আরও বিশ্বাস করে যে এর কিছু অংশ নাতাঞ্জের সুবিশাল পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও রয়েছে, যেখানে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ছিল।

ডিএস./

জনপ্রিয়

হরিণের মাংসসহ একজন মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

প্রকাশিত : ০১:২১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে দেশটিকে। তবে এসব আলোচনার মাঝেই পারমাণবিক ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ জারি করেছেন, প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।

মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুটি ইরানি সূত্র।

তারা জানিয়েছেন, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই খামেনির নির্দেশে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনও তীব্র। ইরানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও দাবি করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।

অন্যদিকে ইসরায়েলও স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ছাড়া যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

আইএইএ-র অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কী পরিমাণ টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে বলেছিলেন যে, ওই মজুদের যা অবশিষ্ট ছিল তা ‘প্রধানত’ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত আছে এবং তার সংস্থা বিশ্বাস করে যে সেখানে ২০০ কেজির কিছু বেশি পরিমাণ রয়েছে।

আইএইএ আরও বিশ্বাস করে যে এর কিছু অংশ নাতাঞ্জের সুবিশাল পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও রয়েছে, যেখানে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ছিল।

ডিএস./