০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিনে জগতের ‘টাইম ট্রাভেলার’ সালমান শাহ শুভ জন্মদিন

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 7

বাংলা চলচ্চিত্রের সেই রূপকথার রাজপুত্র, যিনি এসেছিলেন রুপালি পর্দার এক অমর কাব্যগ্রন্থের মতো। এক ঝলমলে ক্যারিয়ারে ডানা মেলে আমাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে পোশাকের আধুনিকতায় মেতে উঠতে হয়। রুপালি পর্দার সেই চিরযৌবনা চঞ্চল তরুণ আজ হয়তো আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু এ দেশের প্রতিটি সিনেমা প্রেমী মানুষের নিঃশ্বাসে, অনুভুতিতে আর ভালোবাসার প্রথম উপাখ্যানে তিনি আজও বেঁচে আছেন স্বমহিমায়।”তিনি, ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নিয়েছিলেন ঢাকাই সিনেমার এই রাজপুত্র। ১৯৮৫ সালে বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হলেও ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় রাজকীয় অভিষেক ঘটে তার।

প্রথম সিনেমাতেই মৌসুমীর বিপরীতে তার অভিনয় দর্শকদের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মাত্র তিন-চার বছরের অল্প সময়ে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সালমান; যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসাসফল ছবি।

‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো জনপ্রিয় সব সিনেমা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নব্বইয়ের দশকের শ্রেষ্ঠ নায়ক হিসেবে।

তবে শুধু অভিনয় দিয়েই নয়। সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, সালমান শাহ ছিলেন বিনোদন জগতের এক অনন্য ‘টাইম ট্রাভেলার’। বর্তমান যুগের তারকাদের পোশাক-আশাক, চুলের কাটিং কিংবা ব্যক্তিত্বের যে আধুনিক আবহ আজ দেখা যায়, তা তিনি সৃষ্টি করেছিলেন আরও তিন দশক আগে। মাথায় রঙিন ব্যান্ডানা, চোখে সানগ্লাস, আকর্ষণীয় হেয়ারস্টাইল আর বাইক হাঁকিয়ে তার স্ক্রিনে উপস্থিতি তরুণ সমাজকে মুগ্ধ করত। তার ফ্যাশন ও সাজসজ্জায় যে অগ্রগামী আধুনিকতার ছোঁয়া মিলেছিল, তা পরবর্তী সময়ে এমনকি বলিউডের বড় বড় তারকার মধ্যেও দেখতে পাওয়া যায়। তিনি যেন ভবিষ্যৎ সময়ের ফ্যাশনকে নব্বইয়ের দশকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে ঢালিউডে নিয়ে এসেছিলেন— এটা এখনও মনে ধারণ করেন এবং বিশ্বাস করেন তার ভক্তরা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে এক রহস্যময় অকাল প্রয়াণে থমকে যায় এক সম্ভাবনাময় নক্ষত্র। কিন্তু এই প্রস্থান যেন তার দ্যুতিকে মলিন করতে পারেনি। জাঁকজমকপূর্ণ তারকাখ্যাতির ভেতরেও নিজের সাদামাটা স্বভাব, মায়াবী রূপ আর প্রাণবন্ত হাসি দিয়ে কোটি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

সালমান শাহের পর চলচ্চিত্রে আসা প্রায় সব তরুণ নায়কই তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা ও আদর্শ হিসেবে মানেন।

ডিএস./

জনপ্রিয়

সিনে জগতের ‘টাইম ট্রাভেলার’ সালমান শাহ শুভ জন্মদিন

প্রকাশিত : ১১:১০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের সেই রূপকথার রাজপুত্র, যিনি এসেছিলেন রুপালি পর্দার এক অমর কাব্যগ্রন্থের মতো। এক ঝলমলে ক্যারিয়ারে ডানা মেলে আমাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে পোশাকের আধুনিকতায় মেতে উঠতে হয়। রুপালি পর্দার সেই চিরযৌবনা চঞ্চল তরুণ আজ হয়তো আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু এ দেশের প্রতিটি সিনেমা প্রেমী মানুষের নিঃশ্বাসে, অনুভুতিতে আর ভালোবাসার প্রথম উপাখ্যানে তিনি আজও বেঁচে আছেন স্বমহিমায়।”তিনি, ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নিয়েছিলেন ঢাকাই সিনেমার এই রাজপুত্র। ১৯৮৫ সালে বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হলেও ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় রাজকীয় অভিষেক ঘটে তার।

প্রথম সিনেমাতেই মৌসুমীর বিপরীতে তার অভিনয় দর্শকদের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মাত্র তিন-চার বছরের অল্প সময়ে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সালমান; যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসাসফল ছবি।

‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো জনপ্রিয় সব সিনেমা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নব্বইয়ের দশকের শ্রেষ্ঠ নায়ক হিসেবে।

তবে শুধু অভিনয় দিয়েই নয়। সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, সালমান শাহ ছিলেন বিনোদন জগতের এক অনন্য ‘টাইম ট্রাভেলার’। বর্তমান যুগের তারকাদের পোশাক-আশাক, চুলের কাটিং কিংবা ব্যক্তিত্বের যে আধুনিক আবহ আজ দেখা যায়, তা তিনি সৃষ্টি করেছিলেন আরও তিন দশক আগে। মাথায় রঙিন ব্যান্ডানা, চোখে সানগ্লাস, আকর্ষণীয় হেয়ারস্টাইল আর বাইক হাঁকিয়ে তার স্ক্রিনে উপস্থিতি তরুণ সমাজকে মুগ্ধ করত। তার ফ্যাশন ও সাজসজ্জায় যে অগ্রগামী আধুনিকতার ছোঁয়া মিলেছিল, তা পরবর্তী সময়ে এমনকি বলিউডের বড় বড় তারকার মধ্যেও দেখতে পাওয়া যায়। তিনি যেন ভবিষ্যৎ সময়ের ফ্যাশনকে নব্বইয়ের দশকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে ঢালিউডে নিয়ে এসেছিলেন— এটা এখনও মনে ধারণ করেন এবং বিশ্বাস করেন তার ভক্তরা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে এক রহস্যময় অকাল প্রয়াণে থমকে যায় এক সম্ভাবনাময় নক্ষত্র। কিন্তু এই প্রস্থান যেন তার দ্যুতিকে মলিন করতে পারেনি। জাঁকজমকপূর্ণ তারকাখ্যাতির ভেতরেও নিজের সাদামাটা স্বভাব, মায়াবী রূপ আর প্রাণবন্ত হাসি দিয়ে কোটি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

সালমান শাহের পর চলচ্চিত্রে আসা প্রায় সব তরুণ নায়কই তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা ও আদর্শ হিসেবে মানেন।

ডিএস./