০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানির মৃত্যু

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০১:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 3

পবিত্র মসজিদুল হারামের সুপরিচিত মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি আর নেই।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফজরের সময় মক্কা নগরীতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। হারামাইন শরীফাইনের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শায়খ ইবরাহিম মাদানি পবিত্র মসজিদুল হারামের ‘মুকাব্বিরিয়া’র অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন। এই মুকাব্বিরিয়ার মুয়াজ্জিনরা আজান দেওয়ার পাশাপাশি ইমামের তাকবির লাখ লাখ মুসল্লির কাছে সুরের মূর্ছনায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

পবিত্র মসজিদুল হারামে মোট ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান এবং ফজরের প্রথম আজান দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন। শায়খ ইবরাহিম মাদানি বিশেষভাবে ফজরের আজান ও তাকবির দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন।

জানা যায়, মসজিদুল হারামে তার সর্বশেষ আজান ছিল গত ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরসহ তার কণ্ঠের বিভিন্ন রেকর্ডও রয়েছে।

১৩৯৭ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করা শায়খ ইবরাহিম পারিবারিকভাবেই পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি মসজিদে আজান দেওয়ার মাধ্যমে তার মুয়াজ্জিন জীবনের সূচনা হয়। পরে ১৪২৮ হিজরিতে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে এবং ১৪৩৯ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা প্রাঙ্গণের প্রধান মসজিদ মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে তিনি নিয়োগ পান।

মদিনায় বেড়ে ওঠায় শায়খ ইবরাহিম আজানের ‘মাদানি’ রীতির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে মক্কায় গিয়ে বিখ্যাত মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুল লতিফ মুল্লার সান্নিধ্য পেয়ে ‘মক্কি’ ধারার স্বকীয় সুরও রপ্ত করেন তিনি। মক্কি ও মাদানি উভয় সুরের অসাধারণ মেলবন্ধনে গাওয়া তার আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরের অসংখ্য রেকর্ড বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডিএস./

জনপ্রিয়

মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানির মৃত্যু

প্রকাশিত : ০১:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র মসজিদুল হারামের সুপরিচিত মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি আর নেই।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফজরের সময় মক্কা নগরীতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। হারামাইন শরীফাইনের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শায়খ ইবরাহিম মাদানি পবিত্র মসজিদুল হারামের ‘মুকাব্বিরিয়া’র অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন। এই মুকাব্বিরিয়ার মুয়াজ্জিনরা আজান দেওয়ার পাশাপাশি ইমামের তাকবির লাখ লাখ মুসল্লির কাছে সুরের মূর্ছনায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

পবিত্র মসজিদুল হারামে মোট ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান এবং ফজরের প্রথম আজান দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন। শায়খ ইবরাহিম মাদানি বিশেষভাবে ফজরের আজান ও তাকবির দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন।

জানা যায়, মসজিদুল হারামে তার সর্বশেষ আজান ছিল গত ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরসহ তার কণ্ঠের বিভিন্ন রেকর্ডও রয়েছে।

১৩৯৭ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করা শায়খ ইবরাহিম পারিবারিকভাবেই পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি মসজিদে আজান দেওয়ার মাধ্যমে তার মুয়াজ্জিন জীবনের সূচনা হয়। পরে ১৪২৮ হিজরিতে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে এবং ১৪৩৯ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা প্রাঙ্গণের প্রধান মসজিদ মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে তিনি নিয়োগ পান।

মদিনায় বেড়ে ওঠায় শায়খ ইবরাহিম আজানের ‘মাদানি’ রীতির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে মক্কায় গিয়ে বিখ্যাত মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুল লতিফ মুল্লার সান্নিধ্য পেয়ে ‘মক্কি’ ধারার স্বকীয় সুরও রপ্ত করেন তিনি। মক্কি ও মাদানি উভয় সুরের অসাধারণ মেলবন্ধনে গাওয়া তার আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরের অসংখ্য রেকর্ড বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডিএস./